• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৪ জিলহজ ১৪৪১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

ভারতে ষষ্ঠ পর্বের ভোট

দিল্লিতে ত্রিমুখী লড়াই বিজেপি কংগ্রেস ও আম আদমির

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

image

ভারতে ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের দিল্লি দখলের ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে গতকাল। নির্বাচনের ষষ্ঠ পর্বে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্যে ৭টি রাজ্যে ভোট দিয়েছেন ৫৯.৭ ভাগ ভোটার। পশ্চিমবঙ্গে দলীয় সংঘর্ষের পাশাপাশি মহিলা ভোটারদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ভরতীয় সোনবাহিনীর বিরুদ্ধে। এই পর্বের নির্বাচনে সবার নজর ছিল দিল্লির আসনগুলোয়। গতকাল এই রাজ্যের ৭টি আসনের সবগুলোয় ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল বিজেপি, কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি। ভোট দিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘জয় ভালোবাসারই হবে’।

এই পর্বেও সর্বোচ্চ ভোট পরেছে পশ্চিমবঙ্গে ৮০.১৩ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ভোট পরেছে উত্তর প্রদেশে ৫০.৮২ শতাংশ। এছাড়া বিহারে ভোট পড়েছে ৫৫.০৪, হরিয়ানায় ৬২.১২, মধ্য প্রদেশে ৬০.১২, ঝড়খন্ডে ৬৪.৪৬ ও দিল্লিতে ৫৫.৪৪ শতাংশ। দিল্লিতে ভোট দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধী, ক্রিকেটার কপিল দেব, বিরাট কোহলিসহ অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও ক্রিকেট তারকা।

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় বলরামপুরের মিশিরডি স্কুলে মহিলা ভোটারদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। ভোটের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মহিলা ভোটারদের লাঠিচার্জ করেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। এরপরই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভোটগ্রহণ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ভোটাররা। পরে ভোটারদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে জওয়ানরা ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। অন্যদিকে বিজেপির পতাকা দিয়ে জুতা মোছার অভিযোগ ঘিরে সংঘর্ষ হয়েছে উত্তর প্রদেশের শাহাগঞ্জে। জানা যায়, শাহাগঞ্জ কেন্দ্রের জুনপুরের ৩৬৯ নম্বর বুথের কাছে একটি গাছে বিজেপির পতাকা ঝোলানো ছিল। এক ব্যক্তি সেই পতাকা খুলে নিয়ে নিজের জুতা মুছতে শুরু করেন। সেটি দেখেই বিজেপি কর্মীরা ক্ষেপে যান। ওই ব্যক্তিকে ধাক্কাধাক্কি মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঘটনায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়নি বলে জানিয়েছে কমিশন। উত্তর প্রদেশের নিজের কেন্দ্র সুলতানপুরে একটি বুথের সামনে বিরোধী মহাজোটের প্রার্থী সনু সিংহর সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়েছেন মেনকা গান্ধী। সকাল থেকেই বুথে বুথে ঘুরছিলেন দুই প্রার্থী। তার মধ্যেই একটি বুথের সামনে দেখা হয়ে যায় দু’জনের। মেনকা গান্ধীর অভিযোগ, ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছিলেন সনু সিংহ ও তাঁর অনুগামীরা। দু’জন মুখোমুখি হওয়ার পর মেনকা সনুকে ডেকে বলেন, এখানে এই সব দাদাগিরি চলবে না। এ নিয়েই ওই বুথে কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর জেরে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়নি বলে কমিশন সূত্রে জানা যায়।

চলতি লোকসভা ভোট শুধু কেন্দ্রে একটা নতুন সরকার গড়ার নয়, এটা অনেক বেশি আদর্শের লড়াই। মধ্য প্রদেশের সুজলপুরে ভোট প্রচারে গিয়ে একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, এই ভোট প্রগতিশীলদের সঙ্গে দেশ বিভাজনকারী শক্তির লড়াই। এই লড়াইয়ে একদিকে কংগ্রেস ও সমমনস্ক দলগুলো, অন্যদিকে বিজেপি-আরএসএস। রাহুলের কথায়Ñ ‘আমরা সেই আদর্শটার বিরুদ্ধে লড়ছি, যারা সংবিধানের পক্ষে বিপজ্জনক।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে রাহুল বলেন, আমাদের দেশটা ভালোবাসায় ভরা। কিন্তু তিনি ঘৃণা ও বিদ্বেষে পরিপূর্ণ। আমি নানা অনুষ্ঠানে ভালোবাসা নিয়েই তার কাছে গিয়েছি। কিন্তু তিনি জবাব দেননি। আমি তার সঙ্গে শ্রদ্ধা নিয়েই কথা বলেছি। এরপরও তিনি কথাই বলেননি। তিনি বলেন, দেশ চালাতে গেলে কী কী করতে নেই, সেটি আমাকে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

ভোট শুরু হতেই বুথে বুথে ভোট দিতে পৌঁছে গিয়েছেন হেভিওয়েট নেতা-প্রার্থীরা। রাষ্ট্রপতি ভবনের বুথে ভোট দিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। ভোট দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ও। দিল্লিতে কে কামরাজ লেনের বুথে ভোট দিয়েছেন তিনি। নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার পর কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, রাফাল, নোটবন্দি, কৃষকদের সমস্যা, জিএসটিসহ একাধিক ইস্যুতে এবার ভোট হচ্ছে। ভোটপ্রচারে তার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ালেও তিনি প্রয়োগ করেছেন ভালোবাসার অস্ত্র। ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত জিতবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। দিল্লির ওল্ড রাজেন্দ্র নগরের বুথে সস্ত্রীক ভোট দিলেন পূর্ব দিল্লি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা ভারতীয় সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর। উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন ওই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা এক সময়ের বিজেপির পর্যবেক্ষক সিদ্ধার্থনাথ সিংহ। প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়কের পাশাপাশি দিল্লির গুরুগ্রামে পাইনক্রেস্ট স্কুলে ভোট দিলেন বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলি। দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমানে দিল্লি প্রদেশ কংগ্রেসের সভানেত্রী এবং উত্তর দিল্লি কেন্দ্রের প্রার্থী শীলা দিক্ষীত ভোট দিয়েছেন নিজামউদ্দিনের (পূর্ব) একটি বুথে। হরিয়ানার কর্নার বুথে ভোট দিয়েছেন ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টার। পূর্ব দিল্লি কেন্দ্রের পান্ডবনগরে ভোট দিয়েছেন দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া। এ ছাড়া ভোট দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধী, প্রকাশ কারাত, কপিল দেব, সুষমা স্বরাজ, অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ রাজনীতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টরা। ভোট দিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সুনীল অরোরাও।