• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

গার্মেন্ট মালিক বলছে চাকরি থাকবে না

থামছে না ঢাকামুখী মানুষের ঢল

দৌলতদিয়া ঘাটে উপচেপড়া ভিড়

সংবাদ :
  • শেখ রাজীব, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২০

image

নারায়ণগঞ্জে আদমজী ইপিজেড প্রধান ফটকে পোশাক শ্রমিক ও যানজটের গতকালের চিত্র -সংবাদ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল! প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়কে উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েক দিন যাবৎ প্রতিদিনই কর্মস্থল ঢাকায় ছুটছে শ্রমজীবী মানুষ। যেন চাকরির নিশ্চয়তার কাছে হার মেনেছে করোনার ভয়ডর অনেক শ্রমিকই জানায়, ফোন করলে মালিক বলেছে না এলে চাকরি থাকবে না। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকাল থেকে দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়াঘাট প্রান্তে দেখা যায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। গাদাগাদি করে ফেরিতে নদী পার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে মানুষের চাপ ফেরিগুলোতে তিল পরিমাণ ঠাঁই থকে না মানুষের দাঁড়ানোর মতো।

জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কিছু শিল্প কল-কারখানা বিভিন্ন অফিস খোলার কারণে ঢাকাসহ তার আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও গার্মেন্ট কারখানা খোলা থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে কয়েক দিন যাবৎ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের ঢল শুরু হয়েছে তা যেন থামছেই না। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে কর্মস্থলে ছুটছেন তারা। 

ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারাদেশে লকডাউন চলছে। এতে করে অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে সীমিত আকারে ৫টি ফেরি সচল রাখা হয়েছে। কিন্তু ফেরি সচল থাকায় বিভিন্ন জরুরি পণ্যবাহী যানবাহনের সঙ্গে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে নদী পারাপার হচ্ছে। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। গত ২৬ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিসি’র ৫ কর্মকর্তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় সংস্থাটিতে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রাসেল নামে এক পোশাক কারখানার শ্রমিক বলেন, আমি আমার মালিককে ফোন দিয়ে বলেছিলাম যে, বস লকডাউন চলছে এর মধ্যে কিভাবে আসব। আমার মালিক বলেন, তুমি কিভাবে আসবা সেটা তোমার ব্যাপার না এলে চাকরি থাকবে না। এখন দেখ তুমি কি করবা সেটা তোমার ব্যাপার তাই আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় যাচিছ।

পোশাক কারখানার আরেক শ্রমিক তানজিনা বলেন, আমি আজ ঢাকায় গিয়ে কাজে ডুকব তার জন্য খুব ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। আজ আমি ঢকায় না গেলে আমার চাকরি থাকবে না ।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়াঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ রনি জানান, সরকারি আদেশে সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌপথে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি সচল রাখা হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে মানুষের চাপে আমরা ঠিকমতো পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করতে পারছি না। প্রতিটি ফেরিতেই মানুষের উপচেপড়া ভিড়। এরা সবাই বিভিন্ন গার্মেন্ট ও অন্য ছোট-খাটো কারখানা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মী। করোনা ঝুঁকি থাকলেও ফেরিতে এদের এভাবে পারাপার ঠেকানো আসলে সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।