• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

এপ্রিলে পোশাক রপ্তানিতে অস্বাভাবিক ধস

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২০

করোনাভাইরাসের প্রভাবে এপ্রিল মাসে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ধস নেমেছে। সদ্য সমাপ্ত এপ্রিলে সারা বিশ্বেই সংক্রমণ শুরু হলে সব দেশ আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ লকডাউনে চলে যায়। এ পরিস্থিতিতে পর্যায়ক্রমে ক্রয়াদেশ বাতিল হতে থাকে। এতে অস্বাভাবিক পতন ঘটে রপ্তানিতে।

খোদ পাশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র তথ্য বলছে, চলতি বছরের এপ্রিলেই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি প্রায় ৮৫ শতাংশ কমেছে। বিজিএমইএ’র অন্য হিসাব মতে, এ পর্যন্ত মোট ৩১৮ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। এতে ১১শ’ ৫০টি পোশাক কারখানা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ২২ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিজিএমইএ জানায়, এপ্রিলে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। গত বছরের এপ্রিলে রপ্তানি হয়েছিল ২৪২ কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ডলারের। এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ের তুলনায় ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারের রপ্তানি কমেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ পর্ষদের পক্ষে বলা হয়, এপ্রিলের পুরো মাস কারখানাগুলো কাজ করেনি। আবার ক্রেতারাও ক্রয়াদেশ বাতিল করেছেন। যার প্রতিফলন ঘটেছে রপ্তানি চিত্রে। ভবিষ্যৎ রপ্তানি পরিস্থিতিও অনিশ্চিত।

বিকেএমইএ’র জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সংবাদকে বলেন, এপ্রিলে রপ্তানি কমারই কথা, কারণ কারখানা বন্ধ ছিল। এখন কারখানা পুনরায় চালু হয়েছে। পুরনো ক্রয়াদেশের কাজ হচ্ছে। নতুন কোন ক্রয়াদেশ নেই। চাহিদা ঘাটতিতে রপ্তানির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তবে কিছু ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আদেশ দিবে। তবে আপাতত কোন সুসংবাদ নেই। চলতি মাসে হয়তো রপ্তানি আরও কমে যাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার প্রভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাত প্রথমে কাঁচামালের সরবরাহ সংকটে পড়ে। চীনে নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের কারণে দেশটি থেকে কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হয়। দেশে তৈরি পোশাক খাতের ওভেন পণ্যের আনুমানিক ৬০ শতাংশ কাপড় আমদানি হয় চীন থেকে। আর নিট পণ্যের কাঁচামাল আমদানি হয় ১৫-২০ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে ধীরগতিতে হলেও কাঁচামাল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু পরে রপ্তানি গন্তব্যগুলোয় এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় চাহিদার সংকট তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করতে থাকে একের পর এক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান।

ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করা ক্রেতাদের মধ্যে প্রাইমার্কের মতো বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও আছে। আয়ারল্যান্ডভিত্তিক প্রাইমার্কের পাশাপাশি ছোট-মাঝারি-বড় সব ধরনের ক্রেতাই ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। আবার এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স, মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার, কিয়াবি, টার্গেট, পিভিএইচসহ আরও কিছু ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ বহাল রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। ফলে ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিতের পরিমাণ যা বলা হচ্ছে, তার চেয়ে কমে আসতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) শুরু থেকেই রপ্তানি নিয়ে কিছুটা খারাপ সময় পার করছিল তৈরি পোশাক খাত। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) পোশাক রপ্তানি বেড়েছিল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এর পরের মাসেই বড় ধরনের পতন হয় পোশাক রপ্তানির। সে সময় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছিল ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। রপ্তানিতে এ নেতিবাচক ধারা বজায় থাকে নভেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি হ্রাস পেয়েছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ১৯ দশমিক ৭৯ ও ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে তা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আমেরিকা ও ইউরোপ মহাদেশে বাংলাদেশের বৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য প্রায় প্রতিটি দেশেই কোভিড-১৯ এর কারণে বিপর্যস্ত। আংশিক বা পূর্ণ লকডাউনে রয়েছে প্রায় সব দেশ। বাংলাদেশেও অঘোষিত লকডাউন চলছে গত ২৬ মার্চ থেকে। একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হওয়ার কারণে দেশের রপ্তানি কার্যক্রম বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবেই কমছে। গত মার্চেও বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে প্রায় ২৭ শতাংশ।