• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫, ১২ জমাউল আওয়াল ১৪৪০

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি

সংবাদ :
  • ইকবাল মজুমদার তৌহিদ

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

  • কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক নয়
  • অংশ নেয়ার পক্ষে তৃণমূলের অনেক নেতা

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে দলটি। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক না। কিন্তু বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলটির একাধিক নেতাকর্মী বলেন, ৩০ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপির কর্মী সমর্থকদের কোন আস্থা নেই। সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান সংবাদকে জানান, আমি দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের কোন ভোটকেন্দ্রে আমার নির্বাচনী এজেন্ড দিতে পারিনি। তিনি বলেন, যে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এজেন্ট দেয়া যায় না, আমরা সেই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই না। তবে দলের হাইকমান্ড নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

বরগুনার বেতাগী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান কবির সংবাদকে বলেন, ‘আমি মনে করি এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। এ কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস হয় না যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এখন আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া দলের হাইকমান্ডের ওপর নির্ভর করে। দলের আরেকটি অংশ উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে। তারা বলছেন, গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপিকে নির্বাচনে যাওয়া উচিত। তাহলে নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র দেশবাসী ও বহির্বিশ্ব জানবে। নির্বাচনে গেলে সংসদ নির্বাচনে ‘ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি’র যে অভিযোগ, তা আরও মজবুত হবে বলেও মনে করেন তারা।

বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের এমন মনোভাবের প্রেক্ষিতে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে স্পষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তফসিলের পর দলের নীতিনির্ধারকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তারা।

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সংবাদকে বলেন, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা দলের নীতিনির্ধারকরা বসে সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে কোন ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি না। তিনি বলেন, এ কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার মানে হলো অর্থহানি, সম্পদহানি, জীবনহানি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ সরকারের আজ্ঞাবহ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপির এসব ক্ষোভের মাঝে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে কোন সংশয় আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, হ্যাঁ, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান দুদু সংবাদকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, আমরা তো দুটি আলাদা জোটে রয়েছি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট। সেখানেও উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। তবে এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাকে কোনভাবেই নির্বাচন বলা যায় না। এ নির্বাচনকে জাতি একটি কলঙ্কিত ইতিহাস মনে করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যারা পরিচালনা করেছেন তাদের অধীনে কোন ভালো নির্বাচন আশা করা যায় না। তারপরও আমরা নির্বাচনমুখী দল, তবে এমন কোন নির্বাচন আমরা গ্রহণ করব না যে নির্বাচন সরকার নিয়ন্ত্রিত সম্পূর্ণ সাজানো গোছানো। শীঘ্রই আলোচনার মাধ্যমে বিএনপির উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে ক্ষমতাসীন দলের ভোট ডাকাতির চরিত্র জনগণের কাছে প্রকাশিত হতো না। আমার ব্যক্তিগত মতামত- গণতান্ত্রিক দল হিসেবে উপজেলা নির্বাচনে যাওয়া উচিত। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও সিইসির চেহারা আবারও দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করা যাবে। তবে নির্বাচনে যাওয়া না-যাওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাদের মতামত নিয়েই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান তিনি।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো বিএনপির সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা সংবাদকে জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈঠকের পুরো সময়ই স্কাইপিতে তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে উপস্থিত নেতারা মতামত দেন। বৈঠকে দলের কোন সিনিয়র নেতা উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানা যায়।

বৈঠকের একপর্যায়ে তারেক রহমান উপজেলা নির্বাচন নিয়ে উপস্থিত নেতাদের মতামত জানতে চান। সেখানে উপস্থিত সবাই নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন। নেতারা বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে আমরা ভোট ডাকাতির নির্বাচন বলছি। এখন সেই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিলে ইসির ওপর আমাদের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিলে নেতাকর্মীরা নতুন করে হামলা-মামলার মুখে পরতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা। বৈঠক শেষে এক নেতা বলেন, তিন ঘণ্টা ধরে উপস্থিত সব নেতার মতামত শোনেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের মতামত শোনার পরে তিনি এ মতামত সিনিয়র নেতাদের জানানোর কথা বলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের করণীয় নিয়ে পর্যায়ক্রমে ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিবসহ অন্য নেতাদেরও মতামত নেয়ার কথা জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপে ৯৭ উপজেলায় নির্বাচন হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ১১৭ উপজেলায় ভোট হয়। ওই বছর সব মিলিয়ে ৭ ধাপে ভোট হয়। তবে গতবার নির্দলীয়ভাবে উপজেলা নির্বাচনে ভোট হলেও এবার হবে দলীয় প্রতীকে। আগামী মার্চে দুই থেকে তিন ধাপে ভোট গ্রহণের বার্তা দিয়েছে ইসি। সেই আলোকে এ মাসের শেষ বা আগামী মাসের শুরুতে তফসিল হতে পারে।