• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ ১৪৪০

স্বীকার করলেন ড. কামাল

জামায়াতকে নেয়া ভুল ছিল

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার আহ্বান জানালেন। গতকাল বিকেলে রাজধানীর আরামবাগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান। এসময় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতাদের ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে প্রার্থী করা ভুল ছিল বলে স্বীকার করেন ড. কামাল।

গতকাল গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষে এক লিখিত বক্তব্যে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘তাড়াতাড়ি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত যেসব ভুল-ত্রুটি সংঘটিত হয়েছে, তা সংশোধন করে ভবিষ্যতের জন্য সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’ লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ ঢাকায় দলটির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। গতকালের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় গণফোরামকে আরও শক্তিশালী করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা অনতিবিলম্বে জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন এবং ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে’ জোরদার করা হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জামায়াতকে ছাড়বে কিনা সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অতীতে জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতির চিন্তাও করিনি। ভবিষ্যতেও পরিষ্কার যে, জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতি করব না।’ বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে বলবেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি বলা যেতে পারে।’ এ সময় গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই বিএনপির মহাসচিবকে জামায়াত ছাড়তে বলেছি। তারা বলেছে, জামায়াত ধানের শীষে নির্বাচন করেছে, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে তো নাই। তারপরও আমরা বিষয়টির সুরাহা চাই।’ পরে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে অতীতে যেটা হয়েছে, সেটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। বিএনপি যে ধানের শীষে জামায়াতের ২২ জনকে মনোনয়ন দেবে, সেটি আমরা জানতাম না।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দল ছাড়া আর কেউ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেটা বলছে না। চাইলেও বলা সম্ভব না। এ সময় দেশের স্বার্থে আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান ড. কামাল।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী বিএনপির টিকিট পাবে জানলে তিনি ঐক্যফ্রন্টে অংশ হতেন না। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে কামাল হোসেন বলেছিলেন, ‘আমি যদি আগে জানতাম (যে জামায়াত নেতারা বিএনপির টিকিট পাবে), তবে আমি এর অংশ হতাম না। কিন্তু যদি এই ব্যক্তিগুলো ভবিষ্যতের সরকারে কোন ধরনের ভূমিকা পালন করে, আমি একদিনও থাকব না।’

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপিকে নিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে ওঠে। এরপর থেকেই এ জোটের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী আছে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তোলে। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করা বিএনপির সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের জোট গড়া নিয়ে হয় নানা সমালোচনা। জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করার আগে বিএনপির সঙ্গে জোট গড়ায় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির জনগণ ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিরূপ মন্তব্য করে। প্রশ্ন তোলে এ জোটের কার্যকারিতা নিয়ে। এর প্রেক্ষিতে গণফোরামের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ড. কামাল হোসেন একাধিকবার বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোন সম্পর্ক নেই। জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোন জোট করেনি, জোট করা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। গত ১৪ ডিসেম্বর জামায়াতকে নিয়ে প্রশ্ন করায় এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষেপে যান ড. কামাল হোসেন। এ নিয়ে সারাদেশে সমালোচনারও সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জামায়াতের কোন সম্পর্ক নেই। জামায়াত ২০ দলীয় জোটের অংশীদার। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির সঙ্গে জোট করেছে, জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোন জোট বা রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সুব্রত চৌধুরী, সুলতান মনসুর আহমেদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক প্রমুখ।