• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী শত কোটি টাকার মালিক

দেশ-বিদেশে বাড়ি-প্লট

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর দেশ বিদেশে রয়েছে অত্যাধুনিক বাড়ি ও প্লট। এছাড়া নামে-বেনামে রয়েছে শত কোটি টাকা। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে প্রায়ই বিদেশে ভ্রমণবিলাসী এ কর্মচারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতে স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স ও প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন। তিনি আর কেউ নন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ (প্রশাসন) কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মো. আফজাল হোসেন। গতকাল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে এমন তথ্য। দুদকের উপ পরিচালক সামছুল আলমের নেতৃত্বাধীন টিম সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

দুদক সূত্র জানায়, স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুলে সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন। নিজেও জড়িয়েছেন নানা দুর্নীতির সঙ্গে। গতকাল দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তাকে সম্পদের যে তথ্য পেয়েছে দুদক তাতে হতবাক অনুসন্ধান টিম। শুধু আফজাল হোসেনই নয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকসহ অনেক কমকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ গড়ার অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, গত সপ্তাহেই অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আফজাল হোসেনকে নোটিশ দেয় দুদক। দুদকে আসার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ফটোকপি, নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অর্জিত স্থাবর, অস্থাবর সম্পদের বিবরণ ও আয়কর রিটার্নের ফটোকপি সঙ্গে রাখতে তাকে বলা হয়।

দুদকের অভিযোগ থেকে জানা যায়, আফজাল দম্পতির নামে রাজধানীর উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডে তিনটি পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে (বাড়ি নম্বর ৪৭, ৬২ ও ৬৬) এবং একটি প্লট (প্লট নং-৪৯)। এছাড়া ১৬ নম্বর রোডে রয়েছে পাঁচতলা বাড়ি (বাড়ি নম্বর-১৬)। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ও ফরিদপুরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তাদের অঢেল সম্পদ। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে তাদের বাড়ি। দুদক সেই বাড়ির সন্ধানও পেয়েছে। দুদক জানায়, আফজালের স্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার স্টেনোগ্রাফার রুবিনা খানমের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান করছে দুদক। এর আগে এই দুজনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংস্থাটি। তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হলে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক সামসুল আলমের আবদনের প্রেক্ষিতে তাদের বিদেশ যাওয়া রুখে দেয়া হয়। গত সোমবার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা পুলিশের বিশেষ শাখায় আবেদন করলে বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেন। এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দেশ-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার, টেন্ডার বাণিজ্যসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পরিচালক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, অধ্যাপক ডা. আবদুর রশীদ, সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সামছুল আলম। তলবের প্রেক্ষিতে গতকাল হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগামী ১৪ জানুয়ারি বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়ে আফজাল হোসেন গত এক বছরে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ৭৯ বার। এরমধ্যে ২৮ বারেরও বেশি সময় সফর করেছেন শুধু কানাডায়। এছাড়া ডুবাই, সৌদিসহ একাধিক দেশেও তিনি ভ্রমণ করেছেন অবকাশকালীন ছুটি দেখিয়ে। ঠিকমতো অফিস করতেন না এ কর্মকর্তা। বছরের অধিকাংশ সময় তিনি অফিস না করেও হাজিরা দেখিয়েছেন নিয়মিত। এশিয়া-ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশে আফজাল হোসেনের বিমানে সফরের যে ব্যয় হয়েছে সেই অর্থ কোথায় পেয়েছেন তা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।