• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ জিলকদ ১৪৪১

কাপ্তাই হ্রদে নৌকা ডুবে ৫ জনের মৃত্যু

কর্ণফুলীতে নৌদুর্ঘটনায় নিহত ১

সংবাদ :
  • নিজস্ব প্রতিবেদক, পার্বত্যাঞ্চল

| ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

গতকাল রাঙ্গামাটিতে পিকনিকে আসা একটি দেশীয় নৌযান কাপ্তাই হ্রদে উল্টে গিয়ে ৫ নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীতে নৌ-দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত ও ২ নিখোঁজ রয়েছেন।

পুলিশসহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালের দিকে চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্যাসিফিক গার্মেন্টস লিমিটেডের ৫০ জন মহিলা শ্রমিক পিকনিকের উদ্দেশ্যে বাসযোগে রাঙ্গামাটির পর্যটন কেন্দ্র এলাকায় বেড়াতে আসেন। পরে তারা পর্যটন ঘাট থেকে দুটি ফাইফার অপটিকেল বোট ভাড়া করে কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণে বের হন। পর্যটন ঘাট থেকে প্রায় কিছু দুর পৌঁছানোর পর বোটটি কাত হয়ে বোটটি উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে এক কন্যা শিশু ও ৪ মহিলা নিহত হন। নিহতরা হলে শীলা আক্তার (২০), রীণা আক্তার (৪৫), শিশুকন্যা আফরোজা (১৫), আছমা আক্তার (৫০) ও অজ্ঞাত একজন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এছাড়া এ ঘটনায় লিপি বেগম (৪৫), আবু বক্কর, রবিউল ও অজ্ঞাত আহত হন। তাদের মধ্যে লিপি আক্তারকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার খবর পর পেয়ে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে অবস্থানরত ফায়ার সার্ভিসের লোকদের উদ্ধারের জন্য নির্দেশনা দেন।

এদিকে কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় কয়লার ডিপো সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে চট্টগ্রাম থেকে আগত একটি পর্যটকবাহী বোট ডুবে এক শিশু নিহত ও ২ জন নিখোঁজ হয়েছেন। শিশুটির নাম দেবলীনা (১০)। নিখোঁজ রয়েছে বিনয় (৫) ও তুম্পা (৩০)। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, চন্দ্রঘোনায় কয়লার ডিপো সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে চট্টগ্রাম থেকে আগত ১২৫ জনের একটি পর্যটকবাহী বোট ডুবে যায়। এতে তিনজন নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে ডুবুরিরা একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

এদিকে গতকাল ঘটনার পর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনর রশীদ। সভায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করা হয়।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ বলেন, উদ্ধারকৃত একজন জানিয়েছেন, দুটি বোটই পর্যটন ঘাট এলাকা থেকে পাশাপাশি নৌভ্রমণের জন্য রওনা দিয়েছিল। একটি বোটের জনৈক যাত্রীর হাত থেকে একটি কামরাঙ্গা হ্রদের পানিতে পড়ে গেলে তা উদ্ধারের জন্য উভয় বোটের যাত্রীরা বোটের একধারে চলে আসেন। এতে একটি বোটটি উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ৫ জন নিহত হয়েছে।

রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস বলেন, চট্টগ্রাম থেকে পিকনিকে আসা নৌকাডুবিতে ৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এবার হ্রদে ভ্রমণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে কঠোর নজরদারিতে থাকবে।

বাস উল্টে নিহত ১

গতকাল রাঙ্গামাটিতে পিকনিক পার্টির বাস উল্টে ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার নিহত হয়েছে। তবে তার নাম জানা যায়নি। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন, ২৭ জন। তাদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল সকালের দিকে চট্টগ্রাম ছেড়ে একটি পিকনিক পার্টির বাস রাঙ্গামাটি যাচ্ছিল। পথে প্রায় রাঙ্গামাটি শহরের কাছাকাছি সাপছড়ির শালবন এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে উল্টে যায় বাসটি। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনাস্থল গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ২৭ জনের মধ্যে ১২ জনের নাম পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন- মো. শামীম (২২), মো. সোহাগ (২১), সজল (৩৫), রাহিমা (১৮), সুজন (২১), মো. আমিরুল (২২) মো. কাউসার (২০), মো. রাজু আহম্মদ(৩০), মো. মিজান (২৩), মো. আজরুল ইসলাম (২৩), মো. শাকিল (১৮) ও মো. আনোয়ার হোসেন (২৬)।

কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মো. নুর বলেন, দুর্ঘটনার পর পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধার করে সদর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বাস দুর্ঘটনায় প্রায় ২৭ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়েছে। বাসের চালক পালিয়ে গেছে। বাসটি উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিহত বাসের হেলপারের ময়নাতদন্তের পর ওয়ারিশদের বুঝিয়ে দেয়া হবে।