• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

ফিরে দেখা ২০১৮

দেড় লাখ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বন্দুকযুদ্ধে নিহত শতাধিক, ৩ কোটি ৪৯ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ১,০৬,৭৩০ মামলা

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৯

মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে গত এক বছরে প্রায় দেড় লাখ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে ৩ কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ৪৩৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও হেরোইন, আফিম, গাঁজা, গাঁজা গাছ, প্যাথেডিন ইনজেকশন, কোকেন, ফেনসিডিলসহ অন্য নেশাজাতীয় মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১,০৬,৭৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মাদকের গডফাদার ও মাদক ব্যবসায়ীদের বন্দুকযুদ্ধে ১শ’র বেশি নিহত হয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়াটার্সের এক তথ্যে জানা গেছে, গত বছর জানুয়ারি মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২২ হাজার ৪৮২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ৯,৩৭,৪৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১ কোটি ৯২ লাখ ৪১ হাজার ৯০৬টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করছে। ফেনসিডিল উদ্ধার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮শ বোতল ও ৫২৮ লিটার, হেরোইন উদ্ধার ৩৪৭ কেজির বেশি, হেরোইনের পুরিয়া ২ লাখ ২৪ হাজার ৬২৭টি। গাঁজা উদ্ধার ৩৭ হাজার ৭২৩ কেজি, গাঁজার পুরিয়া ২৯৫০টি, গাঁজা গাছ ২২৮টি। এ ছাড়াও নেশাজাতীয় ইনজেকশন, নেশাজাতীয় ট্যাবলেট আছে কয়েক হাজার।

গেল বছর র‌্যাবের মাদক বিরোধী অভিযানে ৯ হাজার ৭৩৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৫ হাজার ৩৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৯৫,৩৪,৯১২টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল, নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ অন্য মাদকদ্রব্য রয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬৬৪৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে ২৮,৮৩,৭৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ৬,২৯০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইয়াবা ছাড়াও হেরোইন, গাঁজা, প্যাথেডিনসহ অন্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বিজিবি সীমান্ত এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৪১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ১২৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১২ লাখ ৯ হাজার ৯৩৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বর্ডার গার্ডের সদস্যরা অন্য মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করছে। এছাড়াও কোস্টগার্ডসহ অন্য সংস্থাগুলো বছরজুড়ে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে। কারাগার কর্তৃপক্ষ ১১,৯৩৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত পরিসংখ্যান জানা গেলেও ডিসেম্বর মাসের পরিসংখ্যান হিসাব করলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। এরপরও গত ১১ মাসের মোট হিসাব থেকে পাওয়া তথ্য মতে, মোট মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ৭৩০টি। মোট আসামি ১ লাখ ৪০ হাজার ৩২২ জন। মোট হেরোইন ৩৯০ কেজি, ২,২৭,৫৫৫ পুরিয়া গাঁজা, আফিম ৭ দশমিক ২৮ কেজি, গাঁজা ৪৭,৪৮৫ কেজির বেশি, ফেনসিডিল ৩,২৮,৬৫০ বোতল ও ৮২৮ লিটার, মোট ইয়াবা ৩ কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ৪৩৫ পিস। ডিসেম্বর মাসের পুরো হিসাব মিলিয়ে এই পরিসংখ্যান আরও অনেক বেশি হবে। অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক মাদক ব্যবসায়ী নিহত ও আহত হয়েছে। গেল বছর টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মাদকের গডফাদার ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে (বন্দুকযুদ্ধে) ১শ’র বেশি নিহত হয়েছে। তবে এই সংক্রান্ত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে কোন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ মে থেকে গতকাল পর্যন্ত শুধু র‌্যাবের অভিযান চলাকালে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে র‌্যাব সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধে ৯১ জন নিহত হয়েছে । আর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, থানা ও জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের একাধিক ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান গেল বছর জোরদার করা হয়েছে। পুলিশসহ অন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ইয়াবার রুট হিসেবে পরিচিত টেকনাফ, কক্সবাজার ও সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। সমুদ্র পথে মাদক বহন করা বন্ধ করতে সেখানে কোস্টগার্ডসহ সমুদ্র পথের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।