• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ১১ শাবান ১৪৪১

ঢাকার দুই নতুন মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ সাড়ে তিন মাস পর

শপথ ২৭ ফেব্রুয়ারি

    সংবাদ :
  • ইমদাদুল হাসান রাতুল
  • | ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সাড়ে তিন মাস পর দায়িত্ব নিতে হবে নব-নির্বাচিতদের। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কাছে শপথ নিবেন দুই মেয়র। শপথ নেয়ার পরও দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রায় আড়াই মাস অপেক্ষা করতে হবে তাদের। আইনের মারপ্যাচের কারণেই তাদের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে এই হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইসি কর্মকর্তাদের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার অভাবেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও উত্তর সিটি করপোরেশনে আতিকুল ইসলাম জয়ী হন। সাধারন জয়লাভ করার কিছুদিনের মধ্যে দায়িত্ব নিতে দেখা গেছে সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম হয়েছে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর মেয়র বা কাউন্সিলরদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবে। ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিজয়ী মেয়র ও কাউন্সিলদের নাম, ঠিকানা ও পদসহ গেজেট প্রকাশ করে।

সূত্র জানায়, নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা ২৭ ফেব্রুয়ারি শপথগ্রহণ করবেন। ওই দিন সকাল সাড়ে দশটায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও শেখ ফজলে নূর তাপসকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। আর কাউন্সিলরদের শপথ করাবেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) তে আছে ‘নির্বাচিত মেয়র অথবা কাউন্সিলর করপোরেশনের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যভার গ্রহণ করতে পারিবেন না। সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ সম্পর্কে ধারা ৬ এ বলা হয়েছে, করপোরেশনের মেয়াদ উহা গঠিত হইবার পর উহার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখ থেকে পাঁচ বৎসর হইবে, তবে শর্ত থাকে যে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও উহা পুনর্গঠিত সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করিয়া যাইবে।

দক্ষিণ সিটির প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ১৬ মে। ঢাকা উত্তর সিটির প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ওই বছরের ১৩ মে। এ হিসেবে উত্তর সিটির নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম ১৪ মে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন আর দক্ষিণ সিটিতে নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন চলতি বছরের ১৭ মে। এই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা।

দায়িত্বগ্রহণের এত সময় থাকতেও কেন নির্বাচন করা হলো এ নিয়ে ইসির এক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। আইনের উপ-ধারা (১) এর (খ) দফায় বলা হয়েছে, করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হইবার ক্ষেত্রে, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্ববর্তী একশত আশি দিনের (১৮০ দিন) মধ্যে নির্বাচন করিতে হইবে। আইন মেনেই নির্বাচন হয়েছে।

ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীসহ ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন ৬ জন, কাউন্সিলর পদে ২৫১ জন এবং সংরক্ষিত আসনে ৭৭ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। উত্তর সিটিতে ওয়ার্ড রয়েছে ৫৪টি। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোটার ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন।

ঢাকা দক্ষিণে ৭ মেয়র প্রার্থী ছিলেন। ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন ভোটার। যাদের মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩ জন। এবার ঢাকার দুই সিটিতে প্রথমবারের মতো ২ হাজার ৪৬৮টি ভোট কেন্দ্রের ১৪ হাজার ৪৩৪টি ভোটকক্ষে ইভিএমে ভোট হয়।

দক্ষিণের বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, বর্তমান বোর্ডের এখনও মেয়াদ রয়েছে। যতদিন মেয়াদ থাকবে তিনি ততদিন দায়িত্ব পালন করবেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক এর (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সংবাদকে বলেন, আইনে আছে মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে করতে হবে। কিন্তু এতো আগে করতে হবে সেটাতো বলা হয়নি। তারা চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয়নি। আসলে তাদের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার অভাব রয়েছে। আর এ কারণেই নির্বাচিতদের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য এতটা সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।