• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলকদ ১৪৪১

অভিযান চলছে

ক্লাবগুলো থেকে জুয়ার সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলা হচ্ছে

ফুওয়াং ক্লাবে ক্যাসিনো চললেও কিছু পাওয়া যায়নি

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন ক্লাবগুলো ক্যাসিনো ও জুয়ার সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছে। গতকাল মদের বার চালানোর অনুমতি নিয়ে ক্যাসিনো চালানো ফুওয়াং ক্লাবে পুলিশ নিস্ফল অভিযান চালিয়েছে। ওই ক্লাবে ক্যাসিনো সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। অথচ ওই ক্লাবে গত কয়েক বছর ধরেই ক্যাসিনো চলত। অভিযোগ পাওয়া গেছে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক ক্লাব এবং ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ক্যাসিনো চলত। এছাড়া নামিদামি হোটেল, বারগুলোতেও ক্যাসিনো চলত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে অনেকেই ক্যাসিনো সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেছে। অভিযোগ উঠেছে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনায় যুক্ত নেপাল, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পালিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ১৯ জন নেপালি পালিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি, রাজধানীতে ক্যাসিনো পরিচালনাকারী ক্লাবগুলোতে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। গত ৬ দিনে মতিঝিল, গুলিস্তান গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, কারওয়ানবাজার, তেজগাঁও এলাকায় ১৫টির বেশি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়েছে। রোববার রাতে গুলশানে স্পা সেন্টারে অভিযান চালায় গুলশান থানা পুলিশ। ওই অভিযানে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গতকাল তেজগাঁও এলাকার ফুওয়াং ক্লাবে ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। ওই ক্লাবটি বার হিসেবে পরিচিত (বৈধতা নেয়া)। ওই ক্লাবে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরও নিয়মিত যাতায়াত ছিল। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ওই ক্লাবে ক্যাসিনো কিংবা জুয়ার মতো কোন আলামত পায়নি পুলিশ। তবে এখানে একটা বার রয়েছে। বার পরিচালনার অনুমোদনও তাদের রয়েছে। অবৈধ কোনকিছু না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানায়, ফুওয়াং ক্লাবে গত কয়েক বছর ধরেই মদ এবং ক্যাসিনোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপও চলত। গত বুধবার থেকে অভিযান শুরুর পর ফুওয়াং বারের কর্তৃপক্ষ ক্যাসিনো সামগ্রী সরিয়ে ফেলে।

ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত র‌্যাব মতিঝিল, গুলিস্তান, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার এলাকায় বেশকিছু ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনা, অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযান চালায়। যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ কৃষকলীগের নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে গ্রেফতার করা হয়।

মতিঝিল বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, অবৈধ জুয়া, আসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক সেবনসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড চলছে এমন অভিযোগে ডিএমপির বিভিন্ন এলাকায় ক্লাবগুলোতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে মতিঝিল বিভাগে ১০ থেকে ১২টি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনো সামগ্রী, মাদকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করছে। গত বুধবার র‌্যাব কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালায়। এরপর মতিঝিল বিভাগের পুলিশ পৃথক অভিযান চালায়। যেসব ক্লাবে অভিযান হয়েছে সে বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হবে। আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্ত করে ক্যাসিনো কারা পরিচালনা করত, ক্যাসিনো সরঞ্জাম কাদের মাধ্যমে আনা হয়েছে, কত টাকার খেলা হতো, কারা খেলত এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর মতিঝিলের ইয়ংমেনস ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ এবং গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে চারটি ক্লাব থেকেই বিপুল পরিমাণ ক্যাসিনো ও জুয়ার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে যখন র‌্যাবের এ অভিযান চলছিল তখন সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে ৯ নেপালি পালিয়ে যায়। এই নেপালিরা ক্যাসিনো ও জুয়ার কারিগরি সহায়তা দিত। ওয়াকিটকি হাতে থাকা একজনের সহায়তায় এই নেপালিদের পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ভবনটির সিসিটিভি ফুটেজে। দেখা যায়, বুধবার রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে ওয়াকিটকি হাতে সেগুনবাগিচার ৬/সি বাসার মূল গেট দিয়ে ঢুকে লিফটে বাসার ওপরে চলে যায় কয়েকজন। এরপর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে ১১টা ২৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে তারা বের হয়ে যায়। এ সময় তাদের একজনের হাতে একটি ব্যাগ দেখা যায়। তারা চলে যাওয়ার পর রাত ১টা ৪৬ মিনিটে একে একে ৯ নেপালি বাসাটি ত্যাগ করেন। এ সময় তাদের হাতেও বেশকিছু ব্যাগ দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই বাসার ছয়তলার একটি ফ্ল্যাটে দুই মাস ধরে ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া থাকত নেপালিরা। প্রথমে দু’জনের কথা বলে ভাড়া নেয়া হলেও সেখানে থাকত চারজন। নেপালিদের ভাড়া নেয়ার এই পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে মাসুম নামের একজন। সে নেপালিদের মোহামেডান ক্লাবের ট্রেইনার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বাসাটি ভাড়া নেয়। তবে মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তা মাসুম থানায় জমা দেয়া ভাড়াটিয়া তথ্যে নেপালিদের থাকার বিষয়টি গোপন করেন। ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী মামুন বলে, ‘সন্ধ্যার সময় তিনজন পুলিশ আসছিল, একটা ওয়ারলেস ছিল। যাওয়ার সময় বললাম আপনাদের ঠিকানা দিয়ে যান। বলে- তোমাদের তো কোন সমস্যা নেই। বাসায় গেস্ট এলেতো তোমাদের কোন সমস্যা হয় না।’ ফ্ল্যাট মালিক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘পুলিশ সিভিল ড্রেসে আসছে। দারোয়ানকে ভেতরে নেয়নি। দারোয়ানকে বাইরে রেখে ওরা কথা বলে চলে গেছে। পুলিশ চলে গেলে, ওরা ভোররাতে চলে যায়।’

রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন লোক থাকে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।