• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭, ৭ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

ট্রেন-নৌযান বন্ধ

কাল থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে গণপরিবহন পণ্যবাহী যান চলবে

সংবাদ :
  • ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ

| ঢাকা , বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

image

গতকাল সদরঘাটে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়, কিন্তু নৌযান বন্ধ ঘোষণা করা হয় -সংবাদ

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ট্রেন ও নৌযান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারে পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আগামীকাল ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বাসায় থাকার জন্য। কোন উৎসবের জন্য নয়। তাই গতকাল সন্ধ্যা থেকে সারাদেশের যাত্রীবাহী ট্রেন ও নৌযান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সকল ধরনের গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ সরকারের এই ঘোষণা কোন কর্ণপাত করছেন না। সাপ্তাহিকসহ ১০ দিনের ছুটি পেয়ে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যেতে দেখা গেছে। তাই গতকাল সকাল থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ঢাকা থেকে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সঙ্গে সব আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস বন্ধ। কিন্তু অন্য জেলার আন্তঃজেলা বাস চালু থাকায় টার্মিনালে ছিল প্রচ- ভিড়। ট্রেন ও লঞ্চের অনেক যাত্রী বাস টার্মিনালে ভিড় করতে দেখা গেছে। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত এর প্রকার লকডাউন হয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক ভিডিও বার্তা গণমাধ্যমকে জানায়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দেশবাসী জনগণ, যাত্রী সাধারণ, মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছে যে, আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহণ লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন-এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহনে কোন যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

এ দিকে গতকাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা ও মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের ভয়াবহ করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সরকারের সিদ্ধান্তে সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল আগামী-২৬ মার্চ’ ২০২০ইং থেকে ৪ এপ্রিল’ ২০২০ ইং পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দেশের এই পরিস্থিতিতে সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করিতেছে। সেই হিসাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী-২৬ মার্চ’ ২০২০ ইং থেকে ৪ এপ্রিল’ ২০২০ ইং পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ রাখার জন্য দেশের সব পরিবহন মালিকদের অনুরোধ করা হলো।

সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধের বিষয়ে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মঙ্গলবার সন্ধার পর থেকে সব যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে এ সময় মালবাহী ও তেলবাহী ট্রেন সীমিত পরিসরে চলাচল করবে। অনেক ট্রেন পথিমধ্যে চলমান অবস্থায় আছে। ট্রেনগুলো ঢাকায় এসে আবার তাদের নির্ধারিত ছাড়ার প্রান্তে চলে যাবে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে সিডিউল অনুযাযী কোন ট্রেন চলবে না।

সারাদেশের নৌযান বন্ধের বিষয়ে গতকাল এক ভিডিও বার্তায় নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানায়, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মঙ্গলবার থেকে নৌপরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। লঞ্চ চলাচল করবে না। যাত্রীবাহী কোন নৌযান চলাচল করবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় যে সব দ্রব্য আছে সেগুলো কার্গোর মাধ্যমে পরিবহন করবে। সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করবে। ফেরিতে সাধারণ মানুষ পারাপারের ক্ষেত্রে নিষধাজ্ঞা রয়েছে। আমরা করোনা ঝুঁকির মধ্যে আছি। সড়ক পথে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যান চলাচলের প্রয়োজন হয়। সে কারণে ফেরি চলাচল সীমিত আকারে চালু রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স বা প্রয়োজনীয় যান পারাপারের জন্য ফেরি সীমিত আকারে চলাচল করবে। মঙ্গলবার থেকে সেনাবাহিনী সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, সেজন্য আমাদের ফেরিগুলো চালু রাখা দরকার।

খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন উৎসবে ফেরিতে সাধারণ মানুষ পারাপার করি। বর্তমান অবস্থায় ফেরিতে সাধারণ মানুষ পারাপারের ক্ষেত্রে নিষধাজ্ঞা রয়েছে। সরকার যে ছুটি ঘোষণা করেছে, সেটি উৎসবের ছুটি নয়। করোনা ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে। যেখানে আমরা আছি সেখানে অবস্থান করব। আমরা স্থানান্তর হব না। ১৬ কোটি মানুষকে ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে করোনা ঝুঁকি মোবাবিলা সম্ভব নয়। এ ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য প্রতিটি মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন। আমরা বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধে আমরা সম্মিলিতভাবে জয়ী হয়েছিলাম। যদি সম্মিলিতভাবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করি তাহলে করোনা ঝুঁকিতেও আমরা জয়ী হব।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর মো. গোলাম সাদেক সংবাদকে বলেন, সারাদেশের যাত্রীবাহী নৌযান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে লঞ্চ, ট্রলার, স্প্রিডবোর্ট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান বন্ধ থাকবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী যানবাহন পারাপারের জন্য সেমিত আকারে ফেরি চলাচল করবে। করোনাভাইরাসের সতর্কতায় জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দীর্ঘ ছুটি থাকার কারণে অনেকেই শহর থেকে গ্রামে যাবে। কিন্তু গ্রামের চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে এই ভাইরাস আরও ছড়িয়ে পড়বে। তাই যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধা হলেও জরুরি ভিত্তিতে নৌযান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।