• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

ফের বেড়েছে পিয়াজের দাম

কারণ খুঁজতে সচিবালয়ে বৈঠক আজ

সংবাদ :
  • এস এম জাকির হোসাইন

| ঢাকা , রোববার, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

image

মায়ানমার থেকে আমদানিসহ সরকারের নানা তৎপরতায়ও পিয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত শুক্রবার থেকে পিয়াজের দাম আবারও বেড়েছে। কারওয়ানবাজারের পাইকারি বাজারে পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি। ফলে খুচরাবাজারে কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পিয়াজ। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ আমদানিকারক ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে আবারও বেড়েছে পিয়াজের দাম। পিয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে সচিবালয়ে আজ বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

পিয়াজের পাইকারি বাজার শ্যামবাজার ও কারওয়ানবাজারে পাইকারি দামের মধ্যে পার্থক্য কেজিতে ১০ টাকা। শ্যামবাজারে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা বিক্রি হওয়া পিয়াজ কারওয়ানবাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

এদিকে কারওয়ান বাজারে পিয়াজ কিনতে আসা ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদকে বলেন, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে। আবার পিয়াজের দাম বৃদ্ধির কী কারণ? ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলেও মায়ানমার, মিসরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পিয়াজ আসছেই। তাহলে পিয়াজের দাম আবার বৃদ্ধির কোন যৌক্তিকতা নেই। এ বিষয়ে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কেন? নাকি সরকারও এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি! সরকার বলছে পিয়াজের সংকট নেই, তারপরও কেন পিয়াজের দাম বাড়বে?

আবারও পিয়াজের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে শ্যামবাজারের পিয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইলিয়াস সংবাদকে বলেন, সম্প্রতি মায়ানমার থেকে আমদানি করা কিছু পিয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। গতকাল পাইকারিতে পিয়াজের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে মায়ানমারের পিয়াজ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় এবং দেশীয় ভালো মানের পিয়াজ ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কারওয়ানবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী লাকসাম বাণিজ্যালয়ের সত্বাধিকারী মো. হাবিবুর রহমান মোস্তফা সংবাদকে বলেন, কাঁচামাল নিয়ে কখনও সিন্ডিকেট করা সম্ভব নয়। কারওয়ানবাজারের পিয়াজের সঙ্গে শ্যামবাজারের পিয়াজের গুণগত পার্থক্যের কারণেই দামের পার্থক্য রয়েছে। এছাড়াও মায়ানমারের পিয়াজ আসে শ্যামবাজারে, সেখান থেকে কারওয়ানবাজারে আসে। তাই দামের পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার তো পিয়াজ আমদানি করে না, পিয়াজ আমদানি করে ব্যবসায়ীরা। তাই ব্যবসায়ীরাই বলতে পারবে পিয়াজের সংকট আছে কী না!

ফের পিয়াজের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দিন সংবাদকে বলেন, আবার কেন পিয়াজের দাম বেড়েছে সঠিকভাবে বলতে পারব না। আগামীকাল সচিবালয়ে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বৈঠক হবে। কেন দর বেড়েছে তারপর বলতে পারব।

এদিকে গত মাসের শেষ দিকে ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর বাংলাদেশে এই খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে কেজি ৬০-৭০ টাকা থেকে এক লাখে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ট্রাকে করে খোলাবাজারে পিয়াজ বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন আড়তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। এছাড়াও ফরিদপুর এবং উত্তরবঙ্গে ১০ জন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ১০টি দল মাঠে নামায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে মায়ানমার থেকেও পিয়াজ আসে। এসব তৎপরতায় পিয়াজের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বন্ধ হয়ে তা কমতে শুরু করে। সরকারের নানা তৎপরতায় কিছুদিন আগেও ৭৫ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের পিয়াজ। কিন্তু তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

এদিকে ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে দেশে পিয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদার বিপরীতে দেশের উৎপাদন হয় ১২-১৩ লাখ মেট্রিক টন। বাকি ১০-১১ লাখ টন পিয়াজ আমদানি করতে হয়, যার অধিকাংশই আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিয়াজ রপ্তানিকারক দেশ ভারত থেকে। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় রপ্তানি নীতির সংশোধন করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখে । পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের পিয়াজ রপ্তানিতে এ নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাংলাদেশেও পিয়াজের দাম বাড়তে থাকে। কিন্তু সরকার মায়ানমার, মিসরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি করার ফলে কিছুটা দাম কমতে থাকে। পাশাপাশি পিয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর খোলাবাজারে পিয়াজ বিক্রি শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। প্রথমে পাঁচটি স্পটে এ কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়িয়ে রাজধানীতে ৩৫টি ট্রাকে ন্যায্যমূল্যে পিয়াজ বিক্রি করে টিসিবি।