• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ১৪ সফর ১৪৪২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭

করোনায় দেশে 

দেড় মাসে সর্বনিম্ন ২৪ ঘণ্টায় ২১ মৃত্যু 

নতুন শনাক্ত ১৬১৫

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

image

দেশে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যু প্রতিদিন বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে করোনা আক্রান্তে দৈনিক কমবেশি ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গত চব্বিশ ঘণ্টায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনি¤œ। অথচ করোনার শুরুর দিকে দৈনিক ২ থেকে ৩ জনের মৃত্যুতে মানুষের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। মানুষ করোনা সুরক্ষাসামগ্রী নিয়মিত মেনে চলতেন। কিন্তু এখন দৈনিক কমবেশি ৩০ জনের মৃত্যু হলেও স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়ার প্রবণতা চলে এসেছে মানুষের মাঝে। আগের মতো করোনা সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করছেন না মানুষ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৮২৩ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬১৫ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্ত ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ জনে। চব্বিশ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ১ আগস্ট করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ২১ জনের আর আক্রান্ত হয় ২ হাজার ১৯৯ জন। এরপর ২ আগস্ট করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ২২ জনের আর আক্রান্ত হয় ৮৮৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৩৭৫ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৯ জন। সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯৪টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৫৮টি। আগের নমুনাসহ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬০টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৭ লাখ ৭০ হাজার ১০৬টি।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার হার ১২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭২ দশমিক ৩৬ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪১ শতাংশ। গত চব্বিশ ঘণ্টায় মৃত ২১ জনের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ ও নারী পাঁচ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে একজন করে দুইজন। এছাড়া খুলনা বিভাগে চারজন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালেই মারা গেছেন ২০ জন, বাড়িতে এক জন।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ১০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুুইজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৩১২ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৫৯৬ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৭৭ হাজার ৮০৯ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৬০ হাজার ৪৮৯ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৭ হাজার ৩২০ জন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ডা. নাসিমা করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান। তিনি জানান, আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। নিজের সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন হবেন, সতর্ক থাকবেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, সঠিক সময়ে পরিস্থিতি অনুধাবন করে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এখন আমরা সবাই মিলে এর মাসুল দিচ্ছি। করোনা নমুনা পরীক্ষা বাড়লে সংখ্যাও বাড়বে। চীনে সংক্রমণের পর যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল স্বাস্থ্য বিভাগ তা গ্রহণ করেনি।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিশ্বে মোট মৃতের সংখ্যা ৯ লাখ ৩৫ হাজার পেরিয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শুধু ভারত ও পাকিস্তানে মৃত্যুর সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। বৈশ্বিক তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে মোট মৃত্যু ৮২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, পাকিস্তানে মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজারের বেশি মানুষের।

বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ৯৫ লাখ ছাড়িয়েছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় দিক থেকে ১৫তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ২৮তম অবস্থানে।