• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

সংবাদ :
  • মোস্তাফিজুর রহমান

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

image

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাইকোর্ট থেকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। সংক্ষিপ্ত সাজা, বয়স ও শারীরিক অসুস্থতাসহ চারটি যুক্তি (গ্রাইন্ড) গ্রহণ করে তাকে জামিন দিয়েছেন আদালত। এর ফলে কারাগারে যাওয়ার এক মাস (৩২ দিন) পর খালেদা জিয়ার সামনে কারামুক্তির পথ তৈরি হলো।

উল্লেখ্য, ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়ে কারাগারে পাঠান ঢাকার বিশেষ আদালত। এখন নতুন করে অন্য কোন মামলায় গ্রেফতার না দেখানো হলে খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে কোন বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যে তার মুক্তি পাওয়ার আশাও করছেন তারা। যদিও নাশকতার এক মামলায় কুমিল্লার আদালতে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) ইস্যু করা হয়েছে। আদেশটি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে মামলাটিতে খালেদা জিয়াকে আটক (শ্যেন এরেস্ট) দেখানো হলে তার কারামুক্তি আটকে যাবে। এদিকে, খালেদা জিয়াকে দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আর জামিনের আদেশ স্থগিত চাইবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী। আদেশের পর আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করে না।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের দেয়া খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ বিচারিক আদালতে যাবে। এরপর ওই আদালতে আবার জামিননামা দাখিলের অনুমতি চাইবেন তার আইনজীবীরা। বিচারক জামিননামা দেয়ার অনুমতি দিলে খালেদা জিয়ার পক্ষে মুচলেকা (বন্ড) দিতে হবে। তখন একটি রিলিজ আদেশ কারাগারে পাঠানো হবে। অন্য কোন মামলায় আটক না দেখানো হলে ওই রিলিজ আদেশ পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেবে।

গতকাল বিচারিক আদালতের নথি দেখে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে চার গ্রাইন্ডে (যুক্তি) জামিন দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত তার আদেশে আগামী চার মাসের মধ্যে মামলার আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক প্রস্তুত করতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দিয়েছেন। পেপার বুক তৈরি হলে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আপিল শুনানির জন্য আসতে পারবেন বলেও আদেশ দেন আদালত। গতকাল দুপুর আড়াটার দিকে আদেশের সময় আদালত বলেন, আমরা উভয় পক্ষকে শুনেছি। এখন আদেশ দিচ্ছি। চার বিষয় বিবেচনা করে এই আদেশ দেয়া হচ্ছে। এক. সাজার পরিমাণ বিবেচনা (অর্থাৎ বিচারিক আদালতে তাকে যে স্বল্প মেয়াদের সাজা দেয়া হয়েছে, তা বিবেচনা)। দুই. মামলাটির বিচারিক আদালতের নথি এসেছে এবং এটি আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক তৈরি হয়নি।

তিন. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, তিনি জামিনে ছিলেন এবং জামিনের অপব্যবহার করেননি এবং চার. তার বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করা হলো।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন খালেদার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আদালতের এজলাসে এ সময় খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে খালেদা জিয়ার জামিনের এই আদেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবীরা। জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার যদি অন্য কোন মামলায় তাকে (খালেদা জিয়া) গ্রেফতার না দেখায় তাহলে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে আর কোন বাধা নেই।’ খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়ার) জামিন হওয়ায় আমরা খুশি। জামিন পাওয়ার পর কিছু প্রক্রিয়া আছে। যা সম্পন্ন করতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। আদালতের সময় শেষ হওয়ায় সে প্রক্রিয়াগুলো কাল সম্পন্ন হবে।’ এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) কখন কারাগার থেকে বের হবেন তা বলা মুশকিল। এটা কোর্টে ওপর নির্ভর করে। তবে আমরা আশা করছি, বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামীকালের মধ্যে (আজ) তিনি বের হতে পারবেন।’

হাইকোর্টে ৩২টি যুক্তি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। জামিন শুনানিতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন দুদকের আইনজীবীরা। শুনানিতে জামিনের বিরোধিতা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপিল শুনানি শুরুর আদেশ চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষ। জামিন আদেশের পর নিজ কক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, রায়ের কপি পাওয়ার আগে আমরা জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করব। তিনি বলেন, হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল প্রস্তুত শুরু করেছি। আগামীকাল (আজ) দুপুরের মধ্যে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন নিয়ে যেতে পারবো।’ অন্যদিকে, হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চাইবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জামিন আদেশের পর দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করা হবে।’ এদিকে, খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের পর সচিবালয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি নেতারা সারাদেশে বলে বেড়াচ্ছিলেন আমরা নাকি আদালতে ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করছি বলে বেইলটা (জামিন) হচ্ছে না। আজকে প্রমাণিত হলো, বিচার বিভাগ যে স্বাধীন এবং বিচার কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করে না।’ খালেদার জামিনের আদেশের পর সরকারের পদক্ষেপ কী হবে, সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘এটা দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়। দুর্নীতি দমন আইনে বলা আছে, দুর্নীতি দমন কমিশন হবে পক্ষ, রাষ্ট্র উইল বি দ্য সেকেন্ড পার্ট। তাহলে এখন দাঁড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম আসামি খালেদা জিয়া। এখন দুর্নীতি দমন কমিশন কী করবেন, সেই সিদ্ধান্ত তারা নেবেন। এটা সরকারের ব্যাপার নয়।’ জামিনের আদেশ হলেও তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে না পৌঁছনো পর্যন্ত খালেদা জিয়া মুক্ত হচ্ছেন না জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যদি (হাইকোর্টের) রিটেন অর্ডার থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে সার্টিফাইড কপি যদি ওনারা বলে থাকেন অ্যাডভান্সড অর্ডারের সার্টিফাইড কপি চলে যাওয়ার, তাহলে অ্যাডভান্সড অর্ডারের সার্টিফাইড কপি যাবে। আর যদি উনারা বলে থাকেন আমরা সার্টিফাইড কপি দিলে পরে, তবে সেই আদেশ যতক্ষণ পর্যন্ত না জেলখানায় পৌঁছে আদালতের মাধ্যমে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে রিলিজ করা হবে না।’

গত ৮ জানুয়ারি বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদ- দেন ঢাকার বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। দুর্নীতির মামলায় দেশের সাবেক কোন প্রধানমন্ত্রীর সাজার রায় ছিল এটি প্রথম। রায় ঘোষণার পর থেকেই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে রাখা হয়েছে। এই মামলায় খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদ- দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার করে জরিমানা করা হয়। এরপর রায়ের সার্টিফাইড কপি (সত্যায়িত অনুলিপি) পেয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে জামিনের আবেদনও করা হয়। পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেয়া জরিমানার আদেশও স্থগিত করা হয়। সেই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতের রায়ের নথি পাঠানোর আদেশ দেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ঠিক করেন। পরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ নিম্ন আদালতের নথি আসার পর এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেবেন বলে জানান। কিন্তু মামলার রায়ের সার্টিফাইড কপি বিলম্বে দেয়া, নথি হাইকোর্টে আসতে বিলম্বিত হওয়ায় খালেদা জিয়া আইনজীবী ও বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশে ‘ভিত্তিহীন’ মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার পর জামিনে ‘বিলম্বিত’ করার চেষ্টা করছে। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন, এই মামলা কিংবা রায়ের সঙ্গে সরকারের কোন সম্পৃক্ততা নেই। বরং আইনজীবীদের ভুলের কারণে বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাবাস দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করে আসছেন।

পরে গত বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদেশ অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে নথি আসার সময়সীমা শেষ হয়েছে বলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে (১১ মার্চ) দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। কিন্তু নথি হাইকোর্টে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার কারণে সেদিন সকালে জামিনের বিষয়ে আদেশের দিন পিছিয়ে সোমবার (গতকাল) ধার্য করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে ওইদিনই দুপুরে নিম্ন আদালতের নথিপত্র হাইকোর্টে আসে। এই নথি দেখে খালেদা জিয়ার জামিন দেন উচ্চ আদালত।

