• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

ঢাকাকে বাঁচাতে

উন্মুক্ত সবুজ এলাকা ও জলাশয় বাড়ানোর তাগিদ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৫ জানুয়ারী ২০২০

গত বছর ঢাকার ৮২ ভাগ এলাকা কংক্রিটে ঢেকে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। আর পুরান ঢাকার অনেক এলাকাই ১০০ ভাগ কংক্রিটে ঢেকে গেছে বলেও জানানো হয়েছে। গতকাল বাংলামোটরে বিআইপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে ‘ঢাকা শহরের সবুজ এলাকা, জলাশয়, খোলা উদ্যান ও কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার বিদ্যমান অবস্থা ও বিগত ২০ বছরে পরিবর্তন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইপি সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান। এ সময় বিআইপির সাবেক সভাপতি একেএম আবুল কালাম, সাবেক সহ-সভাপতি মো. ফজলে রেজা সুমন উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঢাকায় ১৯৯৯ সালে জলজ ভূমি ছিল ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২০০৯ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছিল ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর ২০১৯ সালে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশে। সবুজ এলাকা ১৯৯৯ সালে ছিল ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ২০০৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে তা আবার কমে হয়েছে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ১৯৯৯ সালে ছিল ৬৪ দশমিক ৯৯ ভাগ, ২০০৯ সালে বেড়ে হয় ৭৭ দশমিক ১৮ ভাগ, আর ২০১৯ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশে। রাজধানীতে ১৯৯৯ সালে খোলা জায়গা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ভাগ, ২০০৯ সালে ছিল ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ; ২০১৯ সালে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৬১ শতাংশে।

গবেষণার তথ্যানুযায়ী, বারিধারা, বনানী, গুলশান, মহাখালী ও বাড্ডা এলাকায় কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার শতকরা হার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ, সেই তুলনায় সবুজ মাত্র ০ দশমিক ৮৪ ভাগ। মিরপুরের বড়বাগ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও ইব্রাহিমপুর এলাকায় কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ৯৯ দশমিক ১৪ ভাগ। খিলগাঁও, গোড়ান,

মেরাদিয়া, বাসাবো ও রাজারবাগ এলাকায় কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ৯৭ দশমিক ৬০ ভাগ, সেই তুলনায় সবুজ মাত্র ০ দশমিক ৯০ ভাগ। সিদ্দিকবাজার ও শাঁখারিবাজার এলাকায় কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার শতকরা হার ৯৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। সেই তুলনায় এসব এলাকায় কোন সবুজ নেই, জলজ এলাকার পরিমাণও অতি নগণ্য।

আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, নগরে উন্মুক্ত স্থানগুলো আমরা নগরায়ণের নামে ভরাট করে ফেলছি। নগরে ৩০ ভাগ জলাশয় ও সবুজ এলাকা বাড়ানোর কথা থাকলেও সে জায়গায় আমরা গুরুত্ব দেইনি। সিটির ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের কতটুকু পারমিট হবে শহরের ইন্টিগ্রেটেড সিচুয়েশনের সঙ্গে তার সম্পর্ক- এসব নিয়ে চিন্তা করার মতো নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আমাদের অবশ্যই পৌঁছাতে হবে।

তিনি বলেন, জমি পাওয়া না গেলে ওয়ার্ডগুলোতে ছোট ছোট স্পেস তৈরি করা যেতে পারে। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে এর কোন বিকল্প নেই। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নগরীর অবকাঠামোর সঙ্গে সবুজ ও জলাশয় এলাকার মধ্যে একটা ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নাগরিক সুযোগ সুবিধাগুলো যদি আমরা পৌরসভা পর্যায় পর্যন্ত নিশ্চিৎ করতে পারি, তাহলে ঢাকার ওপর চাপ কমে আসবে। তবে তার জন্য আমাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে রাজউকের ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান ও ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের মধ্যে পাঁচটি বৃহৎ জলাধার তৈরির পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ করেন তিনি।