• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৯ রমজান ১৪৩৯

রূপা ধর্ষণ ও হত্যা

চার জনের মৃত্যুদন্ড একজনের কারাদন্ড

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, টাঙ্গাইল

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

image

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে চার জনের ফাঁসি ও এক জনের সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এ রায় প্রদান করেন।

ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তরা হলো- ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫), জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫)। অপর আসামি বাসের সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। তাদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। এ ছাড়া এ মামলার অপরাধে নিয়োজিত নিরাপদ ছোঁয়া পরিবহনের বাসটি ব্যবহৃত হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারানুসারে গাড়িটি সম্পূর্ণ নির্দায় অবস্থায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভিকটিমের পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। মামলার আসামিরা প্রত্যেকেই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছে। ঘটনার ৬ মাসেই এ মামলার রায় প্রদান করা হলো।

টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গত সোমবার বেলা ১১টা ৭ মিনিটের সময় বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। আদালতের বিচারক সাত মিনিটব্যাপী রায় পড়ে গত বছরের ২৬ আগস্ট মধুপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। ১৩ নভেম্বর মামলাটি আদালত গ্রহণ করে। ২৩ নভেম্বর মামলাটি আদালত আমলে নেয়। ২৯ নভেম্বর অভিযোগ গঠন হয়। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। নয় কর্মদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর আসামিদের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সর্বশেষ তিন কার্যদিবসে মামলার যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। মামলার মোট ১৪ কার্যদিবসে ৭৩ পৃষ্ঠার রায় দেন আদালত।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে কলেজছাত্রী রূপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে ঘাড় মটকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় ২৫ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রূপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় মহিলা হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্তানে দাফন করে। গত ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করে পুলিশ।

আদালতের পরিদর্শক আরও জানান, অজ্ঞাতনামা মহিলার মরদেহ হিসেবে পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর দেখে নিহতের বড় ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় তার বোনের ছবি দেখে শনাক্ত করেন। পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের গাড়িটি জব্দ করে এবং আসামিদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। আসামিরা স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাইয়ুম খান সিদ্দিকী মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ৩২ জনকে এই মামলায় সাক্ষী করা হয়। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণকারী চারজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সুরতহাল রিপোর্ট ও জব্দ তালিকাসহ সর্বমোট ২৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি একেএম নাছিমুল আক্তার ও মামলার আইনজীবী এস আকবর খান বলেন, এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- হওয়ায় সকলেই খুশি। এ রায়ের মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম চৌধুরী দয়াল বলেন, আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন করব।

নিহত রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, এ রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি। এ রায় শোনার পর আদালত প্রাঙ্গণে নিহত রূপার ছোট বোন পপি মূর্ছা যান।

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো মানববন্ধন করেছে। মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান মানবাধিকার কর্মীরা।