• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৪ জিলহজ ১৪৪১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

নুসরাত হত্যা

এসপি জাহাঙ্গীরকে প্রত্যাহার

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

image

সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে জেলা পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে ফেনী থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল তাকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, সোনাগাজী থানার মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত শ্লীলতাহানি ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার পর পুলিশের দায়িত্ব পালন কতটা সঠিক ছিলÑতা নিয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসপি জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে ফেনী জেলা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ব্যাখা চেয়ে ইতোমধ্যে এসপিকে পুলিশ সদর দফতর থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এসপির ব্যাখা যদি সন্তোষজনক না হয় সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হতে পারে। এর আগে একই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সোনাগাজী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় এবং এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল আহাম্মদকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের এএসপি থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠলে প্রথমে তাকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। প্রত্যাহারের পর তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখা চাওয়া হয়। ব্যাখা সন্তোষজনক হলে তিনি অভিযোগ থেকে রেহাই পান। আর যদি ব্যাখা সন্তোষজনক না হয় সেক্ষেত্রে বিভাগীয় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলার পরে শাস্তির বিষয়ে যদি চাকরিচ্যুত করার প্রয়োজন হয় তখন তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশ ক্রমে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। আর কনস্টেবল থেকে এএসআই পর্যন্ত কেউ যদি পরে তিনি এএসপি বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও হয়ে যান তখন যে জেলা এসপির আওতায় অভিযুক্তের চাকরি হয়েছে ওই এসপির মাধ্যমে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। আর এসআইদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেঞ্চ জিআইজিদের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে বিভাগীয় শাস্তি কখনো লঘু দন্ডও করা হয়। এক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানা, পদোন্নতি না হওয়ার মতো শাস্তিও দেয়া হয়।

গত ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহানকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের অনুসারী ছাত্রছাত্রীরা। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে এর আগে করা শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় তারা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন। এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া এবং মামলা ভিন্ন খাতে নেয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকি জেলা পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম অভিযুক্ত ওসিকে রক্ষায় ঘটনা সম্পর্কে ভুল তথ্য পাঠান পুলিশ সদর দফতরে, বিষয়গুলো নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়। এর মধ্যে নুসরাতের পরিবারের দাবির মুখে প্রথমে সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে বদলি করা হয়।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ও এসআই ইকবাল হোসেন নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচারের কাজে একে-অন্যকে সহযোগিতা করে। পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকার সকাল ১০টায় নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার খবর পেয়েও ঘটনাস্থলে যাননি। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে রওনা দেন। পরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশে মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন।

এছাড়া নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার আগে তাকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শ্লীলতাহানি করে। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে ওসি মোয়াজ্জেম নুরতাসকে নাজেহাল করেন। মামলা না নেয়ারও চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু চাপের মুখে মামলা নিয়ে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার দেখাতে বাধ্য হন। পরে নুসরাতের পরিবার হুমকির মুখে পড়লে তাকে নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো নুসরাতের বিপক্ষে নানারকম কুৎসা রটানো শুরু করেন। অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনকারীদের সার্বিক সহযোগিতা করেন।