• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

একাদশে ভর্তির আবেদন ২৩ মে পর্যন্ত

ভর্তি কার্যক্রমেও সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করতে চান

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমপর্যায়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে ২৩ মে পর্যন্ত।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী গতকাল দুপুরে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে এই ভর্তি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বুয়েটের দু’জন শিক্ষক। এবারও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহায়তায় ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে বিগত সময়ের ন্যায় এবারও এসএসসি ও সমপর্যায়ের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা অনলাইনে কমপক্ষে ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পারবে। (www.xiclassadmission.gov.bd) এই ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি টেলিটকে এসএমএস’র মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করে ১ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হবে। অনলাইনে আবেদনের আগে শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র টেলিটক/রকেট/শিওরক্যাশ ব্যবহার করে অন-লাইনের আবেদন ফি এসএমএস’র মাধ্যমে দিতে হবে। প্রার্থীকে তার এসএসসি/সমমানের পরীক্ষার রোল নম্বর, বোর্ড, পাসের সাল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে টেলিটক/রকেট/শিওরক্যাশ এর মাধ্যমে ১৫০ টাকা ফি জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে টেলিটক সিম থেকে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে CAD স্পেস WEB স্পেস পরীক্ষা পাসের Board এর নামের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস পরীক্ষার রোল স্পেস পরীক্ষা পাসের বর্ষ লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

ফিরতি এসএমএসে আবেদনকারীর নাম এবং আবেদন ফি বাবদ ১৫০ কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন কোড দেয়া হবে। ফি দিতে সম্মত থাকলে ম্যাসেজ অপশনে CAD(space)YES(space)PIN(space)CONTACT NUMBER (বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধিত মোবাইল নম্বর) লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। ফি সঠিকভাবে জমা হলে প্রার্থীর মোবাইলে নিশ্চিতকরণের একটি Transaction ID mn SMS যাবে। টেলিটক/রকেট/শিওরক্যাশ মাধ্যমে নির্ধারিত আবেদন ফি ১৫০ টাকা জমা দেয়ার পর আবেদনকারীকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) Apply Online এ ক্লিক করতে হবে। এরপর প্রদর্শিত তথ্য ছকে এসএসসি/সমমান পরীক্ষা পাসের রোল নম্বর, বোর্ড ও পাসের সন এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সঠিকভাবে এন্ট্রি করতে হবে।

প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে আবেদনকারী একটি ফরম পাবে, সেটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। একইভাবে সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবে একজন প্রার্থী। অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫টি কলেজে আবেদন করলেও ১৫০ টাকা আবার ১০টি কলেজে আবেদন করলেও ১৫০ টাকা চার্জ করবে। এসএমএস’র মাধ্যমে আবেদন শুধুমাত্র টেলিটক প্রি-পেইড সংযোগ থেকে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করা যাবে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ভর্তি কার্যক্রমের উদ্বোধন করে বলেছেন, ‘নির্ধারিত ভর্তি ফি ছাড়া অতিরিক্ত ফি নেয়া যাবে না। বিগত সময়ে যারা অতিরিক্ত ভর্তি ফি দিয়েছিল, তাদের ফেরত দেয়া হয়েছে। এবারও কঠোর নজরদারি করা হবে। অনলাইনে ভর্তির ক্ষেত্রে যারা প্রতারণার আশ্রয় নেবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়া :

সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে উপমন্ত্রী বলেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমেও সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করতে চান। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অর্থের অপচয় ও বিড়ম্বনা থেকে মুক্তির জন্য সমন্বিতভাবে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি শুরু করতে চান তারা। তিনি বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিকে সমন্বিতভাবে ভর্তি হতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন পারা যাবে না?’।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে উপমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ইউজিসির (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছি। তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেখানে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমরা এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করব। কিভাবে এটি বাস্তবায়ন করা যায় তা আলাপ-আলোচনা করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি চালু করা হবে।’

তবে এবছর থেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে কি না- সে বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘জোর করে কোন আইন বা নিয়ম কারও ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়া চালুকরণ সবার দাবি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে। এটি আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। তাই কোন বাধাই আমলে নেয়া হবে না।’

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিজেদের ভোগান্তি লাঘবে মেডিক্যাল কলেজগুলোর মতো সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যায়েও সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়ে আসলে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে চলতি বছরে আটটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই আট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই প্রশ্নে একই দিনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।