• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মহররম ১৪৪১

গণভবনে যেতে ইচ্ছুক নূর

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ঢাবি

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

image

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনশনকারী শিক্ষার্থীদের ডাকসু পুনর্নির্বাচন দাবিতে বিক্ষোভ -সংবাদ

  • তবে সিদ্ধান্ত অন্যদের সঙ্গে আলোচনার পরপুনর্নির্বাচনের দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল অনশনকারীদের
  • চতুর্থ দিনের মতো অনশন : ৪ জন অসুস্থ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো অনশন অব্যাহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থী। দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের দাবিতে গতকাল বিকেলে ভুখা মিছিল করেছে অনশনকারীরা। তাদের মিছিলে যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

এদিকে, অনশনকারীদের মধ্যে চারজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অন্যদিকে, ২৪ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ চার দাবিতে অনশন করা রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রী তাদের অনশন ভেঙেছে। তবে, আল্টিমেটামের সময় শেষ হলে তারা আবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে, রোকেয়া হলের সামনে অনশনকারীদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অন্যদিকে, ডাকসুর নির্বাচিত সবাইকে প্রধানমন্ত্রী আজ গণভবনে ডেকেছেন। সেখানে যাওয়ার বিষয়ে পজেটিভ বলে জানিয়েছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর।

ভুখা মিছিল অনশনকারীদের : ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে গতকাল বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ভুখা মিছিল করেছে অনশনরত ৬ শিক্ষার্থী। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও মিছিলে যোগ দেন। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচি থেকে পুনঃতফসিল ঘোষণার পাশাপাশি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ মেনে কর্তৃপক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন তারা। অনশনরত শিক্ষার্থী শোয়েব মাহমুদ বলেন, তথাকথিত এই নির্বাচন আমরা মানি না। এর মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাই ডাকসুর পুনর্নির্বাচন দিতে হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে। আরেক শিক্ষার্থী তাহা আল মাহমুদ বলেন, এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ আমাদের দেখতে আসেননি। হয়তো তাদের আমাদের মানুষ বলে মনে হচ্ছে না।

চার অনশনকারী অসুস্থ : ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অনশনে থাকা আট শিক্ষার্থীর মধ্যে চারজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল সকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রবিউল ইসলাম। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি অনশন চালিয়ে যান। পরবর্তীতে তার মনোবল ও দৃঢ় ইচ্ছার কারণে তাকে আবার রাজু ভাস্কর্যে নিয়ে আসা হয়। অন্যদিকে, বিকেলে ভুখা মিছিলের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন শোয়েব মাহমুদ। মিছিলের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন মিম আরাফাত মানব ও আল মাহমুদ তাহা। অনশনকারীদের সহপাঠীরা জানান, বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। উপাচার্য ভবনের সামনে আসলে অনশনকারী শোয়েব মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অনশনকারী শিক্ষার্থী মীম আরাফত মানব ও আল মাহমুদ তাহাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তাদের সহপাঠীরা শিক্ষার্থীদের রিকশাযোগে হাসপাতালে নিয়ে যান। তারা সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর আগে বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়েন অনিন্দ্য ম-ল। চিকিৎসা নিয়ে তিনি হলে ফিরে যান। তবে, দাবি আদায়ে বাকি ছয় শিক্ষার্থী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অনশনে ছাত্রদল, বাম জোট, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট একাত্মতা প্রকাশ করে। এছাড়া ডাকসুর সাবেক ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমও একাত্মতা ঘোষণা করেন অনশনকারীদের সঙ্গে। এর আগে গত ১২ মার্চ সন্ধ্যা থেকে ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের জন্য অনশন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। এরা হলেন- পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়েব মাহমুদ, পপুলেশন্স সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইন উদ্দিন, দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অনিন্দ্য ম-ল, সিইসির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাওহীদ তানজিম। ১৩ মার্চ তাদের সঙ্গে যোগ দেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রাফিয়া তামান্না, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মীম আরাফাত মানব, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম ও ভূ-ত্বত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ তাহা।

‘আমরা মরে গেলেও হয়তো প্রশাসনের কেউ দেখতে আসবে না’: এদিকে, শিক্ষার্থীদের অনশনের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ তাদের দেখতে আসেননি। গতকাল বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে দেখা যায়, অনশনে অংশ নেয়া সবাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। অনশনকারীদের অন্যতম মীম আরাফাত মানব বলেন, চারদিন হয়ে গেল, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ আমাদের দেখতে আসেনি। আমরা মরে গেলেও হয়তো প্রশাসনের কেউ দেখতে আসবে না।

শিক্ষার্থীদের অনশন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ভাবছে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী সংবাদকে বলেন, আমরা তাদেরকে আলোচনার বিষয়ে আহ্বান জানাবো। তারা আলোচনায় ডাকলে যাব। কিন্তু আলোচনা করতে গেলে আমাদের হেনস্তা করা হবে, এমন আলোচনা হলে আমরা যাব না। বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার অনশন করার অধিকার রয়েছে। তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াসহ সব ধরনের সুবিধা প্রশাসন দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাকিরা সম্মতি দিলে যাবেন ডাকসুর ভিপি : এদিকে, গতকাল দুপুরে রাজু ভাস্কর্যে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নূরুল হক নুর। এসময় অনশনরত শিক্ষার্থীরা তাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে নিষেধ করেন। তখন নুর বলেন, আমি প্রথম থেকে পুনর্নির্বাচনের দাবি করে আসছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে সমস্যাগুলো জানাতে হবে। তবে যাওয়ার আগে অন্যান্য প্যানেলের সঙ্গে আলোচনা করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে নুর সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়েও তার দায়িত্ব রয়েছে। পজেটিভভাবে আমি যাওয়ার পক্ষে। নুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী একা আমাকে ডাকেননি। যারা নির্বাচিত হয়েছেন সবাইকে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হলেও আমাকে শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত করেছেন। শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা, আমি সেগুলো তাকে বলব। শিক্ষার্থীরা যদি সম্মতি না দেয় তাহলে তো আমি যেতে পারব না। আশা করি, তারা হয়তো সম্মতি দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনার করে তিনি বলেন, আমি অবাক হলাম, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তান ও শিক্ষার্থীরা অনশনরত। অথচ তাদের দেখতে এখন পর্যন্ত কেউ আসেননি। এর আগে বৃহস্পতিবার ডাকসুর নির্বাচিতদেরকে চায়ের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী।