• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ ১৪৪০

জাতীয় সংলাপ সবচেয়ে ভালো পথ

ড. কামাল

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে নাটক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এ রকম নির্বাচন খুবই দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, সংকট সৃষ্টি না করে সবার সঙ্গে জাতীয় সংলাপ সবচেয়ে ভালো পথ।

বঙ্গবন্ধু সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, পাকিস্তানি সামরিক সরকার বঙ্গবন্ধুকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। তারা পরোক্ষভাবে বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে নেয়ারও হুমকি দিয়েছে। কিন্তু আমার কাছে অবাক লাগে বঙ্গবন্ধু তাদের এসব হুমকি হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিতেন।

বঙ্গবন্ধু বলতেন আমি মুসলমান, আমার মৃত্যু কপালে লেখা আছে। তাই আমাকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। ড. কামাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যত হুমকি দেয়া হয়েছে তিনি তাতে কোন পাত্তা দেননি। তিনি সবসময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নীতিগতভাবে জনগণের পক্ষে সত্য কথা বলে গেছেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময় ন্যায্য কথা বলতেন এবং পাকিস্তানি সরকারকে বারবার বলেছেন, তোমরা ন্যায্যভাবে কিছু করলে আমরা সমর্থন দিব। কিন্তু কোন অন্যায় আমরা মানবো না, জনগণ মানবে না। ড. কামাল হোসেন বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচন হয়েছিল। ২০১৪ সালে কেউ নির্বাচনে গেলো না। তারা বললো সাময়িকভাবে করা হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন না দিয়ে পাঁচ বছর থাকলো। পাঁচ বছর পরে যখন নির্বাচন আসলো তখন এই প্রহসন দেখতে হচ্ছে। এটাকে বঙ্গবন্ধু বলতেন রাজচালাকি।

তিনি বলেন, আমার খুব দুঃখ লাগে ৩০ ডিসেম্বর যে ঘটনা ঘটলো স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও এটা দেখতে হচ্ছে। আমিতো সরলভাবে বলেছি ভাই সকাল সকাল গিয়ে ভোট দেবেন। কিন্তু টেলিভিশনে বলেছে কামাল হোসেনতো বুঝতেই পারছেন না, ঘটনাতো রাতেই ঘটে গেছে। উনি সকাল সকাল বলছেন।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, তৃতীয়বারের মতো একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন। ৩০০ লোক সংসদ সদস্য হয়ে গেছেন। আর বিরোধীদলে সাতজন, আমাদের দু’জন। এটার অর্থটা কী? ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে কি খেলা করা যায়। তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি থেকে সরে রাজচালাকিতে চলে যাচ্ছি। ৩০ ডিসেম্বর যেটা হয়েছে, সেটা রাজচালাকির একটা সুন্দর উদাহরণ। আমি বলব, এই রাজচালাকি থেকে বিরত থাকেন। সংবিধান অনুযায়ী আলাপ-আলোচনার মধ্যে দিয়ে যা করার করেন। এছাড়া কোন বিকল্প হতে পারে না। কারও জন্য এটা মঙ্গল হবে না। যারা করবে তাদের জন্যও না, যাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হবে তাদেরতো একদমই হবে না।

‘সংকট বা বিরোধ সৃষ্টি করার কোন প্রয়োজন নেই। কেন সংকট সৃষ্টি করছেন। এটা কোন সুস্থ মানুষের করার কথা না। আমি আবার বলছি। সুস্থ মানুষ জেনেশুনে বিরোধ সৃষ্টি করবে কেন। আজ শতকরা একশভাগ মানুষই বলবে, সরকার গঠন করতে হলে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। আসুন বছরের প্রথম দিকে সংকট সৃষ্টি না করে সবার সঙ্গে জাতীয় সংলাপ সবচেয়ে ভালো পথ।

আলোচনাসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব, গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, মোস্তফা মহসিন মন্টু, মেজর জেনারেল অব. আমসা আমিন, মফিজুল ইসলাম কামাল প্রমুখ।