• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনায় শপিংমলে ঠাসাঠাসি করে ঢুকলে অবস্থার চরম অবনতি হবে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২০

image

করোনাভাইরাস মহামারীর বর্তমান পর্যায়ে গণহারে দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দিলে ঈদের আগে আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়ে যেতে পারে। লোকজন ঠাসাঠাসি করে শপিংমলে ঢুকলে অবস্থার চরম অবনতি হবে। বিশেষজ্ঞরা এমন মতামত দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঈদের আগে শপিংমল খোলা মানে মৃত্যুর ঝুঁকি ডেকে আনা। সব শপিংমল একসঙ্গে খুললে লোকজন ঈদের আগে হুমড়ি খেয়ে দোকানে ঢুকবে। কেনাকাটার সময় কার আগে কে জামাকাপড় কিনবে তা নিয়ে মার্কেটগুলোতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। আর দীর্ঘদিন পর মার্কেট খুললে উপচেপড়া ভিড় হবে। এতে করোনাভাইরাস আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন সংবাদকে বলেন, শপিংমল নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সব দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সমস্যা হবে না। নিদিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে দোকানে কেনাকাটা করতে হবে। এটা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, শপিংমল খুললে সেন্টাল এসিতে মানুষ ঘোরাঘুরি করবে। এতে জীবাণু ছড়াবে। এটা আরও বেশি বিপদজনক হবে। এসি থেকে উন্মুক্ত বাতাস ভালো। সেন্ট্রাল এসিতে বাতাস রিসাইকেল হলে ৫ তলা মার্কেটে একজন রোগী থাকলে তার সংক্রামণ পুরো মার্কেটে ছড়াবে। শপিংমলের এক তলা থেকে শুরু করে সব তলায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। করোনাভাইরাস এখন ঢাকা শহরের সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে। নিজের অজান্তে আক্রান্ত ব্যক্তি মার্কেটে গেলে ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বাড়বে। রাস্তায় যতই মাস্ক পরে থাকুক একজনের মুভমেন্টে আরও ১শ’ জন আক্রান্ত হবে।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে শহর থেকে জেলা পর্যন্ত লকডাউন চালু করা হলেও অনেকেই লকডাউন না মেনে বেরিয়ে আসছে। তাদের সংস্পর্শে অন্যরা আক্রান্ত হচ্ছে। আবার লকডাউনও হাসপাতাল থেকে করোনা রোগী পালিয়ে যাচ্ছে। লকডাউনের কারণে ঢাকা ও নরায়ণগঞ্জ থেকে বহু মানুষ নিজ জেলা ও গ্রামে চলে গেছে। সেখানে তাদের মাধ্যমে নিজের পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছে। লকডাউন ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বহু মানুষ আক্রান্ত অবস্থায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ও নদীপথে বিভিন্ন জেলায় চলে গেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছে নারায়ণগঞ্জ থেকে। তারা গেছে নোয়াখালী, কুমিল্লা, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা শহরে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে আটক করে কোয়ারেন্টিনে রাখলেও সেখানে অনেকে আক্রান্ত হয়েছে। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এখন শপিংমল চালু করায় রাজধানীসহ ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলার শপিংমলগুলোতে গ্রামের নারী, পুরুষ ও শিশুরা ভিড় জমাবে। তারা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতির অবনতি হবে।