• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

চট্টগ্রামে মার্কেট খোলা না রাখার ঘোষণা মানছে না কেউ

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলছে বেচাকেনা মালিক-দোকান কর্মচারী গ্রেফতার

সংবাদ :
  • নিরুপম দাশগুপ্ত, চট্টগ্রাম ব্যুরো

| ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২০

চট্টগ্রামে মার্কেটগুলোতে মানা হচ্ছেনা কোন প্রকারের স্বাস্থ্যবিধি। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলছে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই। দোকান খোলা রাখলেও নেই কোন স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা। যে যার ইচ্ছেমত শপিং করছে। এতে করোনা সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন জনসাধারণ। এর আগে সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে ১৭টি স্বাস্থ্যবিধি মানতে না পারলে দোকান মার্কেট না খোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন মালিক সমিতি। ওই বৈঠকে এক প্রকার নগরীর সব মার্কেট খোলা রাখবে না বলে ব্যবসায়ী নেতারা অঙ্গীকারও করেছিলেন। তবে কেউই যেমন মানছে না স্বাস্থ্যবিধি, তেমনি রাখেননি সেই কথা।

এদিকে কোতোয়ালীতে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দোকানে বেচা বিক্রি করায় সতর্ক করার তিন দিন পর এসে গ্রেফতার হলেন দোকান মালিকসহ এক কর্মচারী। এসময় আরও ৭ দোকানের মালিক-কর্মচারীকে থানায় আনলেও পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

এছাড়া রিয়াজউদ্দিন বাজারের ৯০ শতাংশ এবং টেরিবাজারের ৫০ শতাংশ দোকানের অর্ধেকের শার্টার খোলা থাকতে দেখা গেছে। সমিতির নেতারা বলছেন, আমাদের কথা না শুনে কিছু দোকানি দোকান খোলা রেখেছে।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। তারা আমাদের সঙ্গে ‘টম এন্ড জেরি’ খেলছে। আমরা অভিযানে গেলে দোকান বন্ধ থাকে, আবার চলে আসলে দোকান খুলে দেয়। তারপরও আমাদের একটি টিম পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে।

গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে সরেজমিন দেখা গেছে, তামাকুমন্ডী লেইন, বাহার লেইন আরএস রোডসহ বেশ কয়েকটি মার্কেট খোলা রেখেছে দোকানদাররা। তারা দোকানের অর্ধেক শার্টার খুলে ভেতরে আলোকসজ্জা রেখে বেচাকেনা করছেন। অথচ কোন দোকানদারকে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে তৎপর হতে দেখা যায়নি। সবাই যে যার মত ব্যস্ত। যার মধ্যে- আরএস রোডের রেখ মনে, আল-আমিন ফেব্রিক্স, পাঞ্জাবি ভাণ্ডার, ফাতেমা কালেকশন, বিউটি জোন, কিড্স ফ্যাশনসহ বেশ কয়েকটি দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে।

এছাড়াও তামাকুমন্ডী লেইনের আবদুল লতিফ সুপার মার্কেটের কিছু দোকান খোলা ছিল। একই অবস্থা ছিল নগরীর টেরিবাজারেরও। বেশ কিছু দোকানের অর্ধেক শার্টার খোলা ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী জানান, গ্রামীণ উপজেলা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে পাইকারি দামে কাপড়-চোপড় নিতে আসছেন। তার পাশাপাশি শহরের অনেকে শপিং করার জন্য আসছেন। আমাদের সওদাগরে (ব্যবসায়ী) আসতে বলেছে বলেই গ্রাম থেকে এসেছি, তা না হলে গ্রামেই থাকতাম।

আরেক দোকানি জানালেন, সমিতি থেকে দোকান বন্ধ রাখতে বলা হলেও স্টাফ সেলারি দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই দেয়ালে পিঠ ঠেকছে বলেই দোকান খুলেছি। আমাদেরও ইচ্ছা বাড়িতে বসে থাকি। সবকিছু বন্ধ রাখলে খাবো কি?

তামাকুমন্ডী লেইন বণিক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত মতে আমার আওতাধীন ১১০টি মার্কেট বন্ধ রাখা হয়েছে। যারা দোকান খুলছে, তারা আমাদের কথার অবাধ্য হয়ে দোকান খুলছেন। আর আমার তামাকুমন্ডী লেইন বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা যদি নিজেরাই সচেতন না হন, আমার কি করার আছে।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন আরও বলেন, চলমান করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) এর দ্বারা সংক্রমিত ব্যাধি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার ফলে তা নানা বাহকের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকার সংক্রামক ব্যাধি থেকে জনগণকে মুক্ত রাখার জন্য প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এরপরও সরকার ঘোষিত লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দোকান তথা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে সংক্রমণ ঘটানোর চেষ্টা চলছে অনেক স্থানে। পুলিশও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক অভিযান চালিয়ে সর্তক করছে প্রতিনিয়ত। ওসি মহসীন আরও জানান, গত ১৩ মে একবার সতর্ক করার পরও দোকানদাররা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এরকম খবর পেয়ে আমতলের ইলেকট্রনিকস মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের একটি দল। তখন দেখা যায়, এই মহামারী দুর্যোগেও হাতে, মুখে এবং শরীরে কোন ধরনের স্বাস্থ্যগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দোকানদারি করছেন তারা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জীবন বিপন্নকারী রোগের সংক্রামক ( কোভিড-১৯) দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে মর্মে স্বীকার করেন। তারা ইচ্ছাকৃত ও জ্ঞাতসারে এই মহামারী সংক্রামক ব্যাধির ক্রান্তিলগ্নে নিজ বাসস্থান থেকে এসে দোকান খুলেছে বলে স্বীকার করেন। ফলে তারা নিজ মুখে দোষ স্বীকার করায় এবং সরকারি আদেশ অমান্য করায় ১৮৬০ সালের পেনাল কোড-এর ২৬৯ ধারার অপরাধ করেন। এ ঘটনায় এসআই বোরহান উদ্দীন একটি মামলা দায়ের করেন বলে জানান কোতোয়ালী থানার ওসি।