• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭, ৫ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

সর্বোচ্চ বাজেট ডিএসসিসির

উন্নত ঢাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০

image

চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরের জন্য ৬ হাজার ১১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রতিষ্ঠার পর এটিই ডিএসসিসির সর্বোচ্চ বাজেট। এছাড়া মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের প্রথম বাজেট এটি। গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৩ হাজার ৬৩১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল। পরে সংশোধিত বাজেট দাঁড়ায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। গত বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার অনেক বেশি।

গতকাল নগর ভবনে তাপস এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ ইমদাদুল হকসহ ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফজলে নূর তাপস বলেন, মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা ঢাকাকে সচল সুন্দর ঢাকা হিসেবে, সর্বোপরি উন্নত ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যে সকল সংস্থা ঢাকায় কাজ করে, তাদের অনুরোধ করব, ঢাকাকেন্দ্রিক যেকোন কার্যক্রম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে। আমরা সেটা নীবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব। যে কোন প্রকল্প হাতে নিলে আগে ডিএসসিসির সঙ্গে সমন্বয় করে নেবেন। যত্রতত্র অন্য কোন সংস্থাকে ঢাকা নিয়ে ছেলেখেলা করার সুযোগ দেয়া হবে না।

তাপস বলেন, বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার সমন্বয়হীনতায় শিল্পায়নের নামে অপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই নগরকে আমরা দিনে দিনে এক নগ্ন স্বত্ত্বায় পরিণত করে চলেছি। কিন্তু বেঁচে থাকতে হলে মানুষের যেমন শিরা-উপশিরায় রক্ত প্রবাহ ও অক্সিজেন সঞ্চালন অত্যাবশ্যকীয়, তেমনি একটি শহরের বেঁচে থাকা নির্ভর করে তার নর্দমা ব্যবস্থাপনা, শহরের বুক চিরে বয়ে চলা খাল, নদ-নদীর প্রবাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং দূষণ-দখল প্রতিরোধের ওপর। শিল্পায়ন ও নাগরিক সুবিধার নামে আমরা এই শহরের নদ-নদীগুলো দখল, দূষণ ও ভরাট করে চলেছি। জলাধারগুলো নিশ্চল-নিথর করতে সম্পন্ন করেছি সকল আয়োজন। যত্রতত্র ফেলছি ময়লা-আবর্জনা, গতি রোধ করছি নর্দমাগুলোর। এভাবে চলতে দেয়া সমীচীন নয়।

২০২০-২১ অর্থবছরের এই বাজেট উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটের বেশির ভাগ আয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে সরকারি ও বৈদেশিক উৎস থেকে। নতুন অর্থবছরে অন্তত ১৭টি উন্নয়নমূলক খাতে নতুন করে টাকা খরচ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯ কোটি ২ লাখ টাকা, অন্যান্য আয় ৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক উৎস থেকে আয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রারম্ভিক স্থিতি ধরা হয়েছে ১৮৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০২০-২১ সালের বাজেটে পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি, মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫০৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ১৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

বাজেটে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত মশকনিধন কার্যক্রমে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩০০ কোটি টাকা, কামরাঙ্গীরচরে নতুন শহর আধুনিকায়ন করার কাজে ২০০ কোটি, খাল-জলাশয়, পার্ক-উদ্যান উন্নয়ন করে সুন্দর ও নান্দনিক ঢাকা বিনির্মাণে ৩০০ কোটি টাকা, বুড়িগঙ্গার তীরে জমি অধিগ্রহণ করে রাস্তা ও নান্দনিক পার্ক নির্মাণে ২৫০ কোটি, বিনোদন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্রীয় শিশু পার্কের আধুনিকায়নের কাজে ৩০০ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যাধুনিক যান ও যন্ত্রপাতি কিনতে ২৯০ কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।