• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

দেশে করোনা পরিস্থিতি

একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৬৪ নতুন শনাক্ত ৩৬৮২

নমুনা পরীক্ষা ১৮,৪২৬

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২০

image

দেশে করোনায় আরও ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে করোনা শনাক্তের পর ২৪ ঘণ্টায় এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮৪৭ জনে। এছাড়া করোনা আক্রান্তদের মধ্যে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩৬৮২ জন। দেশে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৩ জন। সুস্থ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৪৪ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হলেন ৫৯ হাজার ৬২৪ জন। গতকাল কোভিড-১৯ সম্পর্কিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. নাসিমা সুলতানা।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৮৬৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৮ হাজার ৪২৬টি নমুনা। এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৪০৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তার মধ্যে ৫২ জন পুরুষ এবং ১২ জন নারী। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায় যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৭ জন রয়েছেন। তাদের ৩১ জন ঢাকা বিভাগের, ১২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৭ জন রাজশাহী বিভাগের, ৭ জন খুলনা বিভাগের, ২ জন সিলেট বিভাগের, ৩ জন বরিশাল বিভাগের এবং ২ জন ময়মনসিংহ বিভাগের। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ৫১ জন এবং বাসায় ১৩ জন মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ৪৪৯ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ২৬ হাজার ৫৮৭ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৫৪৪ এবং এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৪০ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৫ হাজার ১৪৫ জন। হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে ২ হাজার ৫৪২ জনকে, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৮৬৬ জনকে। কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২ হাজার ৮৩৪ জন, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে মোট ছাড়া পেয়েছেন ২ লাখ ৯৯ হাজার ১৯৯ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৬৪ হাজার ৬৬৭ জন।

ডা. নাসিমা বরাবরের মতো করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ তুলে ধরেন। বিশেষ করে করোনার এই দুঃসময়ে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের করণীয় তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান যেমন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা চালু আছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে ৪টি গর্ভকালীন সেবা নেয়া যাচ্ছে। প্রসবকালীন যেকোন জটিলতা এড়াতে নিকটস্থ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে নিরাপদ প্রসব সেবা নিতে পারবেন। দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এএনসি বা প্রসবপূর্ব এবং পিএনসি বা প্রসবোত্তর সেবা কর্নার আছে। যেখানে মিডওয়াইফসহ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীরা রয়েছেন। সেখানে সব স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর সেবা দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি এএনসি-পিএনসি কার্ডে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মোবাইল নম্বর দেয়া হচ্ছে। যেকোন প্রয়োজনে যোগাযোগ এবং মোবাইল সেবা গ্রহণ করারও পরামর্শ দেন।

নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, গর্ভকালীন পাঁচটি বিপদচিহ্ন যেমন- চোখে ঝাপসা দেখা বা তীব্র মাথাব্যথা হওয়া, খিচুনি হওয়া, প্রসবের পূর্বে হঠাৎ রক্তপাত হওয়া, ভীষণ জ্বর হওয়া এবং প্রসব বিলম্বিত হওয়া এগুলোর যেকোন একটি উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অন্তঃসত্ত্বা মায়ের প্রতি পরিবারের সদস্যদের বিশেষ যত্ন নেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য যেমন- টাটকা ফল, শাক-সবজি, আমিষ সমৃদ্ধ খাবার, বিভিন্ন প্রকার ডাল, মাছ-মাংস-ডিম-দুধ খেতে দেবেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে গর্ভকালীন বেশি পরিমাণে খাবার দিতে হবে। গর্ভস্থ শিশুর বয়স যত বাড়বে, সঙ্গে সঙ্গে খাবারও বাড়াতে হবে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রথম ৩ মাসে ১০০ থেকে ২০০ ক্যালোরি খাবার বেশি দরকার, দ্বিতীয় ৩ মাসের সময় ২০০ থেকে ৪০০ ক্যালরি এবং তৃতীয় ৩ মাসের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০০ ক্যালরির বেশি খাবার অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের প্রয়োজন। মাছ, মাংস, ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে। কাঁচা দুধ খাওয়া যাবে না। খাওয়ার আগে ফলমূল এবং রান্নার আগে সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

করোনার সময়ে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের করণীয় সম্পর্কে নাসিমা সুলতানা বলেন, অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হবেন না। একান্ত প্রয়োজন হলে লোকসমাগম বেশি আছে এমন জায়গায় যেমন- বাজার, হাট এসব জায়গায় এড়িয়ে চলবেন। তবে ঘরে থাকলেও নিয়মিতভাবে হাঁটাহাঁটি করবেন এবং হালকা ব্যায়াম করবেন। বাড়ি থেকে বের হলে এবং বাইরে থেকে ঘরে ফিরলে অন্তঃসত্ত্বাসহ বাড়ির সবাইকে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। পরিবারের কেউ সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হলে অন্তঃসত্ত্বা মা তার সংস্পর্শে আসবেন না।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা ৫ লাখ ৮ হাজারের বেশি। তবে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন পৌনে ৫৭ লাখের মতো মানুষ। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।