• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

ভোটারদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা

কেমন মেয়র চাই

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে প্রচারণা প্রতীক বরাদ্দের পর মাঠে নামবেন প্রার্থীরা

    সংবাদ :
  • ইমদাদুল হাসান রাতুল
  • | ঢাকা , রোববার, ০৫ জানুয়ারী ২০২০

image

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের লড়াই ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা, প্রকাশ করবেন নির্বাচনী ইশতেহার। অবশ্য এখন তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক প্রচার চালাচ্ছেন। আগামী পাঁচ বছরে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরছেন মেয়র প্রার্থীরা। একই সুরে দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। রাজধানীর প্রায় ৫৪ লাখ ভোটার এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু করেছেন। নগরবাসী বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি কিংবা আশার বাণী দিবেন এমন নগরপিতা চান না তারা। প্রকৃত অর্থেই ঢাকার উন্নয়ন করতে চান ও সহজেই নগরবাসীর ডাকে সাড়া দিবেন এমন কাউকে মেয়র হিসেবে দেখতে চান। সেক্ষেত্রে যানজট, জলাবদ্ধতা ও পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে কাজ করবেন এমন ব্যক্তিকেই ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচন করার কথা বলছেন তারা।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এ নির্বাচনে ১ হাজার ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের ৫ হাজার ৯৯৮টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৮টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ নির্বাচনে ১ হাজার ৩৪৯টি ভোটকেন্দ্রের ৭ হাজার ৫১৬টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

মেয়র ও কাউন্সিলর উভয় পদেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোটারদের আগ্রহ কে হবেন মেয়র। কারণ তার নির্দেশেই চলবে সব কার্যক্রম। তাই নগরবাসী কেমন মেয়র চান, তা নিয়ে রাজধানীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা হয় সংবাদের। একেকজনের একেক রকম পছন্দ থাকলেও মূলত কিছু বিষয়ে তারা সবাই একমত প্রকাশ করেছেন। তারা সবাই নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবেন এমন মেয়র চান। ৯৬/১ পূর্ব মানিকনগরের বাসিন্দা রোকন মাহমুদ। তিনি সংবাদকে বলেন, সব সময় মাঠে থাকবে এবং যে কোন বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন এমন মেয়র চাই। যিনি রাজধানীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন এবং যানজটমুক্ত করবেন আমি তাকেই ভোট দিব। একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি রাস্তা বছরে একাধিকবার কাটা হয়। এজন্য ভোগান্তির অন্ত থাকে না। আমি চাই যিনি মেয়র হয়ে আসবেন তিনি যেন এ বিষয়টিতে বিশেষ নজর দেন।

বি/৩২, আরসিনগেট, ফরিদাবাদের বাসিন্দা মো. আলম। তার মতে, এমন কেউ মেয়র হোক যিনি ব্যবসাবান্ধব হন। পেশায় ব্যবসায়ী আলম বলেন, রাজধানীতে ব্যাপক চাঁদাবাজি হয়। আমি চাই যিনি মেয়র হবেন তিনি যেন এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেন।

রাজধানীর পুরানা পল্টনের বাসিন্দা ওবায়েদ আকাশ। একটি গণমাধ্যমে কর্মরত ওবায়েদ বলেন, যানজট ও জলাবদ্ধতামুক্ত এবং নিরাপদ নগর গড়তে পারবেন এমন ব্যক্তিকেই আমি ভোট দিব। যিনি মেয়র হবেন তার প্রথম দায়িত্ব থাকবে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা। এছাড়া গভীর রাতে হাঁটলেও যেন আমি নিরাপদ বোধ করি মেয়রকে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

২২০ তিলপাড়া, খিলগাঁও থাকেন আরাফাত জুবায়ের। তিনি বলেন, সবাই নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচিত হলে ভুলে যান। আগের মেয়ররা বলেছিল, খেলার মাঠে মেলা নয়। কিন্তু পরেও তারাই খেলার মাঠে মেলার জন্য অনুমতি দিয়েছেন। তাই আমরা এমন মেয়র চাই যিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা করবেন।

মিল ব্যারাকের বাসিন্দা খালেদা আক্তার। তিনি বলেন, আমাদের এখানে পানির সমস্যা অনেক। ময়লাযুক্ত পানি এখানে আসে। এছাড়া প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়। তাই যিনি এই সমস্যাগুলো দূর করতে পারবেন তাকেই ভোট দিব।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তি নিথর মাহবুব। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নতুন অন্তর্ভুক্ত শনির আখড়া এলাকায় থাকেন তিনি। তিনি বলেন, যিনিই মেয়র হবেন, তার প্রথম দায়িত্ব হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। বাইরের দেশগুলো এখন শব্দের বেগে চলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে আমরা ঘণ্টায় ২০/৩০ মাইল গতিতে চলছি। আমাদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ এটি। তাই যিনি যানজটমুক্ত নগরী গড়তে পারবেন তাকেই আমি ভোট দিব এবং মেয়র হিসেবে দেখতে চাই।

