• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ ১৪৪০

দুধ-দইয়ে ব্যাকটেরিয়া সিসা নিরূপণের নির্দেশ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা রিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

image

গাভীর দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানোকে মারাত্মক দুর্নীতি বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশে গরুর দুধ, দই এবং গো-খাদ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক, সিসা রয়েছে, তা নিরূপণের জন্য একটি জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জরিপ প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৩ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এই আদেশ দেন।

আদেশ প্রদানকালে আদালত আরও বলেন, এ ধরনের ভেজালে মানুষের কিডনি, লিভার নষ্ট হচ্ছে; ক্যানসার হচ্ছে। উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত বলেন, মানুষ এখন শুধু টাকার পেছনে ঘুরছে। দেশ ও দেশের মানুষ নিয়ে কেউ ভাবছেন না। আদালত আরও বলেন, স্বাস্থ্যই যদি ঠিক না থাকে, তাহলে এত টাকা-পয়সা দিয়ে আমাদের সবার কী হবে?

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত ‘গাভীর দুধ ও দইয়ে অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক, সিসা’ শিরোনামে প্রতিবেদন নজরে আনা হলে এ বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ ও রুল জারি করেন আদালত। আদালত তার রুলে, দুধ এবং দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্যে ভেজালকারীদের আইনের আওতায় এনে কেন সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হবে না তা জানতে চান। সেই সঙ্গে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্যে ভেজাল প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি, বিএসটিআইয়ের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, খাদ্য সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব, কৃষি সচিবকে বিবাদী করে আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে তাদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মামুন মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। আদেশের পর মামুন মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, দুধ, দই, গো খাদ্যে ভেজাল মেশানো এবং তা বাজারজাত করাকে আদালত সিরিয়াস করাপশন বলেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধান, তদন্ত করে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আদেশের আগে প্রথমেই আদালত এ বিষয়ে সরকার ও দুদকের বক্তব্য জানতে চান। পরে আদালত অন্তবর্তী নির্দেশনাসহ রুল জারি করেছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে পুষ্টির অন্যতম প্রধান জোগান হিসেবে বিবেচিত গরুর দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্যে এবার মিলেছে মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদান। গত রোববার এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে সরকারের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের প্রতিবেদনে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাভীর খোলা দুধের ৯৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৯৬ শতাংশ দুধেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর অণুজীব। ১৫ শতাংশ দুধে মিলেছে মানুষের জন্য গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা। ১৩ শতাংশে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি টেট্রাসাইক্লিন, ৯ শতাংশে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও ৩ শতাংশে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি আফলাটক্সিনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া বাজারে থাকা প্যাকেটজাত দুধের ৩১টি নমুনার ৬৬ থেকে ৮০ শতাংশে বিভিন্ন অণুজীব, ৩০ শতাংশে একইভাবে মানুষের শরীরের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রার টেট্রাসাইক্লিন, একটিতে বেশি মাত্রার সিসা, কয়েকটিতে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ও এনরোফ্লোক্সাসিন পাওয়া গেছে।