• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

জাহানারা ইমামের জন্মদিনে অনলাইনে সম্মেলন

ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান নির্মূল কমিটির

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২০

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। গত শনিবার শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনলাইন আন্তর্জাতিক সম্মেলন এ আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ‘করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় নির্মূল কমিটির চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি’ শীর্ষক দুই পর্বের এই স্কাইপ সম্মেলনে নির্মূল কমিটির কেন্দ্র এবং দেশে ও বিদেশের শাখার নেতারা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে সংগঠনের চিকিৎসা সহায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব ও চিকিৎসা সহায়ক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়াসহ নির্মূল কমিটির যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, তুরস্ক বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও ভারতীয় শাখার নেতারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে বক্তারা বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনাবিরোধী যুদ্ধ চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর একাংশের নতুন আত্মপ্রকাশের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনা যুদ্ধকালে সর্বত্র যখন সরকার ও জনগণ সব ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে এক অভূতপূর্ব লড়াইয়ে নিয়োজিত সেই সময়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ধর্ম বর্ণ জাতিসত্তাবিরোধী ঘৃণ্য বক্তব্য প্রদান করে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সব রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী-নাগরিক সংগঠন করোনা মহামারী সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়ছে তখন ’৭১-এর গণহত্যাকারী মৌলবাদী সাম্প্রাদায়িক জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা কিছু সংগঠনের নেতৃত্বের একাংশ নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশ ও এই জাতির মহা দুর্যোগকালে মানুষকে প্রতারিত করার উদ্দেশে মৌলবাদী সন্ত্রাসী জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের এ ধরনের তৎপরতার ওপর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। আরেক প্রস্তাবে করোনা মহাসংকট মোকাবিলার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসচ্ছল কর্মজীবী মানুষের জন্য যে বিশাল প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন তা প্রত্যন্ত এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা এবং এক্ষেত্রে কোন দুর্নীতি হচ্ছে কিনা তার ওপর নজরদারি এবং স্বাস্থ্যসেবা ও ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে সব রকম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনের আরেক প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে চলমান লকডাউন প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে সরকার ও প্রশাসনের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে। বিশ্বের সর্বত্র এখন পর্যন্ত এই মহামারীর বিস্তার ঘটছে। আমরা মনে করি কোনভাবে ৩১ মের আগে লকডাউন প্রত্যাহার করা উচিত হবে না। এই বিষয় জনমত তৈরির ক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।