প্রসঙ্গত, বিদেশ থেকে আসা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। এতে বিএনপি চেয়ারপাসরন খালেদা জিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া মামলাটির খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানসহ মোট ছয় আসামিকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ। মামলা হওয়ার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায় ছয় আসামির বিরুদ্ধে ফৌজদারি দন্ডবিধির ৪০৯ এবং দুদক আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করে খালেদা জিয়াসহ ছয় আসামির বিচার শুরু করেন। এরপর ২৩৬ কার্যদিবসে ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, ২৮ কার্যদিবস আত্মপক্ষ সমর্থন ও ১৬ কার্যদিবস যুক্তি তর্কের শুনানি শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়।

কুমিল্লার আদালতে খালেদা জিয়াকে হাজির করার নির্দেশ

কুমিল্লা প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় যাত্রীবাহী নৈশকোচে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় ৮ যাত্রী হত্যা মামলায় আগামী ২৮ মার্চ কুমিল্লার আদালতে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পি.ডব্লিউ) ইস্যু করেছেন আদালত। ঢাকার গুলশান থানার একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৫নং আমলি আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক মুস্তাইন বিল্লাহ গতকাল বিকালে এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই আদেশ এরই মধ্যে কুমিল্লার কেন্দ্রীয় কারাগারে দেয়া হয়েছে। কুমিল্লার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তা ঢাকার কারাগারে পাঠানো হবে। সেখানে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আদালত সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লার ৫নং আমলি আদালতে চলমান জি.আর ৫১/১৫ মামলায় যে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছিল তা ইতোপূর্বে ঢাকার গুলশান থানায় প্রেরণ করা হয়। এ মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য গতকাল গুলশান থানার ওসি এ.বি সিদ্দিক স্বাক্ষরিত একটি আবেদন করা হয়। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৫নং আমলি আদালতের বিচারক মুস্তাইন বিল্লাহ আগামী ২৮ মার্চ কুমিল্লার আদালতে খালেদা জিয়াকে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পি.ডব্লিউ) ইস্যুর আদেশ দেন। বিকালে আদালতের আদেশটি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আদালতের এ আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার আদালতের পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি।

মামলার তথ্য বিবরণী থেকে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪০৮০) চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর নামক স্থানে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা বাসটি লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে বাসের যাত্রীরা কোন কিছু বুঝে ওঠার আগে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে ৭ জন ও হাসপাতালে নেয়ার পর ১ জনসহ মোট ৮ ঘুমন্ত যাত্রী মারা যায়। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে পরদিন হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে থানায় পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে ৮ যাত্রী হত্যা মামলাটি কুমিল্লা ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, মনিরুল হক চৌধুরী, জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ ৭৭ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৬ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ ২টি মামলার চার্জশিটে এজাহারবহির্ভূত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের আরও ৩০ জন নেতাকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত ২ জানুয়ারি আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলার আসামি পলাতক ৫৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দারপুল এলাকায় একটি কার্ভাডভ্যানে আগুন দেয়ার ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায়ও বেগম খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে এবং স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের ৩২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ মার্চ কুমিল্লার একই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলায় চার্জশিটের ৩২নং আসামি বেগম খালেদা জিয়া। এনিয়ে কুমিল্লার আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সা’দাত জানান, ৮ যাত্রী হত্যা মামলায় আদালত গতকাল খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পি.ডব্লিউ (হাজিরা পরোয়ানা) ইস্যু করেছেন। অপর ২টি মামলা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত ছিল, কিন্তু পরে এ আদেশটি রহিত (ব্র্যাকেট) হলেও সংশ্লিষ্ট আদালতে ওই আদেশের কপি এখনও পৌঁছায়নি।