• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

গৃহবধূ বুবলি হত্যার আসামি বন্ধুকযুদ্ধে নিহত

চট্টগ্রামে বাড়ছে একের পর এক খুন

তিনটি খুনই প্রকাশ্যে

সংবাদ :
  • নিরুপম দাশগুপ্ত, চট্টগ্রাম ব্যুরো

| ঢাকা , সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

চট্টগ্রাম মহানগরীতে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে নগরীতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন তিনজন। প্রতিটি খুনই হয়েছে প্রকাশ্যে। নগরীতে হঠাৎ খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে উঠেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উত্তর কাট্টলীর বড় কালীবাড়ি এলাকায় নেশাগ্রস্ত এক ব্যক্তির এলোপাতাড়ি বঁটির কোপে সন্ধ্যা রাণী বণিক (৭০) নামে এক বৃদ্ধা খুন হয়েছেন। ওই রাতে বহদ্দারহাট এলাকায় নিজের ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে খুন হন মোস্তাক আহমদ (৪৫)। এছাড়া গত শনিবার রাতে বাকলিয়া থানার বলিরহাট এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গৃহবধূ বুবলি আক্তার (৩৫) খুন হন। তবে এই খুনের প্রধান আসামি শাহ আলম পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এভাবে একের পর এক খুনের ঘটনায় নগরবাসী উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

জানা গেছে, মহানগরীর বাকলিয়া থানার বলিরহাট এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গৃহবধূ বুবলি আক্তার (৩৫) খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি শাহ আলম পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোরে বাকলিয়া থানার বলিরহাট কর্ণফুলী নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বাকলিয়া থানার ওসি চার পুলিশ সদস্য। বুবলি খুনের ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলো নিহত শাহ আলমের ভাই নুরুল আলম ও সহযোগী মো. নবী। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, গৃহবধূ বুবলি খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, শাহ আলমকে গ্রেফতারে অভিযানে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে শাহ আলম ও তার সহযোগীরা। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহ আলমকে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওসি নেজাম উদ্দিনসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফ। উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি দিয়ে বুবলি আক্তারকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত শনিবার রাতে বলিরহাট এলাকায় গুলিতে নিহত হন বুবলি আক্তার। ঘটনার পর পুলিশ জানান, বুবলি আক্তারের ভাই রুবেলের সঙ্গে স্থানীয় শাহ আলমসহ কয়েক যুবকের পূর্বশত্রুতা ছিল। রাতে শাহ আলম ও তার লোকজন রুবেলকে মারতে আসে। তখন তারা বুবলি আক্তারকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

এর আগে নেশাগ্রস্ত এক ব্যক্তির এলোপাতাড়ি বঁটির কোপে সন্ধ্যা রাণী বণিকের (৭০) মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উত্তর কাট্টলীর বড় কালীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনায় নিহত সন্ধ্যা রাণী ওই এলাকার ধীরেন্দ্র বণিকের স্ত্রী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে টিংকু দত্তের (৪৫) অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আকবর শাহ থানার ওসি জসিমউদ্দিন জানান, স্থানীয় সুনীল ঘোষের সন্তান এলএমএফ চিকিৎসক সত্যজিৎ ওরফে ববি ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা আসক্ত ছিল। এ জন্য অতীষ্ঠ হয়ে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে সন্তানসহ বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর থেকে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইয়াবা সেবন করে সত্যজিৎ নিজের ঘরের তোষকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ধোঁয়ার সৃষ্টি হলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে সাহায্য করতে। সত্যজিৎ হঠাৎ করে ঘর থেকে বঁটি হাতে বের হয়ে লোকজনকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই সন্ধ্যা রাণী মারা যান। আহত হন আরও চারজন।

ওসি জানান, এরপর জনরোষ থেকে বাঁচতে সত্যজিৎ পুকুরে ঝাঁপ দেন। পুকুরে স্থানীয় লোকজনের ছোড়া ঢিলে সে আহত হয়। তারা তাকে পুকুর থেকে তুলে গণপিটুনি দেয়। এ ঘটনায় আহত শান্তি নন্দী (৭০), দীপক দত্ত (৪৮), টিংকু দত্ত (৪৫) ও প্রবীর তালুকদার (৪০) চিকিৎসাধীন।

এদিকে গত শুক্রবার রাতে মুরাদপুর এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন মোস্তাক আহমদ (৪৫)। তিনি সাতকানিয়া উপজেলার দেওয়ান মাহমুদের ছেলে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জনতার গণপিটুনিতে আহত হন ছুরিকাঘাতকারী শাহাদাত।

সিএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক বলেন, মুরাদপুরের পিলখানা এলাকার সাতকানিয়া স্টোরের সামনে কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে মোস্তাক আহমদ নিহত হন। এ ঘটনায় শাহাদাতকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, ওই এলাকায় আড্ডা দেয়া নিয়ে মোস্তাক আহমদের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় যুবকদের ঝগড়া হয়। পরে এর রেশ ধরে মোস্তাক আহমদের সঙ্গেও তাদের কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মোস্তাক আহমদকে ছুরিকাঘাত করে শাহাদাত। গুরুতর আহত মোস্তাককে চমেক হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।