• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় কেন নয় : হাইকোর্ট

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা, ২০১৭ অনুযায়ী সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেন ধান ক্রয় করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে কৃষি সচিব, খাদ্য সচিব ও খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোটের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। জাতীয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম গোলাপ রিট আবেদন করেছিলেন। রিট আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফিরোজ আলম।

রিট আবেদনে বলা হয়, নীতিমালা অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু কিছু গুদাম মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীর কারণে এই নীতিমালা লঙ্ঘিত হচ্ছে। কৃষক তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারঘোষিত মূল্যে কৃষক ধান বা চাল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে না। সরকারের সংশ্লিষ্টরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান বা চাল কিনছে না। ফলে এক শ্রেণির লোককে বেআইনি সুযোগ দেয়া হচ্ছে। তারাই কৃষকের কাছ থেকে কমমূল্যে ধান বা চাল সংগ্রহ করছে ফলে কৃষক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তারা উৎপাদন খরচও পাচ্ছে না। রিট আবেদনে আরও বলা হয়, দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের প্রধান পেশা ধান উৎপাদন করা। শুধুমাত্র ধান বিক্রি করেই তাদের জীবন-জীবিকা চলে। দিন দিন ধান উৎপাদনের খরচ বাড়ছে। কিন্তু তাদের উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে কৃষকরা ধান চাষে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এটা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে।

অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালায় বলা হয়েছে, কৃষকদের নিকট থেকে সরাসরি সংগ্রহ মৌসুমে উৎপাদিত ধান ও গম এবং বৈধ ও সচল চালকল মালিকদের নিকট থেকে চুক্তির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মৌসুমের ধান থেকে ছাঁটাই করা চাল সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সরবরাহ করা মৌসুমে আবাদকৃত জমির পরিমাণ এবং সম্ভাব্য উৎপাদনের পরিমাণসহ ডাটাবেইজ হতে প্রযোজনীয় সংখ্যক প্রান্তিক কৃষক নির্বাচন করবে। উপজেলা কমিটি প্রত্যেকের প্রদেয় খাদ্যশস্যের পরিমাণসহ নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সংগ্রহ কেন্দ্রে প্রেরণ করবে। এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কৃষকদের নিকট থেকে ধান ও গম ক্রয় করা হবে। সংগ্রহ কেন্দ্রের কর্মকর্তা কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড/জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত কৃষকদের শনাক্ত করবেন। তালিকা বহির্ভূত কারও কাছে থেকে ধান ও গম ক্রয় করা যাবে না।