রাজধানীর পরীবাগ এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ফুটপাতগুলো দখল হয়ে থাকায় রাস্তায় হাঁটা যায় না। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রতিদিন শত কোটি টাকার চাঁদা তোলা হয়। যেহেতু মেয়ররা রাজনৈতিক দলগুলো থেকেই নির্বাচিত হবেন, তাই তাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, তারা যেন এ বিষয়টিতে নজর দেন।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীবাসীর সব সমস্যার প্রধান কারণ সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা। এ কারণেই বছরজুড়ে ঢাকায় খোঁড়াখুড়ি ও কাটাকাটি চলতে থাকে। এতে ভোগান্তিও চলতে থাকে। পূর্বের মেয়ররা এ বিষয়ে বেশ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সফল হননি। নতুন যারাই মেয়র নির্বাচিত হবেন, তাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হবে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা।

প্রার্থীদের প্রচারণার বিধি : প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থী বা দল প্রচারণায় সমান অধিকার ভোগ করবে। প্রার্থী বা তার দল, এমনকি তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী এলাকায় কোন প্রকার চাঁদা বা অনুদান প্রদান বা প্রদানে অঙ্গীকার করতে পারবেন না। কোন প্রার্থী বা তার পক্ষে কোন রাজনৈতিক দল বা অন্য কোন ব্যক্তি প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচার করতে পারবে না। নির্বাচনের আগে প্রার্থী সরকারি সার্কিট হাউজ, ডাক বাংলো বা রেস্টহাউজে অবস্থান করতে পারবেন না। প্রার্থীর পক্ষে বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিপক্ষে প্রচারণার স্থান হিসেবে সরকারি কার্যালয় বা কর্তৃপক্ষকে ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রার্থী বা তার দল বা তার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি পথসভা বা ঘরোয়া সভা ছাড়া অন্য কোন জনসভা বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। পথসভা করতে চাইলে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে। প্রার্থী প্রচারণায় দৈর্ঘ্যে ৬০ সেন্টিমিটার ও প্রস্থে ৪৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে সাদা-কালো পোস্টার ব্যবহার করতে হবে। পোস্টারে প্রার্থী নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হলে দলীয় প্রধানের ছবি পোস্টার বা লিফলেটে ব্যবহার করতে পারবেন। নির্বাচনী এলাকায় কোন দেয়াল বা যানবাহনে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগাতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতিটি থানায় একটির বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করতে পারবেন না। আর কাউন্সিলর প্রার্থী ৩০ হাজার ভোটারের জন্য একটি ক্যাম্প এবং সর্বোচ্চ তিনটি ক্যাম্প বা অফিস ব্যবহার করতে পারবেন। প্রার্থী বা তার দল বা অন্য কোন ব্যক্তি ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল বা অন্য কোন যান্ত্রিক যানবাহনে করে মিছিল, মশাল মিছিল বা শোডাউন করতে পারবেন না। প্রচারণায় হেলিকপ্টার বা অন্য কোন আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের যাতায়াতের জন্য প্রার্থী কোন যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করতে পারবেন না। কোন প্রার্থীর পক্ষে রংয়ের কালি, চুন বা কেমিক্যাল দিয়ে দেয়াল বা যানবাহনে লিখন, মুদ্রন, ছাপচিত্র করে নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারবেন না। প্রার্থীর প্রচারণায় গেইট, তোরণ বা ঘের নির্মাণ করা যাবে না। ৩৬ বর্গমিটারের বেশি স্থান নিয়ে ক্যাম্প বা অফিস নির্মাণ করা যাবে না। প্রার্থীর ছবি বা প্রতীক চিহ্নসম্বলিত শার্ট, জ্যাকেট বা ফতোয়া ব্যবহার করা যাবে না। মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোন ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। একটি ওয়ার্ডে পথসভা বা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে একের অধিক মাইক্রোফোন বা বেশি মাত্রার শব্দের যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী এলাকায় দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে মাইক ব্যবহার করা যাবে। সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তা নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। তবে ওই ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হলে তিনি কেবল ভোট প্রদান করতে পারবেন। নির্বাচনের কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্র, যানবাহন বা অন্য কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যবহার করতে পারবেন না। নির্বাচনের আগে প্রার্থী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকল্প অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচন করতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারণায় স্থায়ী বা অস্থায়ী বিলবোর্ড বা অন্য কোন কাঠামো স্থাপন ও ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রম করতে পারবেন না।