• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ মহররম ১৪৪২, ১২ আশ্বিন ১৪২৭

চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে গেছে ক্রীড়া ক্লাবগুলো

গাঢাকা দিয়েছে ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনাকারীরা

সংবাদ :
  • চট্টগ্রাম ব্যুরো

| ঢাকা , সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সম্প্রতি ঢাকায় অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনো থেকে যুবলীগ নেতা আটকের পর থেকে চট্টগ্রামে নতুন আতঙ্ক শুরু হয়েছে জুয়ার আসর পরিচালনাকারীদের। বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীর ক্লাবগুলো সেই আতঙ্কে বন্ধ রয়েছে। তবে মহানগরীর বিভিন্ন ক্লাবের অধীনে চলে আসা জমজমাট জুয়ার ও মাদকের আড্ডাখানায় কয়েকটি অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইতোমধ্যে অভিযান আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেছে বৃহত্তম জুয়ার আসর বসা হালিশহর আবাহনী ক্লাব, সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাব, মাদারবাড়ি এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ও মোহামেডান ক্লাব। এদিকে নগরীতে তিন ক্লাবে জুয়ার আসর বন্ধের কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, নগরীর তিনটি ক্লাব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারমধ্যে হালিশহর আবাহনী ক্লাব, সিআরবি এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব ও সদরঘাটের মোহামেডান ক্লাব। তবে নগরীর কোথাও যদি এভাবে ক্লাবের নামে জুয়ার আসর, মাদক সেবনের অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরেজমিন দেখা যায়, চট্টগ্রামের আবাহনী ক্লাবে কোন মানুষের আনাগোনা নেই। সেখানে কয়েকজন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকলেও গতকাল ক্লাবের কোন কর্মকর্তা আসেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আনসার সদস্য বলেন, রাজধানী ঢাকার ক্যাসিনো থেকে যুবলীগ নেতা গ্রেফতার করার পর থেকে অনেকটা আনাগোনা কমে গেছে ক্লাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবাহনী ক্লাবে যারা আসেন তাদের বেশিরভাগই প্রভাবশালী। ক্লাবটি চট্টগ্রামের বৃহত্তর একটি ক্লাব, যেখানে নিয়মিত চলে জুয়ার আসর। এখানে নিয়মিত চলে জুয়ার টাকার লেনদেন, যা অনেক সময় ছাড়িয়ে যায় কোটি টাকারও ওপরে। হালিশহর আবাহনী ক্লাবটির জুয়ার আসর মূলত নিয়ন্ত্রণ করেন নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সালেহ আহমদ দীঘল। সে হালিশহর বি-ব্লকের বাসিন্দা।

অন্যদিকে নগরীর সদরঘাট থানার আইস ফ্যাক্টরি রোডের কলেজিয়েট স্কুলের পাশে থাকা হামদর্দের পাশে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র নামের একটি ক্লাব। সেখানে নিয়মিত জুয়ার আসর ও মাদকসেবনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় যুবলীগ নেতা আতাউল্লাহ নামের একজন এ ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানা গেছে। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ক্লাবটিতে অবস্থান নেয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব। একই সময়ে সদরঘাটের মোহামেডান ক্লাবেও অবস্থান নেয়।

এছাড়াও নগরীর সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিস ও ক্যান্টিনে সন্ধ্যার পর হলেই বসে জুয়ার আসর। সেখানেও নিয়মিত আসর চললেও এতদিন প্রশাসন নিরব থাকে। কারণ রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাস্টার লোকমান হোসেন নামের এক রেলওয়ে নেতা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। সিআরবি এলাকার বয়লার কলোনি এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে ক্যাসিনো। কথিত যুবলীগ নেতা মকবুল আহমদ নামের একজন এটি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করেন। তার জন্য রয়েছে আলাদা একটি বাহিনী। যারা সার্বক্ষণিক বাইরে পাহারায় থেকে নিরাপত্তা দেবে ক্যাসিনোতে আসা জুয়াড়িদের। এ ক্যাসিনোতে রাতদিন চলে জুয়ার আসর। সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে এটি চললেও নীরব স্থানীয় প্রশাসন। এর কারণ হিসাবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন ক্যাসিনো থেকে পুলিশ ফাঁড়িতে ভাগ যায় টাকার।

এছাড়া নগরীর নগরীর ডিসি রোড এলাকার জামাল বিল্ডিংয়ে স্থানীয় ঈসা, তার দুই ছেলে ফরহাদ ও আহাদ একটি ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করেন। চকবাজার মো. আলী শাহ মাজার এলাকায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন নামে একজন আরেকটি ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করেন। এসব ক্যাসিনো থেকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে। চকবাজার চট্টেশ্বরী রোড ও সিরাজ উদ্দৌলা রোডে চকবাজার ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতা সভাপতি নুর মোস্তফা টিনুকে মাসোহারা দিয়ে চলছে দুটি জুয়ার আসর। শান্তিনগর বগার বিল এলাকায় চোরদের গডফাদার হিসাবে গ্রেফতার হওয়া বাকলিয়া থানা শ্রমিক লীগের একটি অংশের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমদ সেলুর ভাই খোকনসহ কয়েকজন এটি নিয়ন্ত্রণ করেন। আর এটি পরিচালনা করতে গিয়ে নিয়মিত মাসোহারা দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের নেতা আমজাদ ও তরিকুল ইসলাম রানা।

এছাড়াও একে খান মোড় এলাকায় একটি ভবনের তিনতলা ও চারতলা ভাড়া নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক ক্লাব নাম দিয়ে জুয়ার আসর বসানো হয়েছে। প্রতিদিন শতাধিক লোক সেখানে জুয়া খেলে ও মাদক গ্রহণ করে। বায়েজিদের আমিন কলোনি এলাকার আশপাশে অন্তত ছয়টি স্থানে জুয়ার আসর বসে। আমিন কলোনি বেলতলা এলাকায় আবুল হোসেন ও স্বপন নামে দুজন তিনটি জুয়ার স্পট চালান। বেলতলা এলাকায় আলমগীর নামের এক যুবকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আশপাশের অনেকে অনলাইনে বাজি ধরেন। এছাড়া আমিন কলোনির মাঠ এলাকায় জাহাঙ্গীরের দুই তলা বাড়িতে জুয়া চলে। টেক্সটাইল জিএম বাংলো পাহাড়ের ওপর, বিআরটিসি সংলগ্ন জামতলা বস্তি, ষোলশহর রেলস্টেশন ও জিআরপি থানা সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি দোকানে জুয়া ও মাদকের আসর বসে বলে অভিযোগ রয়েছে।