• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী

জিয়া-এরশাদ-খালেদা ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন

ছাত্রলীগকে নীতি বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৫ জানুয়ারী ২০২০

image

গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে হাত নেড়ে উপস্থিত সমাবেশের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী -সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসীদের জায়গায় পরিণত করেছিলেন। ছাত্ররা আমাদের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যেতে তারা দেশকে পরিচালনা করবেন। তাদের যদি বিপথে নামানো হয়, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য তাদের ব্যবহার করা হয় তাহলে তারা দেশকে নেতৃত্ব দেবে কীভাবে? আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য ছাত্রলীগকে কাজ করে যেতে হবে। আমি চাই ছাত্রলীগ যেন সবসময় নীতি বজায় রেখে রাজনীতি করে।

গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে পূর্ণাঙ্গ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে নিউক্লিয়াস ফর্ম গঠন করেছেন। সব আন্দোলনের সূতিকাগার হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের নির্দেশনা দিতেন যেন সেই নির্দেশনা সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার আমাদের ভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে ছাত্রলীগ। আমরা দেখেছি, যখনই কোন সংগ্রাম হয়েছে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ ক্রান্তিকালে ভূমিকা রেখেছে। যখন আমার বাবা জেলে ছিলেন ছাত্রলীগের নেতারা যোগাযোগ করতেন আমার মায়ের সঙ্গে। মা ছাত্রলীগ নেতাদের যেভাবে নির্দেশনা দিতেন, নেতারা সেইভাবে নির্দেশনা পালন করতেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা-আদর্শ ছাড়া সফলতা আসবে না। সাময়িকভাবে নাম-ডাক আসতে পারে, অর্থবিত্ত হতে পারে। কিন্তু দেশের ইতিহাসে মনে রাখার মতো কিছু করতে পারবেন না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। এই বছরের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করব। ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সাল আমরা মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছি। ছাত্রলীগকে আস্থা ধরে রেখে রাজনীতি করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ছাত্রলীগকে কাজ করে যেতে হবে।

ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকেই বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা পড়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আদর্শ ও সততা ছাড়া কোন সংগঠন গড়ে উঠতে পারে না। ছাত্রলীগকে নীতি নিয়ে গড়ে উঠতে হবে। জাতীর পিতার আদর্শে এই সংগঠনকে গড়ে উঠতে হবে।

বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন : তোফায়েল আহমেদ

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু বলতেন, ছাত্রলীগ হচ্ছে আমার অগ্রগামী রাজনৈতিক সৈনিকদের সংগঠন। বঙ্গবন্ধু তার অনেক না বলা কথা ছাত্রলীগকে দিয়ে বলাতেন। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু যেদিন ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেদিনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ তিনি বপন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আগে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন জেলে আমি তখন ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হই। বঙ্গবন্ধু তখন আমাকে তার স্নেহমাখা চিঠি লিখেছিলেন।

ছাত্রলীগ শৈশবের ভালোবাসা-কৈশরের উচ্ছ্বাস-যৌবনের প্রেম-বার্ধক্যের বিশ্বাস : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ছাত্রলীগ আমাদের শৈশবের ভালোবাসা। ছাত্রলীগ আমাদের কৈশরের উচ্ছ্বাস। ছাত্রলীগ আমাদের প্রথম যৌবনের প্রেম। ছাত্রলীগ বাঙালির বার্ধক্যের বিশ্বাস।

ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণাস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নবীন ও পুরানো এই মিলনমেলায় বাংলাদেশের সব বাগানে যত ফুল ফুটেছে, সব ফুলের শুভেচ্ছা ছাত্রলীগের জন্য দিলাম। এই মিলনমেলায় দাঁড়িয়ে আজ বার বার মনে পড়ছে; বঙ্গবন্ধুর সব সাফল্যের কেমিস্ট্রি কী ছিল? সেই কেমিস্ট্রি ছিল সাহস। বঙ্গবন্ধু কন্যার রসায়ন হলো, সাহস ও সততা। ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছিল মানুষের প্রতি অক্ষয় ভালোবাসা। শেখ হাসিনার রাজনীতি এ দেশের মানুষের কাছে থাকা। তার নেতৃত্বে বিশ্বসভায় বাংলাদেশ বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে গত ৪৪ বছরের সবচেয়ে সৎ, সবচেয়ে বিচক্ষণ, সবচেয়ে সাহসী, সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার নাম শেখ হাসিনা। তিনি বর্তমানের পলিটিশিয়ান নন। শেখ হাসিনা বর্তমানের সীমারেখা পেরিয়ে, নির্বাচনের সীমারেখা পেরিয়ে পরবর্তী জেনারেশনের লিডার। সেজন্য তিনি পলিটিশিয়ান নন, তিনি আমাদের ‘স্টেটসম্যান’। আমরা সেজন্য তাকে রাষ্ট্রনায়ক অবহিত করি।

আবরার হত্যাকারী কর্মী প্রয়োজন নেই : সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের দূরে যেতে হবে না। সততার শিক্ষা আমরা বঙ্গবন্ধু পরিবারে পাই। মেধা এখানে, মেধা বঙ্গবন্ধু পরিবারে। আসুন এই পরিবার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এগিয়ে যাই। যে কোন কারণে সুনাম কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়েছে। সেই ছাত্রলীগ কর্মীর প্রয়োজন নেই, যে আবরার হত্যায় জড়িত। সেই ছাত্রলীগ কর্মীর প্রয়োজন নেই, রাজশাহীতে অধ্যক্ষকে অপমান করে যে। হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে হবে।