• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

ছেলেকে নিয়ে রাজনীতি চাই না সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের সাজা চাই

আবরারের বাবা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া

| ঢাকা , শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৯

‘আবরার ফাহাদ আমার সন্তান, সে মারা গেছে। তার নিহত হওয়ার ঘটনায় আমরা সবাই ব্যথিত। তবে কেউ তার হত্যা নিয়ে রাজনীতি করুকÑ এটা আমরা চাই না। আমাদের সকলের চাওয়াÑ তার হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করবে।’ আবরারের হত্যাকা- ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে গতকাল দুপুরে গ্রামের বাড়ি কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় বসে কথা হলে আববার ফাহাদের বাবা বরকতউল্লাহ এসব কথা বলেন।

আববারের বাবা বরকতউল্লাহ বলেন, ‘এখন প্রধান প্রধানমন্ত্রী যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, এতে আমরা খুশি। খুনিদের সঠিক বিচার হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এ জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই অমিত সাহা গ্রেফতারেও নিজের সন্তুষ্টির কথা বলেন তিনি।

আববারকে কেন হত্যা করা হলো এবং শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়ানোর বিষয়টি নিয়ে বরকতউল্লাহ বলেন, আবরারকে কেন হত্যা করা হয়েছে, তা আমরা জানি না। হত্যার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিয়ে এটিকে ধামাচাপা দিতে তার রাজনৈতিক পরিচয় দেয়া হয় যে, সে শিবির করে। বিষয়টি আদৌও ঠিক নয়। তিনি বলেন, আবরার এখন আমার একার সন্তান নয়, সারা দেশের মানুষের সন্তান। এখন কোন সিদ্ধান্ত আমি একা নিতে পারি না। ছাত্ররা যেসব যৌক্তিক আন্দোলন করছে, তা বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। দেশের সেরা বিদ্যাপিঠগুলো যদি নিরাপদ না হয়, সেখানে কেউ সন্তান দিতে চাইবেন না। তাই সব উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘের বিবৃতি ও তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন তদন্ত কমিটি করার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। এর পাশাপাশি হলগুলোয় লেখাপড়ার পরিবেশ যাতে নিশ্চিত হয়, এ বিষয়টির দিকেও নজর দেয়া দরকার।

বরকতউল্লাহ বলেন, আববার মারা গেছে। বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন হচ্ছে। সেটি ঠিক আছে। তবে আমরা ছেলেকে নিয়ে কোন রাজনীতি করছি না। কেউ রাজনীতি করুক, সেটিও আমরা চাই না। প্রধানমন্ত্রী যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, এতে আমরা খুশি। তার ওপর আস্থা আছে। দ্রুত বিচার শেষ দেখতে চাই। একজন খুনিও যেন পার না পায়। কোন চাপ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন চাপ নেই। অনেকেই আসছেন, খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে ভিসি বাড়ি পর্যন্ত না এসে ফিরে যাওয়ায় তিনি কষ্ট পেয়েছেন।

বরকতউল্লাহ বলেন, আবরার বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় তার মা এবার মাংস ও রুটি তৈরি করে দিয়েছিল। ওই খাবারও সে ঠিকমতো খেতে পারেনি। খাওয়ার আগেই তাকে পিটিয়ে মারা হয়। তার কক্ষে একটি বাক্সসহ ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল ফোনসেট ছিল। ল্যাপটপটি পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোনসেট দুটি শিক্ষকের কাছে রয়েছে। তার ব্যবহৃত বাক্সটি বাইরে ছিল। আমি লাশ আনতে গেলে তার কক্ষে একবারের জন্য যাই। সেখানে তার জিনিসপত্র সব পড়ে ছিল। এসব স্মৃতি হিসেবে ফেরত চাই।

আববারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, এক ছেলেকে হারিয়েছি। আরেক ছেলেকে হারাতে চাই না। আববার ফাহাদ হত্যার সঠিক বিচার চাই। খুনিরা যেন পার না পায়।

আবরারের দাদার আক্ষেপ : আবরারের দাদা আবদুল গফুর বিশ্বাসের বয়স ৮৭ বছর। চোখে কম দেখেন, কানেও ঠিকমতো শুনতে পান না। তবে নাতিকে মারার পর তিনি অনেকটা পাগলের মতো হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আহারে, ওরা আমার নাতিকে পিটিয়ে মেরেছে। খুব কষ্ট দিয়ে মেরেছে। আমার নাতির কী অপরাধ! সে নাকি বলেছিল পদ্মা নদী বর্ষাকালে শুকিয়ে যায় আর বর্ষায় আমাদের পানি দিয়ে ডুবিয়ে দেয়। এ কথা তো সকলে কই। তার জন্য তাকে এভাবে মাইরে ফেলা হলো। ও আল্লাহ, আল্লাহরে, তুমি এর বিচার করবা। তোমার কাছে বিচার দিলাম।

আমার নাতি নাকি শিবির করে। সে কোন দল করে না। লেখাপড়া ছাড়া সে কিছু বুঝত না।’

পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় এমপির সাক্ষাৎ : বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ নিহত আবরার ফাহাদের মা-বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে দেখা করেন। সেখানে ২০ মিনিটের মতো অবস্থান করে পরিবারকে সমবেদনা ও সান্ত¡না দেন তিনি। খুনিদের কঠোর শাস্তি হবে বলেও পরিবারকে আশস্ত করেন। এছাড়া জেলা বিএনপি সভাপতি মেহেদী আহমেদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম-উল হাসান অপু দেখা করে সমবেদনা জানান। এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন এসে আববারের মা-বাবাকে সমবেদনা ও সান্ত¡না দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।