• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ ১৪৩৯

আইন-শৃঙ্খলা : মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক

জানমালের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী এই অজুহাতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্তের নামে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পোড়ানো হয়, জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এছাড়া সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শিল্পীমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ সময় খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি উত্তপ্ত হয়- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার অর্থ যদি পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পোড়ানো হয়, জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা হয়Ñ সেখানে কার্যকরী ব্যবস্থা করা দরকার। জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য, মানুষের জীবন রক্ষার জন্য- সেটা অবশ্যই কঠোর হস্তে সরকার দমন করবে।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাজা পাওয়া অন্য আসামিদের বিদেশ থেকে ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নে জবাবে আমির হোসেন আমু বলেন, আইনানুগ সংস্থা এটা দেখবেন। তারা কী করবেন, কীভাবে করবেন এটা তাদের ব্যাপার। এটা মূলত আদালতের ব্যাপার। আইনের ব্যাপারটা আপনারা নিজেরা জানেন, মাল ক্রোক হবে কিনা- এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার না। যারা অনুপস্থিত তাদের মাল ক্রোক হবে কিনা, কীভাবে হাজির করা হবে সবকিছু নির্ভর করে আদালতের উপরে। আদালত যতক্ষণ পর্যন্ত না সিদ্ধান্ত দেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু করার নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উদ্যোগ নিয়ে কিছু করতে যাবে না।

বৈঠকে মাদকের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিচ্ছে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনাও বাড়াতে হবে। এক বছরে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ডাকাতি, খুন ও অপহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলার যথেষ্ট উন্নতি সাধন হয়েছে। আমরা যেটা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন সেটা হচ্ছে মাদক। মাদক পাচার, মাদক ব্যবসায়ী, গড ফাদার সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেয়া তালিকার ভিত্তিতে মোট ৮৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৮ জন কারাগারে রয়েছে। তারপরও আমরা মনে করি এটার ব্যাপারে তৎপর হওয়া প্রয়োজন। সেই তৎপরতাগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি ও আগামীতে এই তৎপরতা আরও বাড়বে। যেহেতু মাদকসেবী বাড়ছে, এটা আমাদের উদ্বেগ। এটি জাতির ভবিষ্যৎ ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় পরিণত হচ্ছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কতগুলো কর্মতৎপরতা নিচ্ছি।

আমির হোসেন আমু বলেন, মাদকের কুফল সম্পর্কে প্রতিটি মসজিদ, স্কুল-কলেজে সবাইকে অবহিত করতে হবে। যাতে এটির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। সেদিকে খেয়াল রেখে আমরা কর্মপন্থা গ্রহণ করেছি। এগুলো কার্যকরের জন্য মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী মিলে মোট ১০ হাজার ১২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব গোয়েন্দা সংস্থা থেকে মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হচ্ছে, সব গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা সমন্বয় করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। তাছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত জঙ্গিবিরোধী ৩২টি বড় অভিযানে ৭৮ জন নিহত হন। শীর্ষ জঙ্গি গ্রেফতার ৬৪ জন। ভিকটিম উদ্ধার ১০৩ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিহত আটজন। এরমধ্যে পুলিশের ছয় জন, র‌্যাবের একজন ও ফায়ার সার্ভিসের একজন। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত জঙ্গি অভিযানে নিহত, নিহতের চেষ্টা, বোমা হামলায় মোট ৮০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চারটির বিচার শেষ হয়েছে, অভিযোগপত্র ২৮টি। প্রায় সব মামলার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে।