• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১

চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

image

  • চালের মূল্যবৃদ্ধির কোন কারণ নেই : খাদ্যমন্ত্রী
  • একে অপরকে দোষারোপ ব্যবসায়ীদের

বছরের শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে চালের বাজার। প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা। নির্বাচনের আগে যে চালের দাম ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ৫৭ টাকা। এ অবস্থায় খুচরা বিক্রেতা ও মিল মালিকরা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। তবে বাজার খুব দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাঝারি মানের চালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বিআর-২৮ ও লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৩ থেকে ৪৭ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ টাকা। মোটা চাল কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ নির্বাচনের আগে মোটা চাল ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। সে হিসেবে প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা।

ক্রেতাদের অভিযোগ, মিল মালিকরা সিন্ডিকেট তৈরি করে চালের দাম বাড়াচ্ছে। অপরদিকে মিল মালিকদের দাবি, চালের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারের নির্ধারিত দামেই তারা চাল বিক্রি করছেন। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা দাবি করছেন, তারা বেশি দামে চাল কিনছেন। তাই দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। ব্যবসায়ীদের একপক্ষ বলছেন, নির্বাচনের পরে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে সপ্তাহখানেকের মধ্যে দাম স্বাভাবিক হবে।

গত বৃহস্পতিবার চাল ব্যবসায়ী সমিতি, আড়তদার ও অটো চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খাদ্যমন্ত্রী। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ বছর আমন ও বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে অযৌক্তিক কারণে অস্বাভাবিকভাবে চালের দাম বৃদ্ধির কোন সুযোগ নেই। দেশ হিসেবে অনেক আগে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। ইতোমধ্যে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি চাল ও খাদ্যশস্য মজুদ আছে। তারপরও চালের দাম বাড়বে কেন? আমরা সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। খুব তাড়াতাড়ি বিষয়টির সমাধান হবে। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমি ও খাদ্যমন্ত্রী মিল মালিকসহ এই ট্রেডের সঙ্গে যুক্ত সবার সঙ্গে বসে কথা বলেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে দাম কমে আসবে। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি বিষয়টি সমাধান হবে।

ঢাকার খিলগাঁয়ের তালতলা মার্কেটের এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, তিন-চারদিন থেকে চালের দাম বেড়েছে। প্রথমে রশিদ, এরপর একে একে সব কোম্পানি চালের দাম বাড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ২৬০০ থেকে ২৬৫০ টাকা। এখন সেই চাল বিক্রি করছি ২৭৫০ টাকায়। ১৯৫০ টাকা বিক্রি করা বিআর-২৮ চালের বস্তা এখন বিক্রি করছি ২২৫০ টাকায়। হঠাৎ কী কারণে চালের দাম বাড়ল কিছুই বুঝতে পারছি না। মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়েছেন। এর আগে চালের দামের সবচেয়ে অস্বস্তিকর সময় ছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস। ওই সময় খুচরা বাজারে মোটা চালের দর কেজিপ্রতি ৫০ টাকায় উঠেছিল। আর চিকন চাল উঠেছিল কেজিপ্রতি ৬৫ টাকায়। এরপর বাড়তি আমদানি ও ২০১৮ সালের শুরুতে বোরোর মৌসুমের ভালো ফলনে চালের দাম কমে।

মতবিনিময় সভায় নওগাঁ জেলা চালকল মালিক নেতা নায়েব আলী বলেন, আমরা জাস্ট ধান ক্রয় করে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে চাল বিক্রি করি। এখানে সামান্য লাভ রেখে আমরা চাল ছেড়ে দেই। চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের ওপর বর্তায় না। এটা প্রতিরোধে খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতি নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ অটোমেইল অ্যান্ড হাস্কিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, ধানের দামও বাড়েনি, চালের দামও বাড়েনি। ভোটের সময় একটু গ্যাপ ছিল। সবাই ভোটের মাঠে ছিল। সেই সময় হয়তো ধানের আমদানি কমেছে, চাল উৎপাদন কমেছে। এটা একদিনের বা দুই দিনের হতে পারে। নওগাঁ ধান-চাল আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি নিধর বরণ সাহা চন্দন বলেন, দাম বাড়ার যে কথা বলা হয়েছে এমন পরিস্থিতির ক্ষেত্র দেশে তৈরি হয়নি। নির্বাচনের কারণে কোন কোন জায়গায় কিছুটা ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে এসিআই এগ্রি বিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এফএইচ আনসারী বলেন, চালের দাম বাড়া কৃষকদের জন্য ইতিবাচক। কৃষক ধান চাষ করে লাভবান না হলে ধান চাষে উৎসাহিত হবে না। কৃষক ধান চাষ না করলে আমাদের দেশের ধান উৎপাদন কমে যাবে। তখন আমাদের চাল আমদানি করতে হবে। আমদানিনির্ভরতা বেড়ে গেলে সেটা আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর। এখন চালের দাম সাময়িক বেড়েছে। এটা মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যেই রয়েছে। তবে এক শ্রেণীর মানুষ মিলারদের দোষারোপ করে বলছে মিলারদের কারসাজিতে চালের দাম বাড়িয়েছে আসলে তা সঠিক নয়। কারণ আমাদের (এসিআই) চালকল আছে।