• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪১

করোনা : স্বাস্থ্যবিধি মানছে না ঘরমুখো মানুষ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাস সতর্কতায় সারাদেশের গণপরিবহন আজ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ। কিন্তু টানা ১০ দিনের ছুটি থাকায় গ্রামের বাড়িতে যেতে দেখা গেছে রাজধানীবাসীদের। তাই গতকাল সকালে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও ফেরিঘাটের ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন গ্রামের যেতে দেখা গেছেন অনেকেই।

সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল সকাল থেকে প্রতিটি বাস কাউন্টারে ছিল যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়। স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিকসহ আজ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের ছুটি শুরু হচ্ছে। এই ছুটিকে উৎসবের ছুটি হিসেবে গ্রহণ না করে বাসায় থাকায় আহ্বান জানিয়েছে সরকার। করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও কেউই বজায় রাখছেন না তা। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সারাদেশে বৃহস্পতিবার থেকে গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও তাদের ভ্রমণও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরও কেউই মানছেন না সরকারের এই আহ্বান।

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সিরাজুল ইসলাম, থাকেন উত্তরায়। করোনাভাইরাসের কারণে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মস্থল ছুটি ঘোষণা করায় ফরিদপুর গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। সরকার নির্দেশ অমান্য করে বাড়িতে কেন যাচ্ছেন? জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাসে-লঞ্চে করে বাড়ি যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু এরপরও রাজধানীতে মেস বাড়িতে থাকি। তাই এখানে একটা আতঙ্কে দিন কাটছে। অফিস বন্ধ, বাড়ি থেকেও বারবার ফোন করছে স্বজনেরা। তাই ঝুঁকি নিয়েই বাড়ির পথে রওনা হয়েছি। বেতন অগ্রিম হয়ে গেছে। ঢাকায়ও ভাইরাস সেভাবে ছড়ায়নি। কিন্তু ছুটি যেহেতু তাই পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতেই চলে যাচ্ছি। ফরিদপুরের বাস পেতে বেগ পেতে হয়েছে তাকে। যা পেয়েছেন সেখানেও আসন খালি নেই। তাই গাদাগাদি করেই যেতে হচ্ছে বাড়ি বলে জানান তিনি।

আনোয়ার হোসেন নামের মাগুরায় এক যাত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহর থেকে গ্রাম অনেকটা নিরাপদ। তাই কষ্ট করে হলেও গ্রামে যাচ্ছি।’ পারভিন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে ঢাকা শহরেই থাকি। পরিস্থিতি দিন দিন যেদিকে যাচ্ছে, সবার মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখেন, তাহলে আবার শহরে ফিরতে পারব। তাই স্বামী-সন্তান নিয়ে যশোরে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। ফেরিতে এত মানুষের ভিড়ে এভাবে আসা ঠিক না জানলেও কোন উপায় নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক মো. আরিফ বলেন, সকালে কারখানা ছুটি দিল। ফরিদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেছি। লোকাল বাসে করে পাটুরিয়া পর্যন্ত। বাসের মধ্যে অনেক ভিড় ছিল। পাটুরিয়া ঘাটে নামার পর ফেরিতেও অনেক ভিড়। সবাই এভাবে যাচ্ছে। এ ছাড়া তো যাওয়ার আর কোন উপায় নেই।’

এ বিষয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন ইনচার্জ মো. ইসমাঈল সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল সকাল ১০টার দিক থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু হয়। একটি ছোট ফেরিতে অন্তত ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ নদী পার করা হয়। লঞ্চ বন্ধ থাকায় সব মানুষ ফেরিতে করে নদী পারি দিচ্ছে। যেখানে সরকার করোনাভাইরাস ঠেকাতে বাস, ট্রেন সব বন্ধ করে দিচ্ছে, সেখানে ফেরি চালু রেখেছে কেন? আমরা কি মানুষ না? যেভাবে মানুষ গাদাগাদি করে ফেরিতে আসছে, আমরা নিরাপদ থাকলাম কীভাবে?’ যেভাবে মানুষ গ্রামের দিকে ছুটছে, আমার তো মনে হয় এসব মানুষ করোনাভাইরাস ছড়াবে।

অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ বলেন, লঞ্চ বন্ধ থাকায় ফেরিতে মানুষের চাপ বহুগুণে বেড়েছে। মানুষের ভিড় দেখে মনে হয়, ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়ি ফিরছে। কিন্তু এতে করে এসব মানুষ নিজেদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন।

গাবতরী বাস টার্মিনালে বাস-ট্রাক মালিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতা মো. সালাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস পারাপার বন্ধ ঘোষণা হলেই আমরা এখান থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেবো। আমরাও তো জানি এভাবে যাওয়া ঠিক হচ্ছে না। কিন্তু যাত্রী তো কমছে না। সবাই বাড়ি যেতে চাইছে। তবে ২৬ মার্চ ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।