• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

ওয়ারীতে লকডাউন শনিবার থেকে

পূর্ব রাজাবাজারে শেষ

সংবাদ :
  • ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ

| ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২০

রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের পরে এবার ওয়ারীর ৭টি এলাকাকে রেডজোন কার্যকরে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আগামী শনিবার সকাল ৬ টা থেকে ২১ দিনের লকডাউন কার্যকর করা হবে। এ সময় ওয়ারীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের টিপু সুলতান রোড, র?্যাঙ্কিন স্ট্রিট, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন, জাহাঙ্গীর রোড, নওয়াব রোড, হরে রোড এবং ওয়ারী রোড এলাকায় সম্পূর্ণ লকডাউন কার্যকর করা হবে। এসব এলাকায় প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ বসবাস করে। গত সোমবার পর্যন্ত ৪৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে ১ লাখে ৬০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলে রেডজোন ঘোষণা করার নির্দেশনা রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের। তাই ওয়ারীর এসব এলাকায় সম্পূর্ণ লকডাউন বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের সার্বিক নির্দেশনায় এ লকডাউন বাস্তবায়ন করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গতকাল লকডাউন কার্যকরে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান ডিএসসিসি’র মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। এদিকে রেডজোন মুক্ত হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)’র সূত্র জানায়।

বৈঠক শেষে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার আমরা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে লকডাউন কার্যকরে চিঠি পেয়েছি। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকেও এ চিঠি দেয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পরপরই আমরা আমাদের কাজ শুরু করি, প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। মঙ্গলবার সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আমাদের সব উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদফতর, এটুআই, ই-ক্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের নিয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। লকডাউন এলাকায় আমরা সীমিত যাতায়াতের জন্য দুটি রোড চালু রাখবো। আর সব সড়ক বন্ধ থাকবে। ওষুধ ও জরুরি জিনিসপত্রের দোকান ছাড়া বাকি সব বন্ধ থাকবে। দৈনন্দিন দ্রব্যের জন্য ই-ক্যাবের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং সিটি করপোরেশন থেকে ব্যবস্থা থাকবে। সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে, আগামী তিন দিনে আরও প্রস্তুতি নেয়া হবে। এ সময়ে স্থানীয়রাও তাদের মতো কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারেন। তবে চলাচলের জন্য কোন দুটি সড়ক খোলা থাকবে সেটি এখনও নির্ধারিত হয়নি। লকডাউন সময়ে ডিএসসিসির মহানগর জেনারেল হাসপাতালকে আইসোলেশন সেন্টারে পরিণত করা হবে। রাজাবাজারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ওয়ারীর লকডাউন সফল করতেও আশাবাদী বলে জানান তাপস।

জানা গেছে, গত সোমবার রাজধানীর ওয়ারীর কয়েকটি এলাকা রেডজোনে লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কেন্দ্রীয় কারিগরি গ্রুপের গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ারী এলাকায় রেডজোন হিসেবে বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। এই ওয়ার্ডের আউটার রোডের মধ্যে টিপু সুলতান রোড, জাহাঙ্গীর রোড, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে (জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন) এবং ইনার রোড হিসেবে লালমিনি রোড, হরে রোড, ওয়ার রোড, রানকিন রোড এবং নওয়াব রোড রেড জোন হিসেবে লকডাউন করার জন্য বলা হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড (লাল), অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়োলো (হলুদ) ও একেবারে কম আক্রান্ত বা আক্রান্তমুক্ত এলাকাকে গ্রিন (সবুজ) জোন হিসেবে চিহ্নিত করছে সরকার। রেড জোনকে ১৪ থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন করা হচ্ছে, সেখানে থাকছে সাধারণ ছুটি।

গত ২১ জুন মধ্যরাতে ১০ জেলার ২৭টি এলাকা ও পরদিন ২২ জুন ৫ জেলার ১২ এলাকাকে রেডজোন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সেখানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গত ২৩ জুন দেশের চার জেলার ৭টি এলাকাকে রেডজোন ঘোষণা করা হয়। করোনা আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি ঢাকায় থাকলেও সেখানে এখনও রেড জোন ঘোষণা করা হয়নি। পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারকে রেড জোন ঘোষণা করে সেখানে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে পূর্ব রাজাবাজারে ২১ দিন পূর্ণ হওয়ায় লকডাউন প্রত্যার করা হয়েছে বলে ডিএনসিসি’র সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে ডিএনসিসি’র ২৭ নাম্বার ওয়ার্ড কমিশনার ফরিদুর রহমান ইরান মুঠোফোনে সংবাদকে বলেন, গত ৯ জুন মধ্যরাত থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২১ দিনের লকডাউন কার্যকর করা হয় পূর্ব রাজাবাজারে। এই এলাকায় প্রায় ৪০-৫০ হাজার লোক বসবাস করে। এদের মধ্যে ৩১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তবে ২১ দিন লকডাউনের ফলে এলাকায় বাসিন্দা আগে এখন অনেক ভালো আছেন। তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় মঙ্গলবার রাত ১০ টা পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে।