• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ জিলহজ ১৪৪০

অ্যাডিস মশা মারার

ওষুধ ছিটানো কার্যক্রম জোরালো হয়নি

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , রোববার, ১১ আগস্ট ২০১৯

  • ঢাকার বাইরে ওষুধ ছিটানোর লক্ষণ নেই
  • গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২,১৭৬ জন

ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন এখনো ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অ্যাডিস মশা মারার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম জোরালো করতে পারেনি। গত শুক্রবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশ একটি এলাকায় কার্যক্রম শুরু করলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন একযোগে সব এলাকায় অ্যাডিস মশা নির্মূলে ওষুধ ছিটানো শুরু করেনি। ঢাকার বাইরে জেলা উপজেলা বা পৌরসভায় ওষুধ প্রয়োজনের কোন লক্ষণ তো দেখাই যাচ্ছে না। এর ফলে ডেঙ্গু আরও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রূপ নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা কমলেও শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আবার বেড়ে গেছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২ মাস ধরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোন জোরালো ভূমিকা নেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। শুধু এক দফতর আরেক দফতরকে দোষারোপ করেই যাচ্ছে। ভেজাল ওষুধ ছিটানো, মশা মারার টাকায় বিদেশ ভ্রমণ, অ্যাডিস মশার উপদ্রব বেড়ে গিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে মশক নিবারণ দফতরের পরিচালকের বিদেশ অবস্থান, মশা মারার টাকা লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা তদন্তও করা হয়নি।

এদিকে ঈদ ছুটিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগী ঢাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে না পেরে নিজ এলাকায় চলে গেছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেয়া অনেক রোগী ফের আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। বিভিন্ন বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের হাসাপাতলগুলোতে যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রয়েছে অনেক রোগী। সেখানে অ্যাডিস মশা নির্মূলে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় আতঙ্ক আরও বেশি তৈরি হয়েছে।

গতকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মশার স্প্রে বিতরণকালে এক অনুষ্ঠানে মেয়র সাঈদ খোকন জানিয়েছেন, নগরের বাসিন্দারা অনুমতি দিলে তাদের বাসায় গিয়ে অ্যাডিস মশা ধ্বংস করতে স্প্রে করা হবে। অ্যাডিস মশার প্রাদুর্ভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনসহ ১২৬টি দেশে রয়েছে। অ্যাডিসের বিরুদ্ধে আমরা মার্চ মাস থেকে কাজ শুরু করেছি, যা এখনও চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) পরামর্শ অনুযায়ী অ্যাডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছি, সে অনুযায়ী কাজ চলছে। অ্যাডিস মশা বাইরে থেকে আসে না; এটা বাসার ভেতরে, ফুলের টবে, খাটের ভেতরে বাসা বাধে, জমে থাকা পানিতে ডিম দেয়। এজন্য আমরা চেষ্টা করছি বাসাগুলোতে কাজ করার। আমরা এক লাখ ৬৩ হাজার করদাতাকে বিনামূল্যে অ্যারোসল স্প্রে বিতরণ করবো। তাছাড়া আপনারা (বাড়ির মালিক) যদি অনুমতি দেন, তাহলে বাসায় গিয়ে স্প্রে করে আসব। দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। সবার প্রচেষ্টায় আমরা এ শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে চাই।’ আমরা নিজ উদ্যোগে ২৫ হাজার ৯৯৬টি বাসা চিহ্নিত করেছি, যার মধ্যে ৮২৩টিতে অ্যাডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় যেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও স্কাউটের সমন্বয়ে এক লাখ ১০ হাজার ৭৬৫টি বাসা চিহ্নিত করা হয়েছে, এর মধ্যে ৬২ হাজার ২৩৭টিতে লার্ভা পাওয়া গেছে, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ১৭৬ জন। সবমিলিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৪২০ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসেবে ৩৮ হাজার ৮৪৪ জন। যার মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়েছে ২৯ হাজার ৩৯৫ জন। গতকাল বরিশালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা অ্যােডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৫৩ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ৮৪৮ জন; মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ৪১৮ জন; ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৪ জন, আগে থেকে ভর্তি আছে ১৬৭ জন; শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ৪৫০জন; বিএসএমএমইউতে ভর্তি হয়েছেন ৩০ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ১৮৯ জন, পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ১২৭ জন; মুগদা অ্যােডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১৩ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ৫৫৩ জন, বিজিবি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ২৬ জন; সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ২২১ জন এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭২ জন আর আগে থেকে ভর্তি আছেন ৩৭৯ জন। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ২৭৭ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ৯১২ জন; চট্টগ্রাম বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ২২৬ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ৭৬৭ জন; খুলনা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১২৬ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ৬৬৫ জন; রংপুর বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৭১ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ৩০৩ জন; রাজশাহী বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১১৪ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ৫০৬ জন; বরিশাল বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১৭৮ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ৬০০ জন; সিলেট বিভাগে ভর্তি হয়েছন ৩২ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ১০৭ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৮৭ জন, আগে থেকে ভর্তি আছেন ৩০২ জন। ঢাকার ৩০টি বেসরকারি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩৮২ জন আর এসব হাসপাতালে আগে থেকে ভর্তি আছেন ১ হাজার ৮৮৯ জন।

আগস্টের ১০ দিনে ২০ হাজারের বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত :

এদিকে অ্যাডিস মশা নির্মূলে এখন পর্যন্ত দেশব্যাপী কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। রাধানীধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আগস্ট মাসের প্রথম ১ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০ ছাড়িয়ে গেছে। যা জুলাই মাসের ৩০ দিনে আক্রান্তের সংখ্যার চেয়েও বেশি। পুরো জুলাইয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত্রের সংখ্যা সরকারি হিসাবে ১৬ হাজার ২৫৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের হিসেব মতে গত ২৪ ঘণ্টায় (৯ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ১০ আগস্ট সকাল ৮টা) পর্যন্ত দেশের ৪০টি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১৭৬ জন এবং আগে থেকে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৪২০ জন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ২৯ হাজার ৩৯৫ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার। যদিও বেসরকারি হিসাবমতে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক হবে। কারণ অনেকেই হাসপাতালে ছিট না পেয়ে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের বাইরে নিজ বাসায় যারা ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সহয়তায় চিকিৎসা নিয়েছেন বা নিচ্ছেন তাদের হিসেব স্বাস্থ্য অধিদফতরের নেই।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে ডেথ রিভিউ কমিটি নিয়েও প্রশ্ন :

ডেঙ্গুতে কতজন মারা গেছে তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে একটি ডেট রিভিউ কমিটি করা হয়। ওই কমিটির পক্ষ থেকে মূলত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে ডেথ সার্টিফিকেট দেয়া হয়। এ নিয়ে তৈরি হচ্ছে মহাঝামেলা। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের ডে ডেট সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে তা পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছে না। এ নিয়ে চিকিৎকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পুলিশ সুপার পঙ্কজ ভট্টচার্য ডেঙ্গুকে আক্রান্ত হয়ে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই তিনি অফিস শুরু করে। অফিসে কর্মরত অবস্থায় তার হার্ট অ্যাট্যাক হয়।