• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ জিলহজ ১৪৪০

চামড়া সন্ত্রাস ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

সংবাদ :
  • মাসুদ রানা

| ঢাকা , রোববার, ১১ আগস্ট ২০১৯

কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া নিয়ে যেকোন ধরনের সন্ত্রাস ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া পাড়ামহল্লায় চামড়া বেচাকেনা নিয়ে মহল্লার সিন্ডিকেট চক্র (ক্যাডাররা) যাতে বিশৃঙ্খলা বা জোর করে কমদামে চামড়া কিনে নিতে না পারে তার জন্য এবার নতুন কৌশল নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে চামড়া যাতে সীমান্ত দিয়ে পাচার না হয় তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চলছে। চামড়া বোঝাই যানবাহন সীমান্তমুখী না হয়ে ঢাকামুখী করার জন্য সীমান্ত এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঢাকার চারপাশে থাকবে কড়া সতর্কতা।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বছর কোরবানির ঈদে বহু গবাদী পশু কোরবানি দেয়া হয়। ঈদের সময় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীচক্র সিন্ডিকেট করে কম দামে চামড়া কেনার চেষ্টা করে। অনেকেই কলোনি ও মহল্লায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে কমদামে চামড়া কিনে নেয়ার চেষ্টা করে। মহল্লার ক্যাডারদের ভয়ে অনেকেই কম দামে চামড়া বিক্রি করে দেয়। এসব ক্যাডারা চামড়া সংগ্রহের জন্য এখন থেকে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া অনেকেই নানাভাবে সীমান্ত এলাকায় চামড়া নিয়ে পাচার করার চেষ্টা করে। যার কারণে চামড়া নিয়ে সন্ত্রাস ও পাচার ঠেকাতে ঢাকা থেকে যাতে কোন চামড়াবোঝাই গাড়ি বাইরে যেতে না পারে তার জন্য সবধরনের ব্যবস্থা নেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ডিএমপির একজন ডিসি বলেন, ঈদের সময় চামড়া কেনাবেচা নিয়ে প্রায় বিশৃঙ্খলা হয়। মহল্লা বা এলাকার প্রভাবশালীরা সিন্ডিকেট করে ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা মূল্যের চামড়া ৪শ’/৫শ’ টাকা জোর করে হাতে দিয়ে চামড়া নিয়ে যায়। এভাবে চামড়া বেচাকেনা নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এটা প্রতিরোধে এখন এলাকায় নির্দিষ্ট মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে দেয়া হবে। পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবে।

গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র জানায়, কোরবানির পশুর চামড়া যেন বাইরে না যায় তার জন্য রাজধানীর অদূরে সাভার, জয়দেবপুর চৌরাস্তা, কাঁচপুর ব্রিজ, আশুলিয়া ও সরদারঘাট নদী পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী কয়েক দিন কোন চামড়ার ট্রাক রাজধানীর বাইরে যেতে দেয়া হবে না। তবে ঢাকার বাইরে থেকে চামড়াবাহী ট্রাক, ট্রলার ঢাকায় ঢুকতে পারবে।

চামড়া পাচারের একধিক রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। রুটগুলো হলো, যশোর, খুলনা, সাতীরা, পাটকলঘাট, কালীগঞ্জ এবং রাজারহাটের চামড়া যশোরের বেনাপোল ও সাতীরার কলরোয়া দিয়ে,ঝিনাইদহ, মাগুরা, শৈলকুপা, কোটচাঁদপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, দৌলতপুর, মেহেরপুর ও দর্শনা সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়। নাটোর এলাকার চামড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী দিয়ে পাচার হয়। সিলেট এবং মৌলভীবাজার জেলার চামড়া জাফলং তামাবিল এবং করিমগঞ্জ দিয়ে পাচার হয়। দিনাজপুর এবং ঠাকুরগাঁও জেলার চামড়া ওই দুই জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে পাচার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।