• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

ভারী বর্ষণে

টেকনাফে পাহাড়ধস তিন শিশু নিহত

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, টেকনাফ (কক্সবাজার)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে পাহাড়ধস -সংবাদ

  • বিধ্বস্ত বাড়িঘর
  • কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে ধস

কক্সবাজারের টেকনাফে ভারী টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড় ধসে দুই ও পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গাসহ তিন শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টির পানিতে দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ভোরে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে টেকনাফ পৌরসভার মেহেদী হাসান (৯) ও একই এলাকার মোহাম্মদ আলমের শিশু কন্যা আলিফা (৫) একই দিন টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-বল্কের আমান উল্লাহর ছেলে ইরফান আলী (১১) পানিতে ডুবে মারা যায়। সরেজমিনে টেকনাফ পৌরসভা, হ্নীলা, বাহারছড়া, পহায়াইক্যং, শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়ার পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালী, মধুর ছড়া এলাকার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টির পানিতে দেড় শতাধিক কাঁচা ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

এলাকা পরিদর্শনকালে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে টেকনাফ পৌর এলাকায় পাহাড় ধসে দুই শিশু মারা গেছে। ঘটনাস্থল পরির্দশ করেছি, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। নিহত শিশুদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, ভারী বর্ষণে টেকনাফ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিবন্দী হওয়ায় প্রায় ৮শ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র আনা হয়েছে। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত টেকনাফ পৌরসভার ১১০ পরিবারকে ত্রাণ দেয়া হয়েছে। এখানও যারা ঝুঁকিতে বসত করছে তাদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। পাশপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৃষ্টিতে ঘর ভাঙার খবর পেয়েছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তাদের সাহায্য দেয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী খাল দখল করে রেখেছে। এতে বৃষ্টির পানি জমে এলাকায় ঢুকে ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। আগে বৃষ্টিতে এভাবে ঘরবাড়ি ডুবে যায়নি। আমাদের ঘরসহ এলাকার বেশ কয়েকটি কাঁচা ঘর ভেঙে গেছে।

তিনি বলেন, খাল দখলমুক্ত না হওয়ায় প্রতি বছর বৃষ্টিতে শতাধিকের বেশি পরিবারকে পানির মধ্যে বসবাস করতে হয়। খাল দখলমুক্ত করে এলাকার লোকজনকে পানিবন্দী থেকে রক্ষা করতে এবং খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি সরকারের কাছে।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিলদার বেগম (৫৫) নামে এক নারী বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে একমাত্র সম্বল ঘরটিও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। জানি না এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো। একটি মাত্র আশ্রয়কেন্দ্র হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সকাল থেকে পরিবারের কোন লোকজন খাবার মুখে দিতে পারেনি। খাল দখলের কারণে আমাদের এই দশা।’

টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি বদলুল ইসলাম বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতে এ শিবিরের প্রায় অর্ধশতাধিক ঝুপড়িঘর ভেঙে গেছে। এছাড়া বালুখালী, মধুরছড়া ও শূন্য রেখা রোহিঙ্গা শিবিরের শতাধিকের মতো ঘর তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। এতে অনেক রোহিঙ্গা ঘরহারা হয়ে পড়েছে।’

টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতে মাটি চাপা পড়ে দুই শিশু ও পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গা শিশুসহ তিন মারা গেছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বেশ কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ এখনও পানিবন্দী হয়ে আছেন। এলাকায় গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।’

মেরিন ড্রাইভ সড়কে ভয়াবহ পাহাড় ধস

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত লোকজনের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মেরিন ড্রাইভ সড়কে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১৮ জন আহত হয়েছে।

জানাগেছে, কক্সবাজারে গত শুক্রবার থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। টানা এই বৃষ্টি ছয়দিন অতিবাহিত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতে কক্সবাজার সদর টেকনাফ, মহেশখালী, উখিয়া ও রামুসহ বেশ কিছু এলাকার পাহাড় বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে ওই সব এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বাস করা বিপুল পরিমাণ লোকজন যার কারণে তারা চরম পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। এরই মধ্যে টেকনাফ ও কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে এক ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে। এই দুই ঘটনায় ৩ জন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য এলাকায়ও পাহাড় ধসেপড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানে এখন পর্যন্ত কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাস করা লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে। টেকনাফসহ আরও কয়েকটি এলাকা থেকে অনেক লোকজনকে সরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্যদের সরে যেতে বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে মাইকিং করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আশরাফুল আবছার সংবাদকে বলেন, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই ঝুঁকিতে পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করা লোকজনের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছে।

এদিকে ভারি বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, উপসড়কের মারাত্মক ভাঙচুর দশা সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচলে বেশ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক ও মহেশখালীর গোরকঘাটা-জনতাবাজার সড়কটি সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।