• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলকদ ১৪৪১

ক্যাসিনো মালিকদের অ্যাকাউন্ট স্থগিত

শামীমের হিসাবে ৩০০ কোটি টাকা

সংবাদ :
  • রোকন মাহমুদ

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ব্যাপক ধরপাকড়ের পর দেরিতে হলেও ক্যাসিনোয় নগদ লেনদেন, কয়েন ও চিপস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে আটক ক্যাসিনো মালিকদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত (অবরুদ্ধ) করার নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাংকগুলোকে প্রাথমিকভাবে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাসিনো মালিকদের ব্যাংক-ব্যালান্স সম্পর্কে তথ্য-তালাশ শুরু করা হয়েছে। তাদের হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নির্দেশনা পাওয়ার পর রিমান্ডে থাকা যুবলীগ নেতা জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে কয়েকটি ব্যাংক। ফলে টাকা তোলা যায়নি তাদের দেয়া চেকে। শামীমের ব্যাংক হিসাবে ৩০০ কোটি টাকা আছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ক্যাসিনোয় নগদ লেনদেন, কয়েন ও চিপসের ব্যবহার এ দেশে নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এতদিন ছিল নীরব। কিন্তু ক্যাসিনো কারবারি যুবলীগের একাধিক নেতা সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের নামে ব্যাংকে অর্থ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা যেন এসব অর্থ ইচ্ছামতো উত্তোলন করে নিতে না পারেন, এ জন্য ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বিএফআইইউ। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও নগদ লেনদেনে সতর্ক থাকতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি। মানি লন্ডারিং ও অর্থ পাচার ঠেকাতে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে বিএফআইইউ।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। গত শুক্রবার যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এসএম গোলাম কিবরিয়া (জিকে) শামীম ও কলাবাগান ক্রীড়াচক্র সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। শামীমের কার্যালয় থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ নগদ অর্থ ও ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর তার মায়ের নামে এবং বাকিগুলো নিজ নামে। এই অর্থ দেশের ৮টি ব্যাংকে জমা রয়েছে। এছাড়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা নজরদারির মধ্যে রয়েছেন।

জানা গেছে, রোববার সকালে শামীমের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য বড় বড় অঙ্কের চেক কয়েকটি ব্যাংকে জমা পড়ে। এরপর ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করে পরামর্শ চাওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক দুপুরের মধ্যেই নির্দেশনা জারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, শামীম, তার স্ত্রী ও মা-বাবার নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে হবে। এ সংক্রান্ত সব তথ্য পাঁচ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়।

এস এম গোলাম কিবরিয়া ওরফে শামীম নিজের নাম সংক্ষেপ করে বলতেন জিকে শামীম। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্সের মালিক তিনি। নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচয় দিতেন। গত শুক্রবার র‌্যাব সদস্যরা তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হানা দিয়ে তাকে ও তার ৭ দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করেন। এরপর সেখান থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজপত্র (তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি), ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মদের বোতল জব্দ করে র‌্যাব। অস্ত্র ও মাদক মামলায় শামীম এখন ১০ দিনের রিমান্ডে। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আদেশ দেন।

সূত্র মতে, গ্রেফতার যুবলীগ নেতাদের বিষয়ে এখনও কোন তথ্য সিআইডি বা অন্য কোন সংস্থা থেকে চাওয়া হয়নি বিএফআইইউয়ে। তবে গণমাধ্যমে বিষয়টি জানানোয় সংস্থাটি সজাগ হয়ে উঠেছে এবং ব্যাংকগুলোকেও সেভাবেই সতর্ক করেছে। পুলিশ বা সিআইডি থেকে যাদের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হবে, সেসব সরবরাহ করা হবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। এছাড়া যারা গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের নামে কোন অ্যাকাউন্ট থাকলে যথাযথ ব্যক্তি ও কাগজপত্র ছাড়া তাদের অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দিতে নিষেধ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের নিজের তো বটেই, নিকটাত্মীয়দের নামে অ্যাকাউন্ট থাকলে তার খোঁজখবরও নেয়া হচ্ছে। তাদের নামে কী পরিমাণ অর্থ ব্যাংকগুলোঢ আছে, তাও জানার চেষ্টা চলছে।

বিএফআইইউপ্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান এ বিষয়ে বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে আইনের মাধ্যমে আমাদের করণীয় ও ক্ষমতা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। যে কোন উৎস থেকে কোন তথ্য পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতারা ব্যাংকের মাধ্যমে কোন অপরাধ করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা বের করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্তদের নামে ব্যাংক-ব্যালান্স থাকা অস্বাভাবিক নয়। এসব অ্যাকাউন্টের বিপরীতে প্রচুর আর্থিক লেনদেনও হয়েছে। হয়তো বা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সন্দেহজনক লেনদেন সিটিআর ও এসটিআর হিসেবে রিপোর্ট করেছে। এসব ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আর যদি কোন ব্যাংক রিপোর্ট না করে থাকে, তা হলে ওইসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্টে কারা কীভাবে লেনদেন করেছে, এর তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। এ সম্পর্কিত তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাবে বিএফআইইউ। সন্দেহজনক লেনদেন প্রমাণিত হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হবে।