• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ জিলহজ ১৪৪০

সরকারের নতুন কর্মসূচি

টিআর ও কাবিটার পরিবর্তে দরিদ্র পরিবার পাবে পাকা ঘর

এক বছরে ৬৪ হাজার গৃহহীন পরিবার পাবে এই সুবিধা

সংবাদ :
  • রাকিব উদ্দিন

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

আগামী তিন মাসে সারাদেশের প্রায় ১২ হাজার গৃহহীন পরিবারকে (যাদের জমি আছে, ঘর নেই) পাকা ঘর নির্মাণ করে দেবে সরকার। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হবে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ১২ হাজার ঘর নির্মাণের জন্য চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও রাখা হয়েছে। আগামী এক বছরে আরও ৬৪ হাজার এবং পাঁচ বছরে তিন লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) খাতে বরাদ্দ করা অর্থ দিয়ে এই ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ এপ্রিল এ সংক্রান্ত ‘দুস্থদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণ’ শীর্ষ একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদন করেছেন বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, জমির সংস্থান সাপেক্ষে হিজড়া, বেদে, বাউলসহ প্রভৃতি সম্প্রদায়কে এ সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, নদী ভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৃহহীন পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত মহিলা, প্রতিবন্ধী ও পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্য নেই- এমন পরিবার অগ্রাধিকার পাবে।

হতদরিদ্র পরিবার নির্বাচনে উপজেলা কমিটি থাকছে। কমিটির প্রধান হচ্ছেন ইউএনও। ঘর নির্মাণে টিন দেয়া হবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের রিলিফ ফান্ড থেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালাও তৈরি করেছেন। যত দ্রুত সম্ভব এই নীতিমালা অনুমোদনের কাজ চলছে। এরপরই গৃহনির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল সংবাদকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দরিদ্রতা বিবেচনা করে গৃহনির্মাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। আর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুরো প্রকল্পের কঠোর মনিটরিং করা হবে।’

আগামী পাঁচ বছর এই কর্মসূচি চলবে জানিয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশে কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। ওই ঘোষণা সফল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছি।’ এই কর্মসূচির আওতায় পাঁচ বছরে মোট তিন লাখ ২০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেবে সরকার।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ সম্পর্কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচনে, গ্রামে শহরের সুবিধা সম্প্রসারণ, দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এলাকার আয়তন, জনসংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার দারিদ্র্য সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে কোন উপজেলায় কয়টি ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, একটি বারান্দা, একটি রান্নাঘর ও একটি বাথরুম থাকবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিআর ও কাবিটা কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামের হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যশস্য ও টাকা বিতরণ করা হতো। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই হতদরিদ্ররা এই সুবিধা যথাযথভাবে পেত না; কেউ কেউ আংশিক সুবিধা পেত। খাদ্যশস্য ও টাকা বিতরণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আসে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে। এজন্য এবার গৃহনির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন। আর তা তদারকি করতে অতিরিক্ত সচিবদের নেতৃত্বে আট বিভাগের জন্য আটটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও উপসচিবদের জেলা ভিত্তিক এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং তদারকি করতে দায়িত্বে দেয়া হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিগত সময়ে প্রচলিত ও গতানুগতিক সব নিয়ম পরিবর্তন করে টিআর ও কাবিটা’র খাদ্যশস্য এবং অর্থ দিয়ে গ্রামের হতদরিদ্রদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হবে। ১৯৮৮ সালের বন্যায় যে পর্যন্ত পানি উঠেছিল, তা ভিত্তি ধরে ওই পরিমাণ উঁচু করে ঘরের পাকা ভিটে নির্মাণ করা হবে। যাদের ৪০০ বর্গফুট জমি আছে, তারা এ ঘর পাবেন।

ঘর নির্মাণ সংক্রান্ত কমিটির কাজ সম্পর্কে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, কমিটি ইউনিয়নভিত্তিক উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি, অনুমোদন এবং গৃহনির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। উপজেলা কমিটি উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করে তা জেলা কমিটিতে পাঠাবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নকশার আলোকে উন্নত মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে মানসম্মত ঘর তৈরি করা হবে। কার্যক্রম বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতি মাসে জেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন।