• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে

বন্দরে ৪নং সতর্ক সংকেত

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২০

image

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সামান্য উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরগুলোতে চার নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ মোকাবিলা ও সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে সব রকমের প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আবহাওয়াবিদ মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি এখনও অনেক দূরে রয়েছে। তাই এটি বাংলাদেশে আঘাত হানবে কিনা এখনও তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ এর প্রভাব পড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, গতি প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। পরিস্থিতি দেখে সংকেত আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়েছে থাইল্যান্ড, ‘আম্ফান’ এর অর্থ হচ্ছে আকাশ।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হলো। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এদিকে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, রাজশাহী, পাবনা এবং পটুয়াখালী অঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে এখনও মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তা রোববারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শনিবার রাত ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপের নির্ধারিত তালিকা থেকে তখন এর নাম দেয়া হয় ‘আম্ফান’। এটি থাইল্যান্ডের দেয়া নাম। ঘূর্ণিঝড়টি মোটামুটি ঘণ্টায় ৬ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে রোববার বেলা ১২টা নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল। সে সময় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, আম্ফান রোববারেই প্রবল ঘূর্ণিঝড় (সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) এবং তারপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে (ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) পরিণত হতে পারে। তখন বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। পরে শক্তি আরও বাড়িয়ে তা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পেতে পারে মঙ্গলবার সকাল নাগাদ। তখন বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৯০ কিলোমিটার বা তার বেশি। ঘূর্ণিঝড়টি প্রাথমিকভাবে উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোনোর পর সোমবার সামান্য উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে মোড় নিতে পারে। ১৮ থেকে ২০ মের মধ্যে সেটি পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এবং তৎসংলগ্ন ওড়িশা উপকূলে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অফিস।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ মোকাবিলা ও সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে সব রকমের প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, আমরা সব রকমের প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যেই গত শনিবার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মিটিং করেছি। উপকূলীয় জেলা পর্যায়ে পর্যপ্ত ত্রাণ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।