• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, ৩ জিলহজ ১৪৩৯

দেশে এক বছরে ১১ হাজারেরও বেশি মানুষের আত্মহত্যা

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

সারাদেশে গত এক বছরে ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছে। পারিবারিক কলহ, সংসারে অশান্তিসহ নানা কারণে এসব মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উঠতি বয়সের তরুণ ও তরুণীরই বেশি মৃত্যু হয়। তারা পছন্দের কিছু না পেলে বা পারিবারিকভাবে বাধার সৃষ্টির কারণে এই পথ বেছে নিচ্ছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এক তথ্যে জানা গেছে, গত এক বছরে রাজধানীতে ফাঁস নিয়ে ৫২০ জন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনে ১৬১ জন, খুলনা মেট্রোপলিটনে ৬১ জন, রাজশাহী মেট্রোপলিটনে ৬৮ জন, বরিশাল মেট্রোপলিটনে ২৭ জন, সিলেট মেট্রোপলিটনে ৫০ জন, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ১ হাজার ৪৯৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৪৩০ জন, সিলেট বিভাগে ৭০৫ জন, খুলনা বিভাগে ৩৩৫ জন, বরিশালে ১ হাজার ৬০৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩০২ জন, রংপুর বিভাগে ৯৪৩ জন, রেলওয়ের রেঞ্জের ৮৬২ জন আত্মহত্যা করেছে। সব মিলে মেট্রোপলিটন শহর ও বিভাগগুলোতে ৭ হাজার ৫৬৯ জন ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

পারিবারিক অশান্তিসহ নানা কারণে গত এক বছরে বিষপানে ৩ হাজার ৪৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকায় ৮৫ জন, চট্টগ্রামে ৪০ জন, খুলনায় ৪৫ জন, বরিশালে ৮৭ জন, সিলেটে ৮ জন, ঢাকা বিভাগে ৪৬৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮২ জন, সিলেট বিভাগে ৪২৬ জন, খুলনা বিভাগে ৮৭ জন, বরিশাল বিভাগে ৭৮১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৫৯ জন, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৪৮৫ জন। এছাড়া রেলওয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে সারাদেশে ৩ হাজার ৪৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বিষপানে। গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে ৫৯ জন। সব মিলিয়ে গত এক বছরে মোট ১১ হাজার ৯৫ জন ফাঁস নিয়ে, বিষপানে ও গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রেললাইনের ওপর ঝাঁপ দিয়ে বা চলন্ত ট্রেনের সামনে লাফ দিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করছে অনেকেই। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

জানা গেছে, দেশে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা পরিবারে বাবা-মা ও বড় ভাইদের কাছে তাদের পছন্দের জিনিস কেনাকাটাসহ বিভিন্ন বিষয় আবদার করে। চাহিদামতো না পেলে মনের কষ্টে অনেকেই আত্মহত্যা করছে। আবার অনেকেই পরীক্ষায় ফেল করে, কেউ পছন্দের কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়ে আত্মহত্যা করছে। আবার অনেক গৃহবধূ পারিবারিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে শিশু সন্তানকে নিয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করছে। এমন বহু ঘটনা ঘটেছে। অনেক গৃহবধূ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করছে। আমাদের সমাজে এসব ঘটনা নিত্যদিন ঘটছে।

অনেক পরিবারে অভাব-অনটনের কারণে কেউ কেউ ফাঁস নিয়ে, কীটনাশক খেয়ে এবং অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করছে। পুলিশ প্রতিটি আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত করে কারণ উদ্ঘাটন করে ব্যবস্থা নেয়। পুলিশ স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে নিষ্পত্তি করছে এমন ঘটনার সংখ্যা ৫ হাজার ৯৭৯টি। আবার অনেক আত্মহত্যার বিষয় ময়নাতদন্ত করে খোঁজখবর নেয়া হয়। আবার পুলিশ বহু আত্মহত্যার তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটন করে ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলাও হয়েছে। অনেক মৃত্যুর ঘটনার আলামত রাসায়নিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। আবার বহু আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে আত্মহত্যার স্বপক্ষে তথ্য উদ্ঘাটন করেছে।