• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

ছুটি বাড়ল ১৬ মে পর্যন্ত

ঈদের ছুটিতে কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না শর্ত সাপেক্ষে ১০ মে থেকে শপিংমল খোলা রাখা যাবে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২০

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে শর্তসাপেক্ষে সাধারণ ছুটি আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া ঈদুল ফিতরের ছুটিতে আন্তঃজেলা পরিবহন বা দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঈদের ছুটিতে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না। শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট এবং ১০ মে থেকে শপিংমল খোলা রাখা যাবে। নির্দেশনা দিয়ে একটি আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. ছাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। নির্দেশনাগুলো প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৪ বা ২৫ মে দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় এবার যে যে এলাকায় অবস্থান করছেন সেখানেই ঈদ উদযাপন করতে হবে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

আদেশে বলা হয়, ১. সরকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৫ মে’র পর শর্তসাপেক্ষে ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৭ মে থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি/চলাচলে নিষেধাজ্ঞা/সীমিত করা যেতে পারে। ৬ মে’র বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি ৮ ও ৯ মে এবং ১৫ ও ১৬ মে’র সাপ্তাহিক ছুটিও এরসঙ্গে যুক্ত হবে। এ সময় সব মন্ত্রণালয় বিভাগ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসসমূহ প্রয়োজনানুসারে খোলা রাখবে সেই সঙ্গে তাদের অধিক্ষেত্রের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটিতে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না ওই সময় আন্তঃজেলা পরিবহন বন্ধ থাকবে।

২. সাধারণ ছুটি/চলাচলে নিষেধাজ্ঞাকালে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় এবং এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। জেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই নিয়ন্ত্রণ সতর্কভাবে বাস্তবায়ন করবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধকল্পে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে আসা যাবে না, এই ছুটি চলাচল/নিষেধাজ্ঞাকালীন জনগণ ও সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারিকৃত নির্দেশমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে ।

৩. রমজান এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। তবে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। বড় বড় শপিংমলের প্রবেশ মুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহন অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। দোকানপাট এবং শপিং মলগুলো অবশ্যিকভাবে বিকেল ৫টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

৪. সাধারণ ছুটি/নিষেধাজ্ঞাকালীন জরুরি পরিসেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির বাইরে থাকবেন। সড়ক ও নৌপথে সব প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন (ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল প্রভৃতি) চলাচল অব্যাহত থাকবে। কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্পপণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে না।

৫. চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) এবং ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কে নিয়োজিত কর্মীরা সাধারণ/চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আওতা বহির্ভূত থাকবেন।

৬. ওষুধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সব কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রণীত ‘বিভিন্ন শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চতকরণে নির্দেশনা প্রতিপালন’ নিশ্চিত করতে হবে।

৭. পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে শিল্প-কারখানা, কৃষি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে।

৮. ছুটিকালীন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। রমজান, ঈদ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা বিবেচনায় ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।