• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রী আজ ভারত যাচ্ছেন

তিস্তা রোহিঙ্গা নিয়ে আলোচনা ছাড়াও বেশক’টি সমঝোতা স্মারক সই হবে

সংবাদ :
  • কূটনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে চীন সম্পৃক্ত হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন। গতকাল বুধবার প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪ দিনের ভারত সফর উপলক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের সবচাইতে বড় সফলতা মায়ানমারের উপর চীনের চাপ সৃষ্টি করতে পারা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করতে মায়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধামন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার চারদিনের ভারত সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে ঠিক কতটি সমঝোতা চুক্তি সই হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে ১০-১২ টি সমঝোতা চুক্তি সই হওয়ার পাশাপাশি তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তি ও রোহিঙ্গা নিয়ে আলোচনা হবে এছাড়াও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি একসঙ্গে পালন করবে বাংলাদেশ ও ভারত।

ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ৩-৪ অক্টোবর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দেবেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সিঙ্গাপুরের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী মি. হিং সুইট কিট স্বাক্ষাত করবেন। আগামী ৫ অক্টোবর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পারিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্তে সকল প্রকার চোরাচালান বন্ধে বিভিন্নমুখী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। উভয় দেশের মধ্যে জনযোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভারতীয় ভিসা থাকা সাপেক্ষে আরও অবাধ যাতায়াতের ব্যবস্থা গ্রহণ। সন্ত্রাসবাদ রোধ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা বৃদ্ধি সার্বিক বাণিজ্যিক এবং আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উভয় দেশের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ। উন্নয়ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর পূর্তি যৌথভাবে উদযাপনের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ। রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে প্রত্যাবাসন বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌ ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম এবং মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারত হতে আমদানি-রপ্তানির বিষয়ে এসওপি স্বাক্ষরের কথাও রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে আলোচনা শেষে যুব ও ক্রীড়া, সংস্কৃতি, নৌ পরিবহন, অর্থনীতি, সমুদ্র গবেষণা, পণ্যের মান নির্ধারণ, বাণিজ্য, শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাখাতে একাধিক সমঝোতা সই হতে পারে। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দ’র সঙ্গে সৌজন্য স্বাক্ষাত করবেন। পরদিন ৬ অক্টোবর সংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে স্বাক্ষাত করবেন শেখ হাসিন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ, উন্নয়ন-জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ইত্যাদি নিয়েও আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ৬ অক্টোবর সফর শেষে দেশে ফিরবেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সামনে রেখে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক।