• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

ধান-চাল সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

দুদক গোয়েন্দা ইউনিটের প্রতিবেদন

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২০

দেশের প্রান্তিক কৃষক থেকে ন্যায্য মূল্যে সরকারের ধান চাল সংগ্রহ কর্মসূচিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। ধান-চাল সংগ্রহের নামে কৃষকদের ঠকানো, ঘুষ লেনদেন, ন্যায্য মূল্য না দিয়ে কমমূল্যে ধান চাল সংগ্রহ করে সরকারি খরচে তা বেশিমূল্য দেখানোসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পেতে শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুদকের কাছে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অভিযোগের পাহাড় জমা পড়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিট এ বিষয়ে নানা তথ্য-উপাক্ত সংগ্রহ করেছে। কোথায় কিভাবে দুর্নীতি ও অনীয়ম হয়েছে এবং এসব অনীয়মের সঙ্গে কারা কিভাবে জড়িত এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিয়েছে দুদকের গোয়েন্দা ইউনিট।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিট, সমন্বিত জেলা কার্যালয় ও বিভাগীয় কার্যালয়সমূহের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এক বিশেষ জরুরি বার্তায় বলেন, ‘সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচিতে দুদকের কর্মকর্তাদের এলাকাভিত্তিক নিবিড় নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। কোন অবস্থাতেই ধান-চাল সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন কোন প্রকার ঘুষ-দুর্নীতির সুযোগ না পায়। কথিত প্রভাবশালীদের চাপে কৃষক নয় এমন মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের সুযোগও দেয়া হবে না। তিনি দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আরও বলেন, ?‘আপনারা এ জাতীয় অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ টিম গঠন করে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে আইনি ব্যবস্থা নিবেন।

দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সরকার কর্তৃক প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করে মজুদ করার ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জেলা পর্যায়ে ধান চাল সংগ্রহের কাজ শুরু করে। এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন মহলের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট হয়। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও একাজে সংশ্লিষ্ট করা হয়। ধান চাল সংগ্রহের জন্য যেসব এলাকায় কাজ শুরু হয় এসব জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ পেতে শুরু করে দুদক। বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটকে দায়িত্ব দেয়া হয়। গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধান দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বাধীন টিম দেশের বিভিন্ন জেলায় এ বিষয়ে কাজ শুরু করে। প্রান্তিক কৃষকসহ এর সঙ্গে সংশ্লিস্টদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত পায় গোয়েন্দা ইউনিট। গোয়েন্দা ইউনিট মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে বেশ কিছু অনীয়ম ও দুর্নীতিকে চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি এসব অনীয়ম দুর্নীতির সঙ্গে কারা কিভাবে জড়িত তাদের চিহ্নিত করেছে।

দুদকের পরিচালক (মিডিয়া) প্রণব কুমার ভট্টচার্য জানান, সরকার কর্তৃক ধান-চাল সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনীয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিটের এক বিশেষ প্রতিবেদন দেখেছেন দুদক চেয়ারম্যান। গতকাল কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিট থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের? ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচিতে’ সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেরা লাভবান হওয়ার মানসে ঘুষ-দুর্নীতির মতো অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছাড়াও কমিশন ভার্চুয়াল মাধ্যমেও এ জাতীয় কিছু অভিযোগ পেয়েছে।