• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

চট্টগ্রামে খাতুনগঞ্জে পিয়াজের ডিপোতে অভিযান

সংবাদ :
  • নিরুপম দাশগুপ্ত, চট্টগ্রাম ব্যুরো

| ঢাকা , বুধবার, ০২ অক্টোবর ২০১৯

বাড়তি দাম আর ক্রেতা কমে যাওয়ার সুযোগে ব্যবসায়ীরা পিয়াজের মজুদ করছেন। চড়া দামে বিক্রির আশায় মজুদের উদ্দেশ্যে আড়তদার ও পাইকারি বিক্রেতারা বাড়তি দাম হাঁকিয়ে পিয়াজের বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে, ভারত থেকে রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে খুচরা বিক্রেতারা আর পিয়াজের বাজারমুখী হচ্ছেন না। তবে গুদামে প্রচুর পরিমাণ পিয়াজ মজুদ থাকলেও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে পাইকাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরাও নেমেছেন অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে খাতুনগঞ্জের পিয়াজের বাজারে অভিযান শুরু করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম এবং মো. আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়।

অভিযানে খাতুনগঞ্জে পিয়াজের আড়তদার মেসার্স হাজী অছিউদ্দিন সওদাগর, মেসার্স আবদুল আউয়াল, মেসার্স শাহজালাল ট্রেডার্স, বাগদাদী করপোরেশন এবং এসএন ট্রেডার্সে পিয়াজের ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য খতিয়ে দেখা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, খাতুনগঞ্জে পিয়াজের আড়তগুলোতে মায়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পিয়াজ ক্রয়মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। কয়েকটি আড়ত মায়ানমারের পিয়াজ ৪২ টাকায় কিনলেও বিক্রি করেছে ৭৫-৮০ টাকায়। কয়েকটি আড়ত গত মাসে ভারতের পিয়াজ ৪২ থেকে ৬০ টাকায় কিনলেও এখন বিক্রি করছে ৯০ টাকায়।

তিনি বলেন, প্রথম দিনের অভিযানে আমরা পিয়াজের আড়তদারদের সতর্ক করেছি। পিয়াজের দাম কৃত্রিমভাবে যাতে না বাড়ানো হয়, সেদিকে ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তারাও আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। কিছু সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন। আমদানিকারকরা পিয়াজের দাম তাদের কাছ থেকে বাড়তি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা সতর্ক করেছি। এতে যদি ব্যবসায়ীরা সতর্ক না হয়, কৃত্রিমভাবে পিয়াজের দাম বাড়ানো হয়, ফের অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেবে জেলা প্রশাসন।

ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম জানান, পিয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতা চলছে। চট্টগ্রামের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। পিয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে কোন অসাধু ব্যবসায়ীর হাত রয়েছে কিনা- তা খতিয়ে দেখতেই আমরা অভিযান চালিয়েছি।

খাতুনগঞ্জের বড় পিয়াজের বাজার হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, আমাদের মার্কেটে আমরা ভারতের পিয়াজ প্রতিকেজি ৯০ টাকা এবং মায়ানমারের পিয়াজ ৮০-৮২ টাকায় বিক্রি করেছি। কেউ কেউ এর চেয়েও বাড়তি দাম চেয়েছে। যেহেতু বর্ডারে মাল নেই, এ সুযোগে কিছু বাড়তি টাকা নিতে চেয়েছে। তবে লাভ হয়নি। কারণ মার্কেটে পিয়াজ কেনার লোক নেই। খাতুনগঞ্জের মের্সাস হাজী অছি উদ্দিন সওদাগরের মালিক রহুল আমিন চৌধুরী বলেন, আজ (মঙ্গলবার) সারাদিন খাতুনগঞ্জের চট্টগ্রামের কোন ক্রেতা ছিল না। কুমিল্লা, উত্তরবঙ্গ থেকে লোকজন এসে পিয়াজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তবে ডিমান্ড খুব কম। যে ২০ মণ কিনত, সে কিনছে ২ মণ।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ৩৩৮ টন পিয়াজ। বন্দরে দুটি জাহাজে আসা ১৩টি কনটেইনার থেকে পিয়াজ খালাস শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক প্রশাসন ও পরিকল্পনা জাফর আলম।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, একটি কনটেইনারে ২৬ টন পিয়াজ পরিবহন করা হয়। সে হিসেবে ১৩টি কনটেইনারে ৩৩৮ টন পিয়াজ আমদানি করা হয়েছে।

বন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, এনএস ইন্টারন্যাশনাল, জেনি এন্টারপ্রাইজ ও হাফিজ করপোরেশন নামে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চীন ও মিশর থেকে এসব পিয়াজ আমদানি করেছে। শুল্কায়ন শেষে এসব পিয়াজ বাজারে আসতে দু’একদিন সময় লাগতে পারে। কনটেইনারবাহী জাহাজ এমভি কালা পাগুরো, জাকার্তা ব্রিজ ও কোটা ওয়াজারে করে এসব চালান এসেছে। তুরস্ক ও মায়ানমার থেকেও বিপুল পরিমাণ পিয়াজ আমদানির পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে আমদানিকারক সূত্র।

মায়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে সঠিক সময়ে দেশের বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পিয়াজ না আসা পর্যন্ত দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই।