• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৪ জিলহজ ১৪৪১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

খালেদার মুক্তি নিয়ে দুই রাজনৈতিক দলের বাকবিতণ্ডা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০১৯

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বাক-বিত-া চলছে। বিএনপি সরকারের সহযোগিতা চাইলেও ক্ষমতাসীনরা বলছেন তাদের কিছু করার নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তি আদালতের বিষয়। এদিকে, আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, সহসাই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া। কেননা তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নমনীয় নন। দুর্নীতিবাজদের কোন ছাড় না দেয়ার কথা বলছেন শেখ হাসিনা।

দুর্নীতির দুই মামলায় খালেদা জিয়া গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দী। গত ১ এপ্রিল তিনি অসুস্থ হয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি হন। মঙ্গলবার তার সঙ্গে দেখা করতে যান দলের সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদসহ তিন এমপি। পরে বেরিয়ে এসে হারুন বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তিনি নিজের হাতটাও নাড়াতে পারেন না। এমতাবস্থায় তার জামিন হলে তিনি বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাবেন। বুধবার হারুন অর রশিদ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে ওবায়দুল কাদেরকে অনুরোধ করেন।

বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে ওবায়দুল কাদের ছাড়াও বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, হারুন অর রশীদ, মৃণাল কান্তি দাশ, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে খালেদা জিয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘কোন উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলবা না। তার (খালেদা জিয়া) বিষয়ে কোন কম্প্রোমাইজ নয়।’

এদিকে গতকাল ওবায়দুল কাদেরের কাছে খালেদা জিয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কারাবন্দী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে তার দল বিএনপির বক্তব্য ও চিকিৎসকদের বক্তব্য এক নয়। চিকিৎসকদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কোনো কথা বলা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিএনপির প্রতি সবসময়ই আমরা নমনীয়। তবে বিএনপি যদি কঠোর অবস্থানে যায়, পরিস্থিতি বুঝে জবাব দেবে আওয়ামী লীগ। দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন, তাদের সমস্যা তুলে ধরে সহযোগিতা চাইতে পারেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার একদিকে বলছে, আদালত জামিন দিলে তাদের কোন আপত্তি নেই। এটা কয়েকদিন পর্যন্ত বলে যাচ্ছে। আগেও বলেছে। অথচ আমরা যখন আদালতে জামিন আবেদন শুনানি করি তখন সরকারের পক্ষ থেকে জোরালভাবে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। যদিও এ ধরনের মামলায় আমরা কখনও সরকারপক্ষ থেকে এভাবে জোরাল আপত্তি করতে দেখিনি। কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলায় জোরাল আপত্তি করার ফলে বারবার আমরা জামিন আবেদন শুনানি করার পরও তিনি জামিন পাচ্ছেন না।

সরকারের এ ধরনের বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে জয়নুল আবেদীন বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে যে, সরকার তো কোন আপত্তি করে না। অথচ জনগণ জানে না সরকারপক্ষ থেকে দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা কীভাবে আদালতে জোরালভাবে আপত্তি উত্থাপন করে। বাস্তবিক সরকারের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেয়া হয় তা একবারে অসত্য।

জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, অতি সম্প্রতি আমরা কয়েকবার জামিন আবেদন নিয়ে আদালতে গিয়েছিলাম। প্রতিবারেই সরকারের পক্ষ থেকে জোরাল আপত্তি করা হয়েছে। আমরা জামিনের জন্য পুনরায় আদালতে যাব। আমরা আশাকরি সরকার যে কথা বলছেন যে, আদালত জামিন দিলে তাদের কোন আপত্তি নেই। তাদের এ কথাটি সরকারি আইন কর্মকর্তার মাধ্যমে আদালতে জোরালভাবে জানাবেন এটাই আমরা আশা করি।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক এ সভাপতি বলেন, ৩৭ মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অরফানেজ ট্রাস্টেরটা আপিল বিভাগে বিচারাধীন। আর চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলা হাইকোর্ট বিভাগে, যেটাতে সাত বছরের সাজা রয়েছে। প্রথমে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পরে আপিল বিভাগে আবেদন করব। সরকার হস্তক্ষেপ না করলে আশাকরি এই দুই মামলায় জামিন পেলে তার মুক্তিতে কোন বাধা নেই।

আরেক প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, যখনই জামিন আবেদন নিয়ে সোচ্চার হই তখনই একটা খবর এসে যায় খালেদা জিয়া প্যারোলে চলে যাচ্ছেন। এই যে প্যারোল প্যারোল রাজনীতি, যে গুঞ্জন এতে খালেদা জিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে।

প্যারোল ও জামিনে মুক্তির তফাৎ কী এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের কাছে অনুকম্পা চাওয়া, এজন্য সরকার বারবার বলে আমাদের কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান। খালেদা জিয়া নির্দোষ, তিনি কেন দোষ স্বীকার করবেন। প্যারোলের বিষয়ে আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, গতকাল আমাদের একজন সংসদ সদস্য বিষয়টি পরিষ্কার করেছে। তিনি বলেছেন- ম্যাডামকে প্যারোলের কথা জিজ্ঞাসা করেছে, ম্যাডাম বলেছেন আমি প্যারোলের কোন আবেদন করব না এবং করিনি। আমি জামিন পাওয়ার হকদার।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এক অনুষ্ঠানে বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে বন্দী করা হয়নি। তাকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত আদালতের হাতে। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, এতিমের জন্য টাকা এসেছে এতিমখানা নির্মাণের জন্য সেটি না করে তিনি তার ব্যক্তিগত একাউন্টে সে টাকা ট্রান্সফার করেছেন। সে কারণে আদালতে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের সাক্ষী-সাবুদের মাধ্যমে তার শাস্তি হয়েছে। সুতরাং তার মুক্তির বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে হতে হবে, অন্য কোনভাবে হওয়া সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দলের মধ্যে কথাবার্তা চলছে। তাদের মধ্যে বেশ বাক-বিতন্ডা চলছে। অবশ্য এটা রাজনৈতিকভাবে স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এখনও তার কোন ফলাফল দেখা যায়নি। একদল বলছে, তিনি অসুস্থ অন্যদল বলছে, সুস্থ। এছাড়া তার সাজা হয়েছে। যা আদলতের বিষয়। তবে সরকার চাইলে হয়তো তিনি চিকিৎসার চন্য বিদেশ যেতে পারেন। তবে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা সংবাদকে বলেন, বুধবার গনভবনে একাধিক বৈঠক হয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি খালেদা জিয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। সাধারণ সম্পাদকে যেহেতু না করে দিয়েছেন, সেহেতেু এই বিষয়ে এখন আর অন্য কেউ কথা বলতে পারবে না। তাই খুব সহসাই খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলছে না। তবে তারা যদি প্যারোল চেয়ে আবেদন করে, সেটি হবে ভিন্ন বিষয়।