• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

উপজেলা নির্বাচন

দক্ষিণাঞ্চলে মনোনয়ন নিয়ে আ’লীগে বিরোধ বাড়ছে

সংবাদ :
  • মানবেন্দ্র বটব্যাল, বরিশাল

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে বরিশাল বিভাগের উপজেলাগুলোতে ভোটগ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়লেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্রমেই জেলা কমিটি থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত ও মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে বিরোধ ক্রমশ বাড়ছে। কেন্দ্র থেকে শুধুমাত্র চেয়ারম্যান পদে সকল উপজেলার জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করার নির্দেশনা থাকলেও বরিশালে জেলা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড একক প্রার্থীর নাম কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠানোর কারণেই এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে কেন্দ্রিয় কমিটি ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলের পক্ষ থেকে কাউকে প্রতি উপজেলায় এই দুটি পদ উন্মুক্ত করে রাখলেও বরিশালে প্রতি উপজেলায় একজন করে পুরুষ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্ধারণ করে দেয়ায় বিরোধের আগুনে আরও ঘি ঢালা হয়েছে।

তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও তার সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। অপরদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদ কেন্দ্র থেকে উন্মুক্ত করার ঘোষণা করায় এবং চেয়ারম্যান পদের দাবিদার প্রার্থীকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়ায় জেলা মনোনয়ন বোর্ডের কাছে আবেদনের সঙ্গে জমা দেয়া টাকা ফেরত চেয়েছেন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৭ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবেদন করা ৪২ জন প্রার্থী।

দলীয় সূত্র মতে, বরিশাল জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ১০টি উপজেলায় হতে যাওয়া নির্বাচনে চেয়ারম্যান, পুরুষ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে উজিরপুর, আগৈলঝাড়া ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যানদের পরিবর্তন করে নতুন প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নয়টি উপজেলার অধিকাংশ স্থানে পরিবর্তন করা হয়েছে বর্তমান পুরুষ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যানদের। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন বঞ্চিতদের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মনোনয়ন বঞ্চিতরা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং কেন্দ্র থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদ উন্মুক্ত ঘোষণা করায় ওই পদে একাধিক প্রার্থী অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়ায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল বাড়ছে।

মুলাদী উপজেলার নাম প্রকাশে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ৪৭ জন নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষর করে বর্তমান বহুল বিতর্কিত উপজেলা চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম খান মিঠুকে পরিবর্তন করে নতুন প্রার্থী দেয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে আবেদন করেছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবিকে উপেক্ষা করে পুনরায় বিতর্কিত তরিকুল ইসলাম মিঠুকে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নদীবেষ্টিত ওই উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আবেদন করা পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তৃণমূলের জনপ্রিয়তায় এগিয়ে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী জহির উদ্দিন খসরু।

এদিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার খালেদ হোসেন স্বপনকে পরিবর্তন করে কাজী ইমদাদুল হক দুলালকে দলীয় মনোনীত একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। একইভাবে উজিরপুরের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের পরিবর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ সিকদার বাচ্চু, আগৈলঝাড়া উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম মোর্তুজা খানের পরির্বতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুর রইচ সেরনিয়াবাত, গৌরনদী উপজেলায় তৃণমূলের জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি আলহাজ মো. নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সীর পরির্বতে বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরীকে বহাল রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাবুগঞ্জ ও উজিরপুরে মনোনয়ন বঞ্চিতরা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বলেন, কেন্দ্র থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হলেও কোন আপত্তি ছিল না। তৃণমূল পর্যায়ে তাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও জেলা মনোনয়ন বোর্ড থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এখানে যারা চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন তাদের কিভাবে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হয়েছে তাও প্রশ্নবিদ্ধ। তারা আরও বলেন, নির্বাচনে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস জানান, চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। তার আগে তৃণমূল থেকে তিনজন করে প্রার্থীর একটি তালিকা কেন্দ্র থেকে চাওয়া হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলার তিন জনের প্যানেল চূড়ান্ত করার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে। যে উপজেলাতে সকল প্রার্থীরা একমত হয়ে একজনকে সমর্থন জানিয়েছেন সেখানেই কেবল একক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।