• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউল সানি ১৪৪০

সুন্দরবনের পশুর নদে

ডুবে যাওয়া কয়লা বোঝাই জাহাজ উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি

পরিবেশ অধিদফতর প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

সুন্দরবনের মংলা বন্দর চ্যানেলের পশুর নদে ডুবে যাওয়া কয়লা বোঝাই লাইটার জাহাজ উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। দুর্ঘটনাস্থলে মার্কিং হয়েছে। উদ্ধার সম্পন্ন করতে জাহাজ মালিকপক্ষকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদফতরের প্রতিনিধি দলের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এ সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। প্রতিনিধিরা এ খবর জানান।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান : বিশ্ব ঐতিহ্য বাগেরহাটের সুন্দরবনের মধ্যে মংলা বন্দর চ্যানেলে পশুর নদের হারবাড়িয়ায় কয়লা বোঝাই এমভি বিলাস নামের ডুবে যাওয়া লাইটার জাহাজটি উদ্ধার কাজ সোমবারও করতে পারেনি। রোববার ভোরে এই জাহাজ ডুবির পর শুধুমাত্র ডুবন্ত জাহাজটির মার্কিং স্থাপন করা হয়েছে। মার্কিং থাকায় বন্দর চ্যানেল দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল দুপুরে বাগেরহাট পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. এমদাদুল হকের নেতৃত্বে একটি দল পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পশুর নদীর দুর্ঘটনাকবলিত স্থান থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে। এছাড়া ডুবন্ত কয়লার জাহাজ থেকে যাতে কোন ধরনের বর্জ্য ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সদ্য ক্রয়কৃত বন্দরের নিজস্ব বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ পশুর ক্লিনার-১ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মংলা বন্দর থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে কয়লা বোঝাই এই লাইটার জাহাজ ডুবির ঘটনায় এবার গতকাল বিকেলে মংলা থানায় জিডি করেছেন সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা কামরুল হাসান। এদিকে সুন্দরবনে কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পশুর নদে কয়লা বোঝাই জাহাজ ডুবিতে সুন্দরবনের গাছের শ্বাসমূলসহ জীববৈচিত্র্য ও জলজপ্রাণীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করবে। কারণ ইটভাটা ও সিরামিক কারখানাগুলোতে ব্যবহারের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত কয়লা সাধারণত নিচুমানের। কয়লায় সালফার ডাই-অক্সসাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন মনো- অক্সাইড, কার্বন-ডাই অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন প্রভৃতি সুন্দরবনের পানি, জীব ও বায়ুমন্ডলকে দূষিত করবে। আর কয়লার ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস সুন্দরবনের শ্বাসমূল, উদ্ভিদ ও ডলফিনসহ মাছের প্রজননের ক্ষতি করবে। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ডুবন্ত নৌযানটি উদ্ধারে মালিকপক্ষ প্রয়োজনীয় ক্ষমতাসম্পন্ন বার্জসহ অন্যান্য মালামাল সংগ্রহ করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লাইটার কার্গোটির মালিকপক্ষ নির্দেশনা উপেক্ষা করলে তাদের বিরুদ্ধের আইনগত ব্যবস্থাসহ কার্গোটির মালিকানা বাতিল করে উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান দিয়ে ‘নো লস, নো প্রোফিট’ চুক্তি ভিত্তিতে এটি অপসারণ করা হবে। আর লইাটার কার্গোটি বন্দরের মূল চ্যানেলের বাইরে ডুবে যাওয়ায় সেক্ষেত্রে নৌযান চলাচলে কোন বিঘœ ঘটছে না। এছাড়া ডুবন্ত কয়লার জাহাজ থেকে যাতে কোন ধরণের বর্জ্য ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সদ্য ক্রয়কৃত বন্দরের নিজস্ব বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ পশুর ক্লিনার-১ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) মো. মাহামুদুল হাসান আজ দুপুরে সুন্দরবনে পশুর নদীতে দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শন করেন। ডিএফও বলেন, সোমবার রাতের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সুন্দরবন বিভাগ। ডুবে যাওয়া লইটার জাহাজটি এখন ভাটার সময় জাহাজটির মাস্টার ব্রিজের আংশিক দেখা গেলেও জোয়ারের সময় জাহাজটি পুরোপুরি তলিয়ে থাকছে।

মংলা প্রতিনিধি জানান

মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হারবাড়িয়া এলাকায় ডুবে যাওয়া কয়লা বোঝাই লাইটার জাহাজ এমভি বিলাস উদ্ধার কাজ এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি। গতকাল দুপুরে সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান ও খুলনা পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় পরিবেশ অধিদফতরের দলটি ঘটনাস্থল থেকে নদীর পানি সংগ্রহ করেন। এ পানিতে জলজ প্রানীর জন্য ক্ষতিকর কোন পদার্থ ও রাসয়নিক আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখবে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দলটি। এ দিকে চ্যানেলে নৌযান চলাচল নিরাপদ রাখতে সোমবার সকাল থেকে লাইটার মালিক পক্ষের উদ্যোগে দুর্ঘটনাস্থল মার্কিং করার কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বন্দরে চ্যানেল পুরোপুরি নিরাপদ রয়েছে বলে দাবি করেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার ওয়ালিউল্লাহ। তিনি জানান, লাইটারটি দ্রুত উদ্ধারে মালিক পক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তাদের করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরের নদীতে কয়লা বোঝাই ওই লাইটার ডুবির ঘটনায় রোববার রাতে সুন্দরবনের চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ওই ডায়েরিতে অতিরিক্ত বোঝাইয়ের কারণে কয়লা বোঝাই লাইটারটি ডুবেছে বলে উল্লেখ করেন। এদিকে গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোবাইলফোনে যুগান্তরকে জানান, ডুবন্ত লাইটারটি প্রায় ১২ ফুট পানির নিচে রয়েছে। লাইটার জাহাজে থাকা জ্বালানি তেল ও কয়লার রাসয়নিক পদার্থ নদীর জলজ প্রাণীর জন্য কেমন প্রভাব ফেলবে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিন কবিরকে খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি। অপর দিকে পরিবেশ অধিদফতরের বাগেরহাট জেলা সহকারী পরিচালক মো. এমদাদ হোসেন যুগান্তরকে জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এখনই ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা সম্ভব নয়। তবে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহীত পানি ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর সব কিছু নিশ্চিত করা সম্বভ হবে। তিনি জানান, লাইটার জাহাজটির তেল ও কয়লা রাসয়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জলজ প্রানীর জন্য কেন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে কিনা তা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। গতকাল ভোর রাতে ৭৭৫ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে মাদার ভ্যাসেল থেকে ছেড়ে আসার পথে হারবাড়িয়ার ৬নং বয়ার অদূরে এমভি বিলাস নামের এ লাইটার জাহাজটি ডুবোচরে আটকে কাত হয়ে ডুবে যায়। এ দুর্ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী নৌযান ও একